ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেলে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা যায় কমে!

Written By:
Subscribe to Boldsky

ইন্টারনেশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার নামক সংস্থার করা একটি কেস স্টাডিতে দেখা গেছে ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকলে বিশেষ ধরনের কিছু ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। যার মধ্যে অন্যতম হল মাল্টিপাল মাইলোমা, অ্যাডিনোকার্সিনোমা, থাইরয়েড ক্যান্সার, পোস্ট মেনোপোজাল ব্রেস্ট ক্যান্সার, গলব্লাডার, স্টমাক, লিভার, কিডনি, ওভারি, ইউটেরাস এবং কলোরেকটাল ক্যান্সার প্রভৃতি।

ভয়ের বিষয় হল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশ করা বেশ কিছু রিপোর্টে একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে এদেশের যুবসমাজের সিংহভাগই ওবেসিটির সমস্যায় ভুগছে। আর এর পিছনে মূল কারণ হল অনিয়ন্ত্রিত জীবন এবং জাঙ্ক ফুডের প্রতি অফুরন্ত ভালবাসা। এমন অবস্থায় সুস্থভাবে বেঁচে থাকার রাস্তা দেখাতে পারে সম্প্রতি প্রাকাশিত একটি গবেষণা পত্র। তাতে এমনটা দাবি করা হয়েছে যে ধীরে ধীরে খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। কারণ এই নিয়ম মেনে খেলে খাবার হজম হয় খুব সুন্দর ভাবে। ফলে মেদ জমার আশঙ্কা যায় কমে। অন্যদিকে যদি তাড়াতাড়ি খাওয়ার অভ্যাস করেন, তাহলে নানাবিধ মেটাবলিক সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় বেড়ে। সেই সঙ্গে বাড়ে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও। প্রসঙ্গত, "বি এম জে ওপেন" পত্রিকায় প্রকাশ করা জাপানি বিজ্ঞানীদের করা এই গবেষণায়ও আরও দাবি করা হয়েছে যে ধীরে ধীরে খাবার খেলে বি এম আই যেখানে ২২-এক মধ্যে থাকে, সেখানে যারা দ্রুত খায় তাদের বি এম আই থাকে ২৫ অথবা তার উপরে, যা বেজায় চিন্তাজনক। তাই ওজন বৃদ্ধি এবং সেই সম্পর্কিত নানাবিধ জটিলতার থেকে দূরে থাকতে ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস করুন। দেখবেন সুস্থ জীবনের পথ প্রশস্ত হবে।

এখন প্রশ্ন হল, যাদের ইতিমধ্য়েই ওজন বিপদসীমার উপরকে চলে গেছেন, তারা কী করবেন? সেক্ষেত্রে তাদের নিয়নিত হাল্কা চালে শরীরচর্চা করার পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়ম করে কয়েকটি সবজি খেতেই হবে। তাহলেই দেখবেন ওজন কমতে শুরু করবে চোখে পরার মতো। প্রসঙ্গত, যে যে সবজির মধ্যে ওজন কমানোর ক্ষমতা রয়েছে সেগুলি হল...

১. ফুলকোপি:

১. ফুলকোপি:

প্রস্টেট, ব্রেস্ট, লাং এবং স্কিন ক্যান্সারকে দূরে রাখার পাশাপাশি এই সবজিটির অন্দরে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস, টেস্টোস্টেরন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বিও কমিয়ে ফেলে। শুধু তাই নয়, ফুলকপি এবং ওই একই পরিবারের আরেক সদস্য ব্রকিলতে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি-এর সন্ধান পাওয়া যায়, যা স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে ওজন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. গাজর:

২. গাজর:

বিটা-ক্যারোটিন এবং ফাইবারে ঠাসা এই সবজিটি খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে বারে বারে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা যেমন কমে, তেমনি কাজের ফাঁকে চিপস, কোল ড্রিঙ্কের আনাগোনাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওজন কমতে আর কোনও বাঁধাই থাকে না। প্রসঙ্গত, গাজরে থাকা ডায়াটারি ফাইবার নানাবিধ পেটের রোগ এবং কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে।

৩.মাশরুম:

৩.মাশরুম:

গবেষণাতে প্রমাণিত হয়ে গেছে যে ওজন কমাতে বাস্তবিকই এই সবজিটির কোনও বিকল্প হয় না। কারণ এতে থাকা ফাইবার এবং প্রোটিন অতিরিক্ত ওজন ঝরানোর কাজটা করে থাকে। আসলে শরীরে ফাইবার এবং প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যালরি গ্রহণের ইচ্ছা কমে যায়। আর একথা কে না জানে যে ক্যালরি কম মাত্রায় শরীরে ঢোকা মানে ওজন কমার হার বেড়ে যাওয়া।

৪.পালং শাক:

৪.পালং শাক:

বাঙালির প্রিয় এই সবজিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় প্রোটিন এবং থাইলেকয়েডস। এই দুটি উপাদানই অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। আর পেট ভরা থাকলে অল্প অল্প করে, বারে বারে খাবার খাওয়ার ইচ্ছাও চলে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা হ্রাস পায়। এই প্রসঙ্গে আরেকটা কথা বলে রাখি, সবুজ এই সবজিটি ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীরের গঠনে আরও নানাভাবে ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই প্রতিদিন যদি এক বাটি করে পালং শাক খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন, তাহলে শরীর নিয়ে আরও কোনও চিন্তাই থাকে না।

৫. লঙ্কা:

৫. লঙ্কা:

একেবারে ঠিক শুনেছেন! যে কোনও পদের স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত এই সবজিটি অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে নানাভাবে কাজে লেগে থাকে। আসলে লঙ্কার শরীরে থাকা ডিহাইড্রোক্যাপসিয়েট নামক একটি উপাদান হজম ক্ষমতাতে এতটাই বাড়িয়ে দেয়ে যে কোনও খাবারই পুরো মাত্রায় হজম হতে সময় লাগে না। ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার সুযোগ থাকে না। তবে এখানেই শেষ নয়, লঙ্কায় থাকা ভিটামিন সি-ও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বাড়লে শরীরের মধ্যভাগে মেদ জমার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আর স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমাতে পারে একমাত্র ভিটামিন সি। এবার বুঝেছেন তো কিভাবে এই বিশেষ ভিটামিনটি ওবেসিটির লড়ায়ে নিজেকে কাজে লাগায়!

৬.পিঁয়াজ:

৬.পিঁয়াজ:

কুয়েরসেটিন নামে এক ধরনের ফ্লেবোনয়েড একেবারে ঠেসে ঠেসে ভরা রয়েছে পিঁয়াজের শরীরে। এই উপাদানটি চর্বিকে গলিয়ে ফেলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ওজনের কারণে যাতে কোনও ভাবেই হার্টের ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতেও পিঁয়াজের জুড়ি মেলা ভার। তাই ওজন কমানোর পাশপাশি হার্টকে যদি দীর্ঘকাল সুস্থ রাখতে চান তাহলে আপনার বাজারের থলেতে কোন সবজিটি থাকা মাস্ট, তা নিশ্চয় এতক্ষণে জেনে ফেলেছেন!

Read more about: শরীর রোগ
English summary

ধীরে ধীরে খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। কারণ এই নিয়ম মেনে খেলে খাবার হজম হয় খুব সুন্দর ভাবে। ফলে মেদ জমার আশঙ্কা যায় কমে।

While you might be tempted to wolf down a sandwich or gobble up your dinner, researchers say there may be advantages to taking your time over a meal.According to a study looking at type 2 diabetics, eating slowly could help prevent obesity, with researchers finding a link to both lower waist circumference and body mass index (BMI).The latest study is not the first to suggest that taking a sedate pace at the dinner table could be beneficial: various pieces of work have hinted that those who eat quickly are more likely to be overweight, have acid reflux and have metabolic syndrome.
Story first published: Tuesday, February 13, 2018, 16:40 [IST]