সাঁতরে একশো!

Posted By:
Subscribe to Boldsky

মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে কর্মক্ষম রাখতে কী করা যেতে পারে জানা আছে? শরীরচর্চা করলে কেমন হয়? বটে! করা যেতেই পারে। কিন্তু তাতে ১০০-এর কোটা পেরনো যাবে কি? মনে হয় না। তাহলে উপায়!

সত্যিই যদি বহু দিন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে দূরে থাকতে চান, তাহলে ঝটপট সাঁতারটা শিখে ফেলুন, তাহলেই কেল্লাফতে! কীভাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে শরীর সুস্থ রাখতে সাঁতারের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আর সবথেকে মজার বিষয় হল এই শরীরচর্চাটি করতে কোনও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন পরে না। শুধু ধারে কাছে সুইমিং পুল অথবা পুকুর হলেই চলে। তাই না!

এখনও যদি সাঁতারের উপকারিতা নিয়ে মনে কোনও প্রশ্ন থেকে থাকে, তাহলে বাকি প্রবন্ধে এক্ষুনি চোখ রাখুন। তাহলেই দেখবেন সব ধোঁয়াশা কেটে যাবে।

১. পেশির শক্তি বৃদ্ধি পায়:

১. পেশির শক্তি বৃদ্ধি পায়:

মাত্র ৩০ মিনিট সাঁতার কাটলেই সারা শরীরের পেশির শক্তি বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে পেটের চর্বিও কমতে শুরু করে। সেই কারণেই তো বিশেষজ্ঞরা সাঁতারকে সবথেকে কার্যকরী অ্যারোবিক এক্সারসাইজ হিসেবে বিবেচিত করে থাকেন।

২. শরীরের সচলতা বাড়ে:

২. শরীরের সচলতা বাড়ে:

খেয়াল করে দেখবেন সাঁতার কাটার সময় বেজায় হা এবং পা ছুড়তে হয়, সেই সঙ্গে সারা শরীরকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। তাই তো নিয়মিত সাঁতার কাটলে শরীরে সচলতা চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পায়। শুধু তাই নয়, সাঁতার কাটার সময় প্রতি মুহূর্তে শরীরকে মারাত্মক স্ট্রেচ করতে হয়। যে কারণে শারীরিক বৃদ্ধিতেও কোনও ঘাটতি থাকে না।

৩. প্রদাহ কমায়:

৩. প্রদাহ কমায়:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত সাঁতার কাটলে হার্টের পেশির ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কর্মক্ষমতার উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে শারীরিক প্রদাহ হ্রাস পাওয়ার কারণে অথেরোস্ক্লেরোসিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।

৪. ওজন হ্রাস পায়:

৪. ওজন হ্রাস পায়:

১০ মনিট দৌড়ালে যেখানে কম-বেশি ১০০ ক্যালরি বার্ন হয়, সেখানে একই সময় সাঁতার কাটলে প্রায় ১৫০ ক্যালরি বার্ন হয়ে থাকে। ফলে ওজন কমতে থাকে তড়তড়িয়ে। তবে নিয়মিত সাঁতার কাটতে হবে, না হলে কিন্তু সেভাবে সুফল পাবেন না।

৫. ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ায়:

৫. ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ায়:

আপনি কি অ্যাস্থেমায় ভুগছেন? তাহলে সাঁতার শেখার ব্যাপারে ভাবতে পারেন। কারণ একাধিক স্টাডি একথা প্রমাণ করেছে যে সাঁতার কাটার সময় ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়তে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অ্যাস্থেমার প্রকোপ কমে যায়। সেই সঙ্গে নাক ডাকার সমস্যাও একেবারে বাগে চলে আসে।

৬. স্ট্রেস এবং ডিপ্রেশন কমে:

৬. স্ট্রেস এবং ডিপ্রেশন কমে:

সাঁতার কাটার সময় মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন নামে একটি হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই হরমোনটিকে চিকিৎসকেরা "ফিল গুড" হরমোন বলে থাকেন। কারণ এন্ডোরফিনের মাত্রা শরীরে বৃদ্ধি পেলে মন খুশি হয়ে যায়। তাই তো স্ট্রেস এবং মানসিক অবসাদ কমাতে চিকিৎসকেরা সাঁতার কাটার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এখানেই শেষ নয়, সাঁতার আরও নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। যেমন ধরুন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে সাঁতার কাটার সময় হিপোকম্পাস নিউরোজেনেসিস নামে একটি ঘটনা ঘটে থাকে। এই সময় স্ট্রেসের কারণে মস্তিষ্কের যে ক্ষতি হয়েছে, তার শুশ্রুষা হতে থাকে। ফলে মন-মেজাজ একেবারে চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

৭. বুদ্ধি বাড়ে:

৭. বুদ্ধি বাড়ে:

অষ্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক এই বিষয়ে গবেষণা চালাতে গিয়ে লক্ষ করেছিলেন যারা নিয়মিত সাঁতার কাটেন, তাদের মোটর স্কিলের উন্নতি ঘটে। ফলে ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মনোযোগ এবং বুদ্ধিও বাড়তে শুরু করে।

৮. আয়ু বৃদ্ধি পায়:

৮. আয়ু বৃদ্ধি পায়:

যেমনটা প্রথমেই আলোচনা করা হয়েছিল ১০০ বছর বাঁচতে সাঁতারের থেকে ভাল আর কোনও শরীরচর্চা হতে পারে না। কারণ নিয়মিত সাঁতার কাটলে হঠাৎ মৃত্যুর অশঙ্কা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জীবনের দৈর্ঘ বাড়ে।

Read more about: শরীর
English summary
Swimming has been called the perfect exercise. After all, you can get all of the benefits of an aerobic workout without any damaging impact on joints, and it can be done by both the very old and the very young. It is utilized by athletes to stay strong and keep fit when recovering from injury, and there is no fancy equipment needed—just you and the deep blue. However, swimming has many more benefits that those obvious advantages seen on the surface; its improvements to overall health go much deeper. So, let’s take a big breath, and dive in!
Story first published: Thursday, July 20, 2017, 15:53 [IST]
Please Wait while comments are loading...