নিয়মিত দই খাওয়া হার্টের পক্ষে আদৌ ভাল কি?

By Nayan
Subscribe to Boldsky

একেবারেই! কারণ সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র অনুসারে নিয়মিত দই খেলে হার্টের কোনও ক্ষতি তো হয়ই না, উল্টে নানাবিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। শুধু তাই নয়, কমে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও। তাই তো যাদের পরিবারে এই মারণ রোগের ইতিহাস রয়েছে তাদের দুবেলা টক দই খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

বস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের করা এই পরীক্ষাটি অনুসারে দইয়ের মধ্যে উপস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়া এবং আরও সব উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে ধীরে ধীরে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, ৫৫ হাজার মহিলা এবং ১৮ হাজার পুরুষের উপর এই গবেষণাটি চালানো হয়েছিল। যাদের সবারই রক্তচাপ ছিল স্বাভাবিকের থেকে বেশি। গবেষণাটি শুরু হওয়ার কিছু সময়ের পর চিকিৎসাকের পরীক্ষা করে দেখেন সবারই রক্তচাপ একেবারে স্বাভাবিক মাত্রায় এসে গেছে এবং হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। কীভাবে এমনটা ঘটল জানেন? বিজ্ঞানীদের মতে এর পেছনে দায়ি দই!

নিয়মিত দই খেলে যে শুধুমাত্র হার্টের ক্ষমতাই বাড়ে, এমন নয় কিন্তু! মেলে আরও নানাবিধ শারীরিক উপকার। যেমন ধরুন...

১. ভিটামিনের ঘাটতি দূর হয়:

১. ভিটামিনের ঘাটতি দূর হয়:

নিয়মিত দই খাওয়া শুরু করলে শরীরে পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়োডিন এবং জিঙ্কের ঘাটতি দূর হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ভিটামিন বি৫ এবং বি১২-এর মাত্রাও বাড়তে থাকে। আর এই সবকটি উপাদানই যে নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে, তা কি আর বলে দিতে হবে! এই যেমন ধরুন ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নার্ভাস সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজে লাগে:

২. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজে লাগে:

দইয়ে পরিমাণ মতো বেসন এবং অল্প করে লেবুর রস মিশিয়ে যদি মুখে লাগাতে পারেন তাহলে ত্বক নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকে না। আসলে দইয়ে থাকা জিঙ্ক, ভিটামিন ই এবং ফসফরাস এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পলন করে থাকে। প্রসঙ্গত, এই ফেস প্যাকটি সপ্তাহে কম করে ২-৩ বার লাগালে দারুন উপকার মেলে।

৩. হাড় এবং দাঁতের জন্য খুব উপকারি:

৩. হাড় এবং দাঁতের জন্য খুব উপকারি:

দুধের মতো দইয়েও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস এবং ক্যালসিয়াম। এই দুটি উপাদান দাঁত এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই বুড়ে বয়সে গিয়ে যদি অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো রোগ আক্রান্ত হতে না চান, তাহলে এখন থেকেই নিয়মিত দই খাওয়া শুরু করুন। এমনটা করলে দেখবেন উপকার মিলবেই মিলবে।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

বেশি কিছু গবেষণায় দেখা গেছে দইয়ে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা পাকস্থলিতে হজমে সহায়ক ভাল ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। সেই কারণেই তো বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমাতে দই খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। প্রসঙ্গত, পৃথক একটি গবেষণায় দেখা গেছে পেপটিক আলসার হওয়ার পিছনে দায়ি এইচ পাইলোরি নামক ব্য়াকটেরিয়াকে মেরে ফলতেও দইয়ের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। সেই কারণেই তো পেপটিক আলসারের চিকিৎসায় দইয়ের অন্তর্ভুক্তির পিছনে সাওয়াল করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

৫. ওজন হ্রাস পায়:

৫. ওজন হ্রাস পায়:

অতিরিক্তি ওজনের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে নিয়মিত এক বাটি করে দই খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার মিলবে। বিশেষত ভুঁড়ি কমাতে দইয়ের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। প্রসঙ্গত, ইউনিভার্সিটি অব টেনেসির গবেষকদের করা একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে নিয়মিত দই খাওয়া শুরু করলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, সেই সঙ্গে কর্টিজল হরমোনের ক্ষরণও কমে যায়। ফলে ওজন হ্রাসের সম্ভাবনা প্রায় ২২ শতাংশ বেড়ে যায়।

৬. হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

৬. হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

রক্তে খারাপ কোলেস্টরল বা এল ডি এল-এর মাত্রা কমানোর পাশাপাশি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয় দই। তাই তো নিয়মিত এই দুগ্ধজাত খাবারটি খেলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে। তাই তো পরিবারে যদি কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের ইতিহাস থাকলে দইকে সঙ্গ ছাড়ার ভুল কাজটি করবেন না যেন!

৭. স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি কমাতে সাহায্য করে:

৭. স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি কমাতে সাহায্য করে:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে দই খাওয়ার পর আমাদের মস্তিষ্কের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হয় যে মানসিক চাপ এবং অ্যাংজাইটি কমতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, বর্তমান সময়ে যেসব মারণ রোগগুলির কারণে সব থেকে বেশি সংখ্যক মানুষের প্রাণ যাচ্ছে, তার প্রায় সবকটির সঙ্গেই স্ট্রেসের যোগ রয়েছে। তাই তো নিয়মিত দই খাওয়ার প্রয়োজনয়ীতা যে বেড়েচে, সে বিষযে কোনও সন্দেহ নেই।

৮. দুধের আদর্শ বিকল্প:

৮. দুধের আদর্শ বিকল্প:

এমন অনেকই আছেন যারা একেবারে দুধ খেতে পারেন না। কারও গন্ধ লাগে, তো কারও বমি পাই। এই ধরনের সমস্যাকে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বলা হয়। প্রসঙ্গত, দুধ থেকে দই হওয়ার সময় ল্যাকটোজ, ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়ে যায়। ফলে দই খেলে না গা গোলায়, না বমি পায়।

৯. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

৯. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

দইয়ে উপস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করার পর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে সংক্রমণ থেকে ভাইরাল ফিবার, কোনও কিছুই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। ফলে সুস্থ জীবনের পথ প্রশস্ত হয়।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র অনুসারে নিয়মিত দই খেলে হার্টের কোনও ক্ষতি তো হয়ই না, উল্টে নানাবিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। শুধু তাই নয়, কমে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও।

    Higher intake of yogurt may lower the risk of cardiovascular disease among hypertensive men and women, a new study suggests.According to the researchers, clinical trials have previously demonstrated beneficial effects of dairy consumption on cardiovascular health. Yogurt may independently be related to cardiovascular disease risk.
    Story first published: Thursday, February 15, 2018, 18:01 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more