প্রচণ্ড গরমে একেবারেই ছোঁবেন না এই সব খাবার, হতে পারে চরম বিপদ!

By Bhagysree Sarkar

প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে নাজেহাল দেশবাসী। তবে স্বস্তির বৃষ্টি হয়েছে সোমবার। আবহাওয়া আগের তুলনায় কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। নেমেছে তাপমাত্রাও। তবে গরম এখনও যায় নিই। তাই এই গরমে নিজেকে সুস্থ রাখতে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে বেশ কিছু বিষয়। সবার আগে খাদ্য তালিকায় আমাদের নজর দেওয়া দরকার। এই সময় যেকোনও খাবারই খেতে পারেন না। তেলে ভাজা বা অন্যান্য খাবার খেলেই বাড়তে পারে শরীরের তাপমাত্রা।

সাধারণত যেসব খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয়, সেসব খাবারই শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায়। তবে শীতে আপনি এসব খাবার খেতে পারেন, কিন্তু গরমে তা বিপদজনক। এই প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানের ভাষায় 'থার্মোজেনেসিস' বলে। চর্বি, প্রোটিন ও জটিল কার্বোহাইড্রেট-সমৃদ্ধ খাবারগুলি মূলত হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং শরীর গরম করে তোলে। তাই এই গরমে ডায়রিয়ার মতো অসুখ এড়াতে এবং নিজেদেরকে সুস্থ রাখতে খাবার-দাবারে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। চলুন দেখে নেওয়া যাক কোন খাবারগুলি এড়িয়ে চলতে হবে-

Food
  • তৈলাক্ত ফাস্ট ফুড

ফাস্টফুড নিয়ে বহু আগে থেকেই আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এই ধরনের খাবার যে কতটা ক্ষতিকর তাও আমরা অনেকেই জানি। তবুও মানুষ বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফ্রায়েড চিকেন, পিৎজা ইত্যাদি হামেশাই খাচ্ছে। কিন্তু গরমের সময়ে এসব একেবারেই খাওয়া উচিৎ নয়। কারণ,এতে প্রচুর পরিমাণ শর্করা ও চর্বি থাকায় হজম করতে সময় লাগে। ফলে এগুলি রক্তচাপকে প্রভাবিত করে এবং প্রদাহ বাড়ায়।

  • ডিম

শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর অন্যতম মাধ্যম ডিম। ডিম অত্যন্ত উপকারী ও প্রয়োজনীয় খাবার। একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ একটি করে ডিম খেতেই পারেন। তবে অতিরিক্ত খেলে শরীরে কারও কারও কিছু ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তার মধ্যে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধিও একটি। ডিমে থাকে প্রচুর প্রোটিন ও ভিটামিন। যা মূলত শরীর গরম রাখতে ভূমিকা নেয়। যাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, কিংবা উচ্চ রক্তচাপ আছে, তারা চাইলে ডিম এড়িয়ে চলতে পারে। আর গরমে ডিমের পোচ না খেয়ে সেদ্ধ করে খাওয়াই ভালো।

  • অতিরিক্ত চা-কফি

শীতকালে শরীর গরম রাখার জন্য অনেকেই চা-কফি খেয়ে থাকেন। চা-কফি শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে, তাই গরমকালে এসব এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ, চা বা কফির ক্যাফেইন দেহকে জলশূন্য করে ফেলে এবং শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে। তাই যত সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

  • আইসক্রিম ও ঠাণ্ডা পানীয়

অনেকে মনে করেন এই গরমে আইসক্রিম ও ঠাণ্ডা বাজারজাত ঠাণ্ডা পানীয় খেলে গরম কম লাগবে। কিন্তু এসব খেলে শরীরে জলশূন্যতা দেখা দেয়। সেই সঙ্গে এসব খাওয়ার পরপর তৃষ্ণার্ত বোধ করে মানুষ।

  • মধু

আমরা সকলেই জানি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী মধু। কিন্তু এই গরমে অতিরিক্ত মধু খেতে সাবধান! মধু প্রকৃতিগতভাবে উষ্ণ খাবার। এ কারণে শীতে নিয়মিত মধু খেলে শরীর উষ্ণ থাকে। উল্টো দিকে এই গরমেও একটু বেশি মধু খেয়ে ফেললে শরীর আরও গরম হয়।

  • ড্রাই ফ্রুটস

এই গরমে ড্রাই ফ্রুটস না খাওয়াই ভালো। এতে শরীর আরও ডিহাইড্রেটেড বা জলশূন্য হয়ে যেতে পারে।

  • তেল-চর্বি জাতীয় খাবার

গরমের সময় যেকোনও ধরনের মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিৎ। কারণ মাংসে প্রচুর পরিমাণে থাকে চর্বি। তাই সুস্থ থাকতে মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

  • অতিরিক্ত চিনি ও লবণ

চিনি ও লবণ, এ দুটোই আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু গরমের সময় সেই ক্ষতির মাত্রা আরও বেশি হয়। এছাড়াও, গরমে প্যাকেট জাতীয় খাবার বা প্রসেসড ফুড খাওয়া একদমই উচিৎ না।

Story first published: Tuesday, May 7, 2024, 14:06 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion