নাচতে নাচতে জীবন লাভ!

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত ডান্স করলে শরীরে অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে থাকে যে বয়স বাড়ার প্রক্রিয়া আটকে যায়।

By Nayan

সুস্থ থাকতে আমরা কত কিছুই না করে থাকি। কেউ সকাল বিকাল হাঁটাহাটি করে, তো কেউ জিমের খাতায় নাম লেখায়। আর এইসব করতে গিয়ে প্রায়শই হাজার হাজার টাকা খরচ করে বসেন অনেকে। তাই তো এই প্রবন্ধে এমন একটি শরীরচর্চার প্রসঙ্গ আলোচনা করা হল, যা শরীরকে চাঙ্গা তো রাখবেই, সেই সঙ্গে দেহের বয়স কমিয়ে নানাবিধ রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেবে। তবে এই সবই হবে একেবারে বিনামূল্যে!

আচ্ছা কী এমন শরীরচর্চার কথা বলছেন বলুন তো, যা বিনামূল্যে করা সম্ভব হবে? এই উত্তর পাবেন, তবে তার আগে বলুন তো ভাসান নাচেন নাকি? হ্যাঁ, নাচি তো। দুর্গা পুজোর ভাসানে না নাচলে চলে মশাই! আচ্ছা একবার ভাবুন তো এমন নাচ যদি প্রতিদিন আধ ঘন্টা করা যায়, তাহলে কেমন হবে! ধূর, এমনটা কেউ করে নাকি? আরে মশাই একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ঘাম ঝরিয়ে আধ ঘন্টা যদি নাচতে পারেন, তাহলে শরীর নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকে না। শুধু তাই নয়, এমনটা করলে একাধিক মারণ রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে শরীরের বয়সও কমতে শুরু করে। অর্থাৎ খাতায় কলমে বয়স বাড়লেও শরীরের উপর তার কোনও ছাপই পরে না। তবে এখানেই শেষ নয়, নিয়মিত ডান্স কারলে আরও অনেক উপকার পাওয়া যায়। যেমন...

১. সারা জীবন

১. সারা জীবন "ইয়ং" থাকা যায়:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত ডান্স করলে শরীরে অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে থাকে যে বয়স বাড়ার প্রক্রিয়া আটকে যায়। ফলে শরীরে উপর বয়সের কোনও প্রভাবই পরতে পারে না। সেই সঙ্গে হার্ট এবং ফুসফুসের ক্ষমতা চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু কেস স্টাডি করে দেখা গেছে এক ঘন্টা সাইকেল চালালে বা সাঁতার কাটলে শরীরে যা উপকার হয়, সেই সমান উপকার পাওয়া যায় একটা গানে টানা নাচলেও। এবার বুঝেছেন তো শরীরকে চাঙ্গা রাখতে নাচের গুরুত্ব কতটা!

২. হাড় শক্তপোক্ত হয়:

২. হাড় শক্তপোক্ত হয়:

নিয়মিত ডান্স করলে জয়েন্টের সচলতা এতটা বৃদ্ধি পায় যে অস্টিওপোরোসিস মতো হাড়ের রোগ ধরা কাছেও ঘেঁষতে পারে না। শুধু তাই নয়, নিয়মিত নাচলে হাড়ের স্বাস্থ্য়েরও উন্নতি ঘটে। প্রসঙ্গত, মেনোপজের পর মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। ফলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হওয়ার কারণে নানাবিধ হাড়ের রোগ ঘারে চেপে বসে। এমন অবস্থা আপনারও হোক, এমনটা চান না নিশ্চয়! তাহলে আজ থেকেই আধ ঘন্টা খরচ করে নিজের মতো একটু নাচানাচি শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে।

৩. ওজন কমে:

৩. ওজন কমে:

এই বিষয়টা নিশ্চয় লক্ষ করেছেন যে নাচার সময় খুব ঘাম হয়। আর ঘাম হওয়া মানে যে ক্যালরির খরচ বেড়ে যাওয়া, তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না! তাই যথ ঘাম ঝরে, তত ফলে ওজন কমতে থাকে। তাই তো ওজন কমানোর লক্ষ স্থির করলে প্রতিদিন কম করে ১ ঘন্টা ডান্স করা শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে! কারণ ডান্স করার সময় প্রতি মিনিটে কম-বেশি প্রায় ৫-১০ ক্যালরি খরচ হয়। এবার আপনিই হিসেব করে নিন, এক ঘন্টা নাচলে মোট কত পরিমাণে ক্যালরি ঝরতে পারে!

৪. খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমতে থাকে:

৪. খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমতে থাকে:

সম্প্রতি একটি গবেষণয়া দেখা গেছে নিয়মিত নাচলে শরীরে খারাপ কোলেস্টরল বা এল ডি এল-এর মাত্রা কমতে শুরু করে। অন্যদিকে বাড়ে ভাল কোলেস্টেরলের পরিমাণ। ফলে হার্টের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটার কোনও সুযোগই থাকে না। তাই তো যাদের পরিবারে হার্ট অ্যাটাক বা কোনও ধরনের হার্ট ডিজিজের ইতিহাস রয়েছে, তারা সময় থাকতে থাকতে পছন্দের মিউজিকে শরীর দোলাতে শুরু করে দিন। দেখবেন হার্ট খারাপ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আর থাকবে না।

৫. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:

৫. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:

নাচার সময় শরীরের প্রতিটি অংশে রক্তের প্রবাহ যেমন বেড়ে যায়, তেমনি মস্তিষ্কেও অক্সিজেন সমৃদ্ধি রক্তের সরবরাহ বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্রেনের কগনেটিভ ফাংশনে উন্নতি ঘটার মধ্যে দিয়ে স্মৃতিশক্তি এবং বুদ্ধির বিকাশ ঘটে।

৬. মানসিক চাপ এবং স্ট্রেস লেভেল কমে:

৬. মানসিক চাপ এবং স্ট্রেস লেভেল কমে:

অফিসে কাজের চাপ এত বেড়েছে যে পাগল পাগল লাগছে? বুঝে উঠতে পারছেন না স্ট্রেস কমাবেন কিভাবে? তাহলে আজ থেকেই কিছুটা সময় পছন্দের গান চালিয়ে একটু ঘাম ঝরান। দেখবেন এমনটা করলে স্ট্রেস তো কমবেই, সেই সঙ্গে মনটাও খুশি খুশি হয়ে যাবে। আসলে নাচার সময় আমাদের ব্রেনর অন্দরে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে মানসিক চাপ কমতে সময় লাগে না।

Story first published: Monday, September 18, 2017, 10:48 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion