নিয়মিত একটু হাঁটাহাঁটি করলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমবে চোখে পরার মতো!

Written By:
Subscribe to Boldsky

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে এমনটা দাবি করা হয়েছে যে নিয়মিত অল্প বিস্তর শরীরচর্চা করলে এতদিন ধরে হার্টের যা ক্ষতি হয়েছে, তা সারতে শুরু করে। সেই সঙ্গে সার্বিকভাবে হার্টের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রেকের আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

গত কয়েক দশকে আমাদের দেশে কম বয়সিদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তের সংখ্যা মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পয়েছে। এমনটা যদি চলতে থাকে, তাহলে আগামী কয়েক বছরে সারা বিশ্বের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের সংখ্য়ার দিক থেকে ভারতের স্থান যে একেবারে প্রথম হবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইন্ডিয়ান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে বছরে যত জন ভারতীয় হার্ট অ্যাটাকের কবলে পরেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশেরই বয়স ৫০ বছরের কম।

এমন পরিস্থিতির পিছনে কী কী কারণ দায়ি? গবেষকদের মতে শরীরচর্চার অভাব, শরীরের দিকে খেয়াল না রাখা, স্ট্রেস, জাঙ্ক ফুড খাওয়া অভ্যাস, ধূমপান এবং অনিয়ন্ত্রিত মদ্যপান প্রভৃতি নানা কারণে কম বয়সিরা হার্ট অ্যাটক এবং স্ট্রোকের ফাঁদে পরে প্রাণ দিচ্ছে। সেই কারণেই তো সময় থাকতে থাকতে শরীরচর্চা শুরু করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

নিয়মিত শরীরচর্চা করার পাশাপাশি যদি এই প্রবন্ধে আলোচিত খাবারগুলি নিয়মিত খেতে পারেন, তাহলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে যে যে খাবারগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলি হল...

১. ওটমিল:

১. ওটমিল:

প্রতিদিন ব্রেকফাস্টে হোক কী যে কোনও সময়, এই খাবারটি খেলে শরীরে ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি যেমন দূর হয়, তেমনি খারাপ কোলেস্টেরল বা এল ডি এল-এর মাত্রাও কমে। ফলে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

২. মাছ:

২. মাছ:

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এই উপাদানটি হার্টের স্বাস্থ্য়ের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্ট অনুসারে সপ্তাহে ২-৩ বার যদি মাছ খাওয়া যায়, তাহলে শীররে এই বিশেষ ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিডটির ঘাটতি দূর হয়। ফলে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে। তাই হে মাছে-ভাতে বাঙালি, আর যাই করুন না কেন, ভুলেও রোজের ডায়েট থেকে মাছকে বাদ দেবেন না যেন!

৩. রসুন:

৩. রসুন:

একাধিক গবেষণায় একথা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গেছে যে প্রতিদিন সকালে যদি এক কোয়া করে রসুন খাওয়া যায়, তাহলে রক্তে বাজে কোলেস্টেরল বা এল ডি এল-এর মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না। উল্টে ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। এখানেই শেষ নয়, রসুন হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে সারা শরীরে রক্তর সরবরাহ মারাত্মক বাড়িয়ে দেয়। ফলে হার্টের পাশাপাশি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাও মারাত্মক বৃদ্ধি পায়।

৪. সয়াবিন:

৪. সয়াবিন:

হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে যে পরিমাণ ফাইবার, ভিটামিন এবং মিনারেলের প্রয়োজন পরে, তার অনেকটাই সরবরাহ করে সয়াবিন। সেই কারণেই তো প্রতিদিন এই খাবারটি খেলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের আশঙ্কা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা নেওয়া ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতেও সয়া প্রোটিন বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো হার্টকে ভাল রাখতে নিয়মিত সোয়াবিন বা সোয়া মিল্ক খাওয়ার পরিমার্শ দেন চিকিৎসকরো।

৫. কাঁচা লঙ্কা:

৫. কাঁচা লঙ্কা:

শুনে অবাক লাগলেও একথা ঠিক যে হার্টকে সুস্থ রাখতে কাঁচা লঙ্কার বাস্তবিকই কোনও বিকল্প হয় না। আসলে এতে উপস্থিত ক্যাপসিসিন নামক উপাদান, ব্লাড ভেসেলের ইলাস্ট্রিসিটি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে ব্লাড ক্লটের আশঙ্কাও কমায়। ফলে হার্টের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রাকাশিত বেশ কয়েকটি গবেষণা পত্র অনুসারে কাঁচা লঙ্কায় উপস্থিত ক্যাপসিসিন, রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ফলে সবদিক থেকে হার্ট সুরক্ষিত থাকে।

৬. আদা:

৬. আদা:

এই প্রাকৃতিক উপাদানটি একদিকে যেমন খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, তেমনি অন্যদিকে ব্লাড ক্লটের আশঙ্কাও দূর করে। সেই সঙ্গে হার্টের অন্দরে কোনওভাবে যাতে প্রদাহ সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। এক কথায় সব দিক থেকে হার্টকে নিরাপত্তা প্রদানে আদা দারুন কাজ আসে।

৭. জাম:

৭. জাম:

এই ফলটির শরীরে মজুত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলি নানাভাবে হার্টকে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কথাই ধরুন না। এই উপাদানটি রক্তে মিশে থাকা টক্সিক উপাদানদের শরীরে থেকে টেনে টেনে বার করে দেয়। ফলে তারা যতক্ষণে হার্টের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করে, ততক্ষণে অন্টিঅক্সিডেন্ট এমন খেল দেখায় যে হার্টের উপর খারাপ প্রভাব পরার আশঙ্কাই থাকে না।

৮. পালং শাক:

৮. পালং শাক:

হার্টকে দীর্ঘকাল সুস্থ রাখতে হলে সবজির দুনিয়ায় সেরার শিরোপা পাওয়া পালং শাকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেই হবে। কারণ এতে রয়েছে বিপুল পরিমাণে ফাইটোকেমিকাল, ভিটামিন এবং মিনারেল, যা হার্টের রোগকে দূরে রাখার পাশাপাশি শরীরকে সার্বিকভাবে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, পালং শাকে উপস্থিত ফলেট, হর্টের কর্মকক্ষমতা তো বাড়ায়ই, সেই সঙ্গে দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতেও সাহায্য করে থাকে।

৯. গ্রিন টি:

৯. গ্রিন টি:

এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কোষেদের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রক্তে যাতে কোনওভাবে এল ডি এল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি না পায়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। শুধু তাই নয়, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতেও গ্রিন টি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো হার্ট এবং ব্রেনকে সুস্থ রাখতে আজ থেকেই দিনে ২ কাপ করে গ্রিন টি পান করা শুরু করতে পারেন। এমনটা করলে দেখবেন দারুন উপকার পাবেন।

Read more about: রোগ শরীর
English summary

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে এমনটা দাবি করা হয়েছে যে নিয়মিত অল্প বিস্তর শরীরচর্চা করলে এতদিন ধরে হার্টের যা ক্ষতি হয়েছে, তা সারতে শুরু করে। সেই সঙ্গে সার্বিকভাবে হার্টের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রেকের আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

Enough has been said about the benefits of exercise in overall health and fitness. Turns out that proper exercise can help reverse damage to heart as well. Yes you heard us, in addition to keeping you fit and agile, exercise( If done enough and properly) may reverse damage to sedentary, ageing hearts. It may also play a preventive role in risk of heart failure for middle-aged and senior citizens' notes a study.
Story first published: Tuesday, January 9, 2018, 17:03 [IST]