সাবধান: আগামী তিন বছরে এদেশে মহামারির আকার নেবে মানসিক অবসাদ!

Written By:
Subscribe to Boldsky

নিজে এক সময় ডিপ্রেশনের সঙ্গে লড়াই করেছেন। তাই যন্ত্রণাটা বোঝেন ভালই । সে সময় থেমে যাননি। যুদ্ধ চালিয়েছেন নিজের মনের সঙ্গে। শেষে দাঁত কামড়ে পরে থেকে জিতেছেন জীবন যুদ্ধ। সেই দীপিকা পাডুকোনে আজ এমন একটি মন্তব্য় করেছেন, যা বেজায় চিন্তার বিষয়।

"গ্লোবাল ইনফ্লয়েন্সার সেশন" এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের অন্য়তম সেরা অভিনেত্রী জানিয়েছেন পরিস্থিতি যদিকে যাচ্ছে তাতে আগামী দিনে আমাদের দেশে ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ মহামারির আকার নেবে। কথাটা যে খুব ভুল বলেছেন, তা নয়। কারণ পরিসংখ্যান বলছে শুধু ভারতে নয়, সারা বিশ্বে যে হারে মানসিক অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যাটা বাড়ছে তাতে আগামী তিন বছরে বাস্তবিকই এই রোগ মহামারির আকার নেবে। একই ছবি ধরা পরেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টেও, যা বাস্তবিকই ভয়ের বিষয়।

প্রসঙ্গত, আমাদের দেশের যুবসমাজের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ মানসিক অবসাদের শিকার, যা সারা বিশ্বের মধ্যে সবথেকে বেশি। শুধু তাই নয়, ডিপ্রেশন বা মন খারাপের কারণে আমাদের দেশে প্রতি বছর যতজন আত্মহত্যা করছেন, তার সংখ্যার নিরিখেও ভারত বাকি অনেক দেশকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন। তাই সাবধান!

এখন প্রশ্ন হল এত স্ট্রেসফুল পরিস্থিতিতে মানসিক অবসাদের থেকে দূরে থাকার কোনও উপায় আছে কি? অবশ্যই আছে। তবে তার জন্য এই প্রবন্ধে আলোচিত খাবারগুলিকে রোজের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাহলেই দেখবেন এই মারণ রোগ আপনার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে যে খাবারগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলি হল...

১. পালং শাক:

১. পালং শাক:

বাঙালির প্রিয় এই শাকটি নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে শরীরে আয়রন, এবং ফলিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। যার প্রভাবে মস্তিষ্কের অন্দরে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমে। ফলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে শুরু করে। সেই সঙ্গে সার্বিকভাবে শারীরিক ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। তাই এবার থেকে যখনই মনটা বেশ খারাপ খারাপ লাগবে পালং শাক খাওয়া শুরু করবেন। দেখবেন উপকার মিলবে।

২. নারকেল:

২. নারকেল:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নাককেলে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি ফ্যাট শরীরে প্রবেশ করার পর মস্তিষ্কের অন্দরে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ব্রেন পাওয়ার এতটা বাড়িয়ে দেয় যে স্ট্রেস এবং মানসিক অবসাদের প্রকোপ তো কমেই, সেই সঙ্গে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তিরও উন্নতি ঘটে।

৩. রসুন:

৩. রসুন:

এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের অন্দরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, ছোট থেকেই নিয়মিত রসুন খাওয়ার অভ্যাস করলে হার্টের কর্মক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি ডায়াবেটিসের মোতে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

৪. দই:

৪. দই:

স্কুল থেকে ফেরার পর প্রতিদিন যদি আপনার বাচ্চাকে এক বাটি করে দই খাওয়াতে পারেন, তাহলে তাদের শরীরে সরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা স্ট্রেস কমানোর পাশাপাশি ব্রেন পাওয়ার বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার ব্রেন পাওয়ার বেড়ে গেলে অ্যাংজাইটির মতো সমস্যা কো কমেই, সেই সঙ্গে পড়াশোনাতেও উন্নতি ঘটে।

৫. ছোট টমাটো:

৫. ছোট টমাটো:

এতে উপস্থিত লাইকোপেন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর মন খারাপকে সমূলে উৎখাত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে মানসিক অবসাদের মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগে না। এই কারণেই তো যাদের খুব স্ট্রেসফুল কাজ করতে হয়, তাদের প্রতিদিন একটা করে কাঁচা টমাটো খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৬. কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট:

৬. কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট:

নিয়মিত ব্রাউন রাইস বা হোল গ্রেনের মতো খাবার খেলে শরীরে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা নার্ভাসনেস, অ্যাংজাইটি এবং ইনসমনিয়ার মতো সমস্যা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৭. সাইট্রাস ফল:

৭. সাইট্রাস ফল:

পাতি লেবু, কমলা লেবু এবং মৌসাম্বি লেবুর মত সাইট্রাস ফলের শরীরে মজুত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রকৃতিক সুগার, যা স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ তো কমায়ই, সেই সঙ্গে মানসিক অবসাদকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই তো বাচ্চাদের প্রতিদিন এক বাটি করে ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৮. বাদাম:

৮. বাদাম:

এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন বি২, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্ক। এই সবকটি উপাদান সেরাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বার করে দেয়। ফলে কোনওভাবেই স্ট্রেস ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৯. মাছ:

৯. মাছ:

প্রতিটি বাঙালি বাড়িতেই এখনও প্রতিদিন মাছ রান্নার রেওয়াজ রয়েছে, যে কারণে খেয়াল করে দেখবেন ব্রেন পাওয়ারের দিক থেকে বাঙালি অনেকের থেকেই বেশ এগিয়ে রয়েছে। আসলে মাছে উপস্থিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি, বি৬ এবং বি১২ এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, এই উপাদানগুলি মানসিক অবসাদের মতো রোগের আক্রমণ থেকে বাচ্চাদের বাঁচাতেও নানাভাবে সাহায্য় করে থাকে।

Read more about: শরীর রোগ
English summary

নিজে এক সময় ডিপ্রেশনের সঙ্গে লড়াই করেছেন। তাই যন্ত্রণাটা বোঝেন ভালই । সে সময় থেমে যাননি। যুদ্ধ চালিয়েছেন নিজের মনের সঙ্গে। শেষে দাঁত কামড়ে পরে থেকে জিতেছেন জীবন যুদ্ধ। সেই দীপিকা পাডুকোনে আজ এমন একটি মন্তব্য় করেছেন, যা বেজায় চিন্তার বিষয়।

Deepika advised all IT companies to have counselors and psychiatrists to help the employees who may be suffering from depression.In the chat with Nasscom Vice-Chairman and Chief Strategy Officer Wipro Rishad Premji, she said that depression is going to be the next big epidemic.
Story first published: Thursday, February 22, 2018, 17:13 [IST]