ডায়াবেটিসে ভুগছেন? জেনে নিন আপনার খাদ্যতালিকায় কী ধরনের খাবার রাখবেন

ডায়াবেটিস যদি একবার ধরা পড়ে, তাহলে নানান বাধা-নিষেধে জীবন একেবারে অতিষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু এত নিয়ম মানার পরেও সামান্য পান থেকে চুন খসলেই বিপদে পড়তে হয়। রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায়, শরীরে কী ধরণের সমস্যা হয় তা সম্পর্কে আমরা কম-বেশি সকলেই অবগত। তবে ডাক্তারের পরামর্শমতো ওষুধ, শরীরচর্চা এবং খাওয়া-দাওয়া ঠিক মতো করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে ঠিকই, কিন্তু কোনওভাবেই তা পুরোপুরি নিরাময় হয় না।

Foods to Control Diabetes

তাজা শাকসবজি, স্বাস্থ্যকর প্রোটিন এবং গুড ফ্যাট যুক্ত ডায়েট ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারি। তাহলে জেনে নিন ডায়াবেটিস রোগীরা কোন কোন খাবার খেতে পারবেন -

১) হোল গ্রেইন

১) হোল গ্রেইন

হোল গ্রেইন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং পুষ্টি থাকে। ফাইবার হজম প্রক্রিয়া ধীরে করে দেয়, তাই পুষ্টিগুণগুলি ধীরে ধীরে শরীরে শোষিত হয় এবং রক্তে হঠাৎ করে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি হয় না। ব্রাউন রাইস, বাজরা, ওটস, মিলেট, কুইনোয়া এবং বার্লি, এই সব ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী।

২) সবুজ শাকসবজি

২) সবুজ শাকসবজি

সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি থাকে এবং ক্যলোরিও কম। এগুলি ডায়েটরি ফাইবার, ফাইটোকেমিক্যাল, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ হয়। কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও কম থাকে, ফলে সবুজ শাকসবজি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না।

ডায়াবেটিস রোগীদের খাবারের শুরুতেই কাঁচা শাকসবজি, যেমন - স্যালাড খাওয়া উচিত, কারণ রান্না করলে শাকসবজির নির্দিষ্ট ফাইটোকেমিক্যাল নষ্ট হয়ে যায়।

৩) বাদাম

৩) বাদাম

গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাদাম টাইপ টু ডায়াবেটিসের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে।

৪) গ্রিক ইয়োগার্ট

৪) গ্রিক ইয়োগার্ট

গ্রিক ইয়োগার্ট প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ এবং এতে কম কার্বোহাইড্রেট থাকে। লো ফ্যাট গ্রিক ইয়োগার্ট রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী।

৫) রসুন

৫) রসুন

রসুনে ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন বি৬ কার্বোহাইড্রেট বিপাকে সাহায্য করে, আর ভিটামিন সি রক্তে শর্করার মাত্রা মেনটেন করতে সহায়তা করে।

৬) অ্যাপেল সিডার ভিনেগার

৬) অ্যাপেল সিডার ভিনেগার

অ্যাপেল সিডার ভিনেগারে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি ও অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে। এটি রক্তে গ্লুকোজের স্তরকে কমাতে সাহায্য করে এবং ইনসুলিনের কাজকে উন্নত করতেও পরিচিত।

৭) ফ্যাটি ফিশ

৭) ফ্যাটি ফিশ

স্যালমন, হেরিং, সার্ডিন, ম্যাকারেলের মতো ফ্যাটি ফিশগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এই ফ্যাটি অ্যাসিড সুগারের রোগীদের বিভিন্ন ডায়াবেটিসজনিত সমস্যা থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও, চর্বিযুক্ত মাছগুলি প্রোটিনের ভালো উৎস, যা আমাদের পেট দীর্ঘ সময় ভরা রাখে এবং কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।

৮) বেরি

৮) বেরি

বেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-এর শক্তিশালী উৎস। বেরিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ফাইবার থাকে, যেমন - ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে খুবই কার্যকর।

ডায়াবেটিস রোগীদের এই খাবারগুলো এড়িয়ে যাওয়া উচিত

ডায়াবেটিস রোগীদের এই খাবারগুলো এড়িয়ে যাওয়া উচিত

১) চিনি বা চিনি জাতীয় খাবার এবং পানীয়

২) পাউরুটি ও সাদা ভাত

৩) ডিপ ফ্রাই করা খাদ্য

৪) মিষ্টি দই

৫) রেড মিট

৬) আলু

৭) মিষ্টি, কেক, বিস্কুট

৮) ফলের রস

৯) ময়দা

১০) শুকনো ফল

১১) প্যাকেটজাত খাবার

X
Desktop Bottom Promotion