ব্রেস্টফিডিং করালে কমে হাই ব্লাড প্রেসারে আক্রান্ত হওয়া আশঙ্কা!

Written By:
Subscribe to Boldsky

প্রায় তিন হাজার মায়ের উপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যেসব মায়েরা বাচ্চার জন্মের পরে প্রায় ৬ মাস পর্যন্ত তাদের বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের উচ্চ রক্তচাপের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৫১ শতাংশ কমে যায়।

আমেরিকান জার্নাল অব হাইপারটেনশানে প্রকাশিত এই গবেষণা পত্রটি অনুসারে ব্রেস্টফিডিং করাকালীন মায়ের শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে, যার প্রভাবে রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় থেকে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে ডায়াবেটিস এবং কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। প্রসঙ্গত, পরিসংখ্যান বলছে আমাদের দেশে প্রতি সেকেন্ডে এক জন করে কম বয়সি হার্ট অ্যাটাকের কারণে মারা পরছেন। আর হার্টের এমন করুন অবস্থার পিছেন দায়ি রয়েছে ব্লাড প্রেসার। এখানেই শেষ নয়, বেশ কিছু গবেষণায় এও দেখা গেছে যে কম বয়স থেকেই রক্তচাপ স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকলে এক সময়ে গিয়ে শুধু হার্ট নয়, শরীরের একাধিক অঙ্গের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। ফলে সময়ের আগেই নিভতে শুরু করে জীবন বাতি। আর সবথেকে ভয়ের বিষয় হল, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার পরেও অনেক বুঝতেই পারেন না যে তাদের শরীরের অন্দরে এমন ক্ষতি হয়ে চলেছে। ফলে দিনে দিনে শরীর এতটাই ভেঙে যায় যে, একটা সময়ে গিয়ে আর কিছুই করার থাকে না। তাই তো সময় থাকতে থাকতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াটা একান্ত প্রয়োজন। না হলেই খেল খতম!

এখন প্রশ্ন হল, এমন জীবনযাত্রার মাঝেও ব্লাড প্রেসারকে স্বাভাবিক রাখবেন কিভাবে? এক্ষেত্রে ব্রেস্টফিডিং-এর কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। তবে এর সঙ্গে যদি কতগুলি খাবারকে রোজের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, একাধিক আয়ুর্বেদ পুঁথিতেও এই বিষয়ে উল্লেখ পাওয়া যায়। সাধারণত ব্লাড প্রেসারকে স্বাভাবিক রাখতে যে যে খাবারগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেগুলি হল...

১. অর্জুন গাছের ছাল:

১. অর্জুন গাছের ছাল:

বেশ কিছু প্রাচীন আয়ুর্বেদ পুঁথি থেকে জানতে পারা যায় অর্জুন গাছের ছাল যদি প্রতিদিন গ্রহণ করা যায়, তাহলে শুধু রক্তচাপ কমে না, সেই সঙ্গে করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট ফেলিওর এবং হাই কোলেস্টরলের মতো সমস্যাও কমতে শুরু করে।

২. ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার:

২. ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার:

দা ল্যানসেট ডায়াবেটিস অ্যান্ড এন্ডোক্রিনোলজি-তে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে এই ভিটামিনটি শরীরে প্রবেশ করার পর ব্লাড প্রেসার চোখে পরার মতো কমে যায়। সেই কারণেই তো বয়স ২৫ পেরলেই প্রতিদিন মাছ, দুধ, দই, মাখন এবং ডিমের মতো ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

৩. ডার্ক চকোলেট:

৩. ডার্ক চকোলেট:

হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির করা এক গবেষণা অনুসারে ডার্ক চকোলেটে উপস্থিত ফ্ল্যাভোনয়েড নামে একটি উপাদান শুধু ব্লাড প্রেসার কমায় না, সেই সঙ্গে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই তো প্রতিদিন এক টুকরো করে ডার্ক চকোলেট খেলে দারুন উপকার মেলে।

৪. আদা-এলাচ চা:

৪. আদা-এলাচ চা:

২০০৯ সালে ইন্ডিয়ান জার্নাল অব বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড বায়োফিজিকসে প্রকাশিত এক স্টাডি অনুসারে এই দুটি প্রকৃতিক উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে বানানো চা যদি প্রতিদিন খাওয়া যায়, তাহলে ব্লাড প্রেসার তো কমেই। সেই সঙ্গে সারা শরীরে রক্তের প্রবাহে উন্নতি ঘটে। ফলে হার্টের পাশাপাশি শরীরের প্রতিটি অঙ্গ চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

৫. তরমুজ খাওয়া শুরু করুন:

৫. তরমুজ খাওয়া শুরু করুন:

এই ফলটিতে উপস্থিত সিট্রলাইন নামে একটি উপাদান ব্লাড ভেসেলকে প্রসারিত করে দেয়। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই রক্তচাপ কমতে শুরু করে। তাই তো শুধু গরমকালে নয়, সারা বছর ধরেই তরমুজ খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে।

৬. হার্বাল চা:

৬. হার্বাল চা:

ফুল এবং আরও সব প্রকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হার্বাল চা আজকাল প্রতিটি বাজারেই পাওয়া যায়। এই ধরনের চা দিনে ২-৩ কাপ খেলে রক্তচাপ নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকে না। একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে হার্বাল চায়ে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা সারা শরীরে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শিরা এবং ধমনীর কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ কমতে শুরু করে।

৭. ওটস:

৭. ওটস:

উচ্চ এবং নিম্ন, দুই ধরনের রক্তচাপকে স্বাভাবিক করতে এই খাবারটির কোনও বিরল্প হয় না বললেই চলে। এখানেই শেষ নয়, হজম ক্ষমতার উন্নতিতেও ওটস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৮. তিল:

৮. তিল:

তিল তেল বিশেষ কিছু অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। সেই সঙ্গে রয়েছে ভিটামিন-ই। এই সবকটি উপাদানই রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে দারুন কাজে আসে।

৯. মূলা:

৯. মূলা:

শুধু মূলা নয়, পাতা সমেত এই সবজিটি খেলে তবেই ব্লাড প্রেসার একেবারে হাতের মুঠোয় চলে আসে। আসলে মূলায় রয়েছে পটাশিয়াম, যা শরীরে নুনের পরিমাণকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মধ্যে দিয়ে রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

Read more about: শরীর রোগ
English summary

প্রায় তিন হাজার মায়ের উপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যেসব মায়েরা বাচ্চার জন্মের পরে প্রায় ৬ মাস পর্যন্ত তাদের বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের উচ্চ রক্তচাপের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৫১ শতাংশ কমে যায়।

A study of more than 3,000 women found those who nursed infants were up to 51 per cent less likely to become hypertensive as they got older
Story first published: Wednesday, January 31, 2018, 14:20 [IST]