আখের রসে অরুচি নেই তো?

নিয়মিত আখের রস খেলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাবোনয়েড এবং ফেনোলিক কম্পাউন্ডের মাত্রা বাড়ায়। ফলে ধীরে ধীরে ত্বকের বলিরেখা কমতে শুরু করে।

By Nayan

বদনাম কম নেই। তবু যেন উপেক্ষাও সম্ভব নয়। কী করে উপেক্ষা করবেন বলুন! মাত্র ৩০ টাকা খরচ করে যদি ছোট-বড় সব রোগের থেকে বাঁচার হেলথ ইনসুরেন্স হাতে এসে যায়, তাহলে কি কেউ সেই লোভ সামলাতে পারে? মনে তো হয় না।

একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে প্রতিদিন এক গ্লাস করে আখের রস খেলে ত্বকের সৌন্দর্য় তো বৃদ্ধি পায়ই, সেই সঙ্গে হাজারো রোগ ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। ফলে চিকিৎসার খরচা তো কমেই, সেই সঙ্গে আয়ুও চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পায়। আসেল এই প্রকৃতিক উপাদানে উপস্থিত প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ, বি কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন সি একাধিক উপকারে লাগে। যেমন...

১. ব্রণর প্রকোপ কমায়:

১. ব্রণর প্রকোপ কমায়:

সারা মুখ ছোট ছোট দানায় ছেয়ে গেছে? এদিকে কসমেটিক্স থেকে আয়ুর্বেদ পেস্ট, সবকিছু লাগিয়েও ফল মিলছে না? কোনও চিন্তা নেই। এক্ষুনি এক গ্লাস আখের রস আর অল্প করে মুলতানি মাটি কিনে আনুন। কী হবে এইসব দিয়ে? অল্প করে মুলতানি মাটি নিয়ে আখের রসের সঙ্গে মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। তারপর সেই পেস্ট ভাল করে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। সময় হয়ে গেলে ঠান্ডা জল দিয়ে মুখটা ধুয়ে নিন। এমনটা সপ্তাহে একবার করলে একটা ব্রণকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

২. ত্বকের বয়স কমায়:

২. ত্বকের বয়স কমায়:

নিয়মিত আখের রস খেলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাবোনয়েড এবং ফেনোলিক কম্পাউন্ডের মাত্রা বাড়ায়। ফলে ধীরে ধীরে বলিরেখা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে বয়স বাড়লেও ত্বকের সৌন্দর্যে কোনও ঘাটতি দেখা দেয় না। এখানেই শেষ নয়, স্কিনকে উজ্জ্বল, তুলতুলে এবং সুন্দর করে তুলতেও আখের রস বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৩. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

৩. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

আখের রসে উপস্থিত সিম্পল সুগার বা সুক্রোস রক্তে মিশে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এনার্জির ঘাটতি দূর করে। তাই তো পেট খারাপের পর শরীরকে চাঙ্গা করে তুলতে আখের রস খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তবে সেই রস যেন বাড়িতে বানানো হয়।

৪. মুখের গন্ধ দূর করে:

৪. মুখের গন্ধ দূর করে:

আখের রসে রয়েছে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস। এই দুই খনিজ দাঁতকে শক্তপোক্ত করার পাশাপাশি গন্ধ সৃষ্টিকারি ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দাঁতের ক্ষয় যেমন রোধ হয়, তেমনি দুর্গন্ধও কমে। প্রসঙ্গত, পুষ্টির ঘাটতির কারণে যদি মুখে গন্ধ হয়, সে সমস্যা মেটাতেও আখের রসের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৫. হাড়ের রোগকে দূরে রাখে:

৫. হাড়ের রোগকে দূরে রাখে:

প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকার কারণে নিয়মিত আখের রস খলে হাড়ের শক্তি বাড়ে। ফলে বুড়ো বয়সে আর্থ্রাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। এই কারণেই তো মহিলাদের বেশি করে আখের রস খাওয়া উচিত। কারণ ৪০-এর পর থেকে বেশিরভাগ মেয়েদেরই শরীরেই ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে হাড়ে ক্ষয় সহ একাধিক রোগ ঘাড়ে চেপে বসার সুযোগ পয়ে যায়।

৬. লিভারের ক্ষমতা বাড়ায়:

৬. লিভারের ক্ষমতা বাড়ায়:

এক গ্লাস আখের রসে অল্প করে লেবুর রস মিশিয়ে যদি নিয়মিত খাওয়া যায়, তাহলে জন্ডিসের প্রকোপ তো কমেই, সেই সঙ্গে লিভার ফাংশনেরও উন্নতি ঘটে।

৭. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

৭. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

জল খেলেও বদ-হজম হয়ে যায় নাকি? তাহলে তো বলতে হয় আপনার পেটের অবস্থা বেজায় খারাপ। তা কী করে পেটের রোগ সারাবেন সে বিষয়ে কিছু ভেবেছেন? এক্ষেত্রে আখের রস আপনাকে সাহায্য করতে পারে। একাধিক কেস স্টিড করে দেখা গেছে আখের শরীরে উফস্থিত পটাশিয়াম হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ধীরে ধীরে গ্য়াস-অম্বল এবং হজমের সমস্যা কমতে শুরু করে।

৮. ক্যান্সার বিরোধী:

৮. ক্যান্সার বিরোধী:

অবাক হচ্ছেন নাকি শুনে? হবেন না যেন! কারণ ক্য়ান্সার রোগকে আটকাতে বাস্তবিকই আখের রসের কোনও বিকল্প হয় না। আসলে এতে উপস্থিত ফ্ল্যাবোনয়েড, ক্যান্সার সেলের বৃদ্ধি আটকায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই মারণ রোগ শরীরে ছড়িয়ে পরার সুযোগ পায় না।

Story first published: Monday, August 21, 2017, 11:43 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion