সাবধান‍! রোজকার এই অভ্যাসগুলিই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে

ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি, কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার সহজে ধরা পড়ে না ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভাল কোনও চিকিৎসা দেওয়াও সম্ভব হয়ে ওঠে না। ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা অনেকাংশ বেড়ে যায়।

Dangerous Habits That May Cause Cancer

বিভিন্ন প্রকারের ক্যান্সার রয়েছে এবং প্রত্যেকটার চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা। বর্তমানে ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা চলছে এবং এই সম্পর্কে নতুন নতুন অনেক তথ্যও উঠে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার কারণ আমরা নিজেরাই! আমাদের মধ্যে এমন কিছু অভ্যাস আছে যেগুলি আমাদের এই মারণ রোগের দিকে ঠেলে দেয়। তাই আমরা যদি একটু সতর্ক থাকি তাহলে হয়তো এই রোগ থেকে বাঁচতে পারব। তাহলে আসুন দেখে নেওয়া যাক, ধূমপান ছাড়াও আর কোন কোন অভ্যাস আমাদের ক্যান্সারের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় -

১) অত্যধিক অ্যালকোহল পান করা

১) অত্যধিক অ্যালকোহল পান করা

অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান ক্ষতিকর, এটা আমরা সবাই জানি। অ্যালকোহল সেবনের ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে দেখা গেছে। বেশ কয়েকটি গবেষণা অনুযায়ী, দিনে দু'বার অ্যালকোহল পান করলে খাদ্যনালী ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, মলদ্বারের ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অ্যালকোহল পেটে অ্যাসিড উৎপাদনে সাহায্য করে, যা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের আস্তরণের ক্ষতি করতে পারে।

২) এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করা

২) এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করা

এখন ঘরে ঘরে এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে ক্ষতিকারক ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থ রয়েছে, যা স্প্রে করলে আপনার নাক দিয়ে প্রবেশ করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

৩) ডিজেল ও পেট্রোল

৩) ডিজেল ও পেট্রোল

যেসব লোকেরা নিয়মিত ডিজেল জ্বালানী (ড্রাইভার, মেকানিক, ইত্যাদি)-র সংস্পর্শে আসেন তাদের ফুসফুস ক্যান্সার এবং অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। ডিজেল এবং পেট্রোল বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড এবং হাইড্রোকার্বন বের করে।

৪) পোড়া খাবার

৪) পোড়া খাবার

মাছ, মাংসের মতো খাবারগুলি পোড়ানোর সময় কিছু জায়গা একদম কালো হয়ে যায়। যদিও এর থেকে স্মোকি ফ্লেভার পাওয়া যায়, কিন্তু হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইনস এবং তথাকথিত পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন এর মতো যৌগগুলি পেট, কোলন এবং অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

৫) ক্যানের খাবার

৫) ক্যানের খাবার

ক্যানে থাকা খাবারগুলি অস্বাস্থ্যকর এবং বিপজ্জনক। এই খাবার খাওয়ার ফলে হরমোনের সমস্যা দেখা দেয় এবং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

৬) সানস্ক্রিনের ব্যবহার

৬) সানস্ক্রিনের ব্যবহার

সূর্য থেকে স্কিনকে বাঁচাতে, ত্বকের ক্যান্সার এবং ত্বকের অন্যান্য ক্ষতি রোধ করতে, অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করে। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে, সানস্ক্রিনে জিঙ্ক অক্সাইড নামে একটি উপাদান রয়েছে, যেটা ফ্রি র‌্যাডিক্যালস তৈরি করতে পরিচিত যা ডিএনএ ড্যামেজের কারণ এবং ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধির করতে পারে।

৭) ওরাল সেক্স

৭) ওরাল সেক্স

জার্নাল অফ ক্লিনিকাল অনকোলজিতে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, oropharyngeal cancers-এর ক্রমবর্ধমান হার এইচপিভি সংক্রমণের কারণে হয়। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছয় বা তার বেশি ওরাল সেক্স পার্টনার থাকা ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।

মনে রাখবেন

মনে রাখবেন

এক গ্লাস কোক কিংবা পোড়া খাবারের একটি ছোট টুকরো আপনার মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে না, তবে নিয়মিত এই অভ্যাসগুলি আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির হতে পারে।

X
Desktop Bottom Promotion