For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

ফুড পয়জনিং : কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা

|

ফুড পয়জনিং বা খাদ্য বিষক্রিয়া একটি সাধারণ রোগ। বেশিরভাগ সময়ই অনেককে দেখা যায় এই রোগে ভুগতে। খাবার থেকে যে অসুস্থতার সৃষ্টি হয় তাকে ফুড পয়জনিং বা খাদ্য বিষক্রিয়া বলে। যখন কেউ দূষিত, নষ্ট বা বিষাক্ত খাবার খায়, যা ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবী দ্বারা সংক্রামিত তখন ফুড পয়জনিং হয়ে থাকে।

এই সংক্রামকগুলি খাদ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ বা উৎপাদন, সংরক্ষণের সময় খাদ্যের সংস্পর্শে এসে খাবারটি দূষিত করতে পারে। এছাড়া, রান্নার বিভিন্ন সমস্যার কারণেও খাদ্য সংক্রমিত হয়।

Food Poisoning Treatment

খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণ -

১) ব্যাকটিরিয়া : ই.কোলি, সালমোনেলা এবং লিস্টারিয়া জাতীয় ব্যাকটিরিয়া হল খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিং হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাধারণ কারণ। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলির (CDC) মতে, সালমোনেলা নামক ব্যাকটিরিয়ার কারণে প্রতিবছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১.২ মিলিয়ন মানুষ ফুড পয়জনিং, ২৩০০০ জন হাসপাতালে ভর্তি এবং ৪৫০ জন মারা যায়।

অন্য আরও দুটি স্বল্প-পরিচিত ব্যাকটিরিয়া আছে যা খাবারকে দূষিত করতে পারে সেগুলি হল- ক্যাম্পিলোব্যাক্টর এবং ক্লসটিরিডিয়াম বোটুলিনাম (বোটুলিজম)।

২) ভাইরাস : ভাইরাস, বিশেষত নোরোভাইরাস, যা নরওয়াক ভাইরাস নামেও পরিচিত, এর কারণে প্রতিবছর ১৯ মিলিয়নেরও বেশি খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা হয়। হেপাটাইটিস এ ভাইরাসও খাবারের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে।

৩) পরজীবী : পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট খাদ্য বিষক্রিয়াগুলি সাধারণ নয় তবে, এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। পরজীবী সৃষ্টিকারী খাদ্য বিষক্রিয়ার মধ্যে সবথেকে সাধারণ হল টক্সোপ্লাজমা।

খাদ্য বিষক্রিয়ার লক্ষণ -

সংক্রমণের উৎসের উপর নির্ভর করে ফুড পয়জনিং-এর লক্ষণগুলি আলাদা আলাদা হয়। এর লক্ষণগুলি হল-

১) ডায়রিয়া

২) খিদে না হওয়া

৩) পেটে ব্যাথা

৪) বমি বমি ভাব বা বমি

৬) ক্লান্তি

৭) জ্বর

৮) মাথা ব্যাথা

যখন খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণে জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তখন এর লক্ষণগুলি হল-

১) ১০১.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চেয়ে বেশি জ্বর

২) তিন দিনের বেশি ডায়রিয়ায় ভোগা

৩) কথা বলা বা দেখার অসুবিধা

৪) মারাত্মক ডিহাইড্রেশন

খাদ্য বিষক্রিয়ার ঝুঁকি -

১) শিশু, ছোট বাচ্চাদের এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে খাদ্য বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি। কারণ, এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে।

২) গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে বিপাক এবং বিভিন্ন পরিবর্তনগুলি তাদের শরীরে খাদ্য বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

৩) লিভার ডিজিজ, এইডস এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে আনতে পারে। তাই, দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাদ্য বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি।

জটিলতা

তীব্র ডিহাইড্রেশন খাদ্য বিষক্রিয়ার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জটিলতা। গর্ভাবস্থায় খাদ্য বিষক্রিয়া হলে সমস্যা বেশি জটিল হয়।

ই কোলি ব্যাকটিরিয়া প্রজাতি হেমোলিটিক ইউরেমিক সিনড্রোম নামক মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে যা কিডনিজনিত সমস্যার সৃষ্টি করে। এছাড়াও, প্রাপ্তবয়স্ক, দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতাযুক্ত ব্যক্তি এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এই জটিলতা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

Food Poisoning Treatment

রোগ নির্ণয় -

একজন চিকিৎসক আক্রান্ত ব্যক্তির বিশদ ইতিহাস, কতদিন তিনি অসুস্থ ছিলেন, বিভিন্ন লক্ষণ এবং যে খাবারগুলি খেয়েছেন তার উপর নির্ভর করে ডায়াগনোসিস করেন।

রোগীর লক্ষণ ও ইতিহাসের ভিত্তিতে খাদ্য বিষক্রিয়ায় ক্ষেত্রে কী দায়ী তা নির্ধারণ করতে একজন চিকিৎসক স্টুল টেস্ট এবং রক্ত পরীক্ষা করেন।

খাদ্য বিষক্রিয়ার ফলে কোনও ব্যক্তি ডিহাইড্রেটেড কি না তা দেখার জন্যও মূত্র পরীক্ষাও করা হয়।

চিকিৎসা -

১) খাদ্য বিষক্রিয়া বাড়িতেই চিকিৎসা করা যেতে পারে এবং এটি সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে সমাধান হয়।

২) নিজেকে সারাক্ষণ হাইড্রেটেড রাখুন। শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে ইলেক্ট্রোলাইট জল পান করুন।

৩) লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ামের কারণে খাদ্য বিষক্রিয়ায় হাসপাতালে ভর্তির থাকলে ইন্ট্রাভেনাস অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা চিকিৎসা প্রয়োজন।

৫) চিকিৎসকরা কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন।

৬) রোগীর অবস্থা যদি খুব জটিল হলে চিকিৎসকেরা শিরার মাধ্যমে স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা করেন।

ফুড পয়জনিং-এর সময় কী কী খাবেন

১) কলা

২) ভাত

৩) চিকেনের পাতলা ঝোল

৪) সিদ্ধ শাকসবজি

৫) টোস্ট

৬) ফলের রস, ডাবের জল

কী কী খাবেন না

১) চর্বিযুক্ত খাবার

২) দুগ্ধজাত খাবার

৩) মশলাদার এবং ভাজা খাবার

৪) উচ্চ চিনিযুক্ত খাবার

৫) ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে যেতে হবে

খাদ্য বিষক্রিয়া প্রতিরোধের টিপস

১) খাওয়া বা রান্না করার আগে সবসময় ফল এবং শাকসবজি ধুয়ে নিন।

২) খাওয়া বা রান্না করার আগে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

৩) দুধ, কলা, ফলমূল বেশি দিন পুরনো হয়ে গেলে খাবেন না, টাটকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৪) জল ফুটিয়ে খান।

৫) কোনও খাবার আঢাকা রাখবেন না। ঠিকমতো ঢেকে রাখুন, নাহলে বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ (মশা, মাছি) খাবারে বসে জীবাণু ছড়াতে পারে।

৬) রাস্তার খোলা খাবার খাবেন না।

৭) মাংস রান্নার সময় অবশ্যই দীর্ঘক্ষণ উচ্চ আঁচে রান্না করতে হবে। তাহলে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হবে।

Read more about: food poisoning food health
English summary

Food Poisoning: Causes, Symptoms, Diagnosis And Treatment

Food poisoning, also called foodborne illness. Read on to know the causes, symptoms, risk factors and treatment.
Story first published: Friday, October 18, 2019, 14:29 [IST]
X