শত চেষ্টা করেও কিছুতেই ওজন কমাতে পারছেন না? এই ভুলগুলি করছেন না তো? দেখে নিন

ওজন কমাতে আমরা কত কিছুই না করে থাকি। শরীরচর্চা থেকে শুরু করে ডায়েটিং, সবকিছুতেই বিশেষ মনোযোগ দিই। তবে এত কিছু করার পরেও আমরা অনেকেই প্রত্যাশিত ওজন কমাতে ব্যর্থ হই। শত চেষ্টা সত্ত্বেও যদি আপনার ওজন না কমে, তাহলে কোথাও না কোথাও কিছু না কিছু গলদ তো অবশ্যই আছে।

Common mistakes to avoid when trying to lose weight

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ছোটো ছোটো বিষয়ও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের নেওয়া কিছু ভুল পদক্ষেপ, ওজন কমানোর সমস্ত প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে দিতে পারে। আজ এই আর্টিকেল থেকে জেনে নিন, আমাদের কোন কোন ভুল পদক্ষেপের কারণে ওজন কমানোর চেষ্টায় বাধা পড়ে।

১) ক্যালোরির মাত্রা উপেক্ষা করা

১) ক্যালোরির মাত্রা উপেক্ষা করা

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ক্যালোরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমরা অনেকেই ক্যালোরির গ্রহণকে উপেক্ষা করে, অতিরিক্ত ফ্যাট পোড়াতে কেবলমাত্র শারীরিক কার্যকলাপের দিকেই মনোনিবেশ করে থাকি। ক্যালোরি ঘাটতি, দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া আমরা সকলেই জানি যে, বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কম ক্যালোরি শরীরকে দুর্বল করে। তাই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে, আদর্শ পরিমাণ ক্যালোরি গ্রহণ করা উচিত।

২) কম ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া

২) কম ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া

আমরা অনেকেই ওজন কমাতে গিয়ে ডায়েটে ফাইবারযুক্ত খাবার কম অন্তর্ভুক্ত করি। কিন্তু দ্রুত ওজন কমাতে চাইলে, খাদ্যতালিকায় অবশ্যই ফাইবারযুক্ত খাবার রাখা প্রয়োজন।

৩) খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের অভাব

৩) খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের অভাব

আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন-এর মতনুসারে, প্রোটিন শরীরের পেশীর গঠনকে স্বাভাবিক রেখে ওজন কমাতে সহায়তা করে। তাছাড়া এটি মেটাবলিজম মেনটেন করে, ক্ষুধা নিবারণ করে এবং পেটকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ভর্তি রাখতেও সহায়তা করে। তাই খাদ্যতালিকায় আরও বেশি করে প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করুন।

৪) ডায়েট খাবারের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা

৪) ডায়েট খাবারের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা

দ্রুত ফলের জন্য, অনেকেই ডায়েট খাবার বেছে নিতে পছন্দ করেন। এই প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলি ওজন কমাতে সহায়ক বলে দাবি করলেও, এগুলি কিন্তু অপ্রয়োজনীয় উপাদানে ভরপুর থাকে। উদাহরণস্বরূপ - ১৭০ গ্রামের কম ফ্যাটযুক্ত দইয়ে প্রায় ২৩.৫ গ্রাম চিনি বর্তমান। এগুলি আপনার শরীরের উপর বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে। এই খাবারগুলি খিদে আরও বাড়িয়ে দেয়।

৫) জল কম পান করা

৫) জল কম পান করা

দ্রুত ওজন কমাতে চাইলে প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। বেশি করে জল পান করলে শরীর হাইড্রেট থাকে এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিয়ে শরীরকে ডিটক্স করতেও সহায়তা করে।

৬) ব্রেকফাস্ট না করা

৬) ব্রেকফাস্ট না করা

আমাদের অনেকেরই ধারণা, ব্রেকফাস্ট না করলে দ্রুত ওজন কমতে পারে। কিন্তু এই ধারণা একেবারেই ভুল, বরং ব্রেকফাস্ট না করলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সকালে না খেলে লাঞ্চের সময় বেশি খিদে পায়। প্রাতঃরাশে ক্যালোরি গ্রহণ করুন। ব্রেকফাস্টে যে ক্যালোরি শরীরে যায়, তা সারাদিন ধরে বার্ন হতে পারে। দিনের কোনও সময়ই খাবার স্কিপ করা উচিত নয়।

৭) খুব বেশি বা খুব কম ব্যায়াম করা

৭) খুব বেশি বা খুব কম ব্যায়াম করা

ব্যায়াম বা শরীরচর্চা দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে NIH-এর মতে, অতিরিক্ত ব্যায়াম শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে, কারণ এটি মানসিক চাপ বাড়ায়। অন্যদিকে, কেবলমাত্র ডায়েট চার্ট মেনে খাওয়াদাওয়া করলে এবং ব্যায়াম একদমই না করলে কিন্তু ওজন কম হবে না। তাই ব্যালেন্সড ডায়েটের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ব্যায়ামও অত্যন্ত জরুরি।

X
Desktop Bottom Promotion