দাঁত ভালো রাখতে চাইলে এই ৭টি বদভ্যাস এখনই ত্যাগ করুন

ঝকঝকে মজবুত দাঁত কার না পছন্দ! এক গাল মিষ্টি হাসির পেছনে লুকিয়ে থাকে কিন্তু এই দাঁতের সারি। দাঁত শরীরের এক অতি প্রয়োজনীয় অংশ, যা খাবার চিবানো এবং খাবার হজমের প্রক্রিয়া উন্নত করতে সহায়তা করে।

তবে আমাদের কিছু বদভ্যাসের কারণে দাঁত ও মাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে দাঁত ক্ষয়, ক্যাভিটি, দাঁতের গোড়া দুর্বল হয়ে যাওয়া, অকালে দাঁত পড়ে যাওয়া, দাঁতের সেটিং নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার মতো বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই দাঁতের যথাযথ যত্ন নিতে, এই ৭টি বদভ্যাস এখনই ত্যাগ করুন।

Bad Habits That Damage Your Teeth

১) দাঁত এবং মাড়িতে জোরে ব্রাশ করা

অত্যাধিক জোরে ব্রাশ করলে দাঁত এবং মাড়ি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন (ADA) এর মতানুসারে, শক্ত টুথব্রাশের ব্যবহার বা জোরে জোরে ব্রাশ করলে তা দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে। তাই বিশেষজ্ঞরা নরম টুথব্রাশের ব্যবহার এবং আলতো করে ব্রাশ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

২) দাঁত দিয়ে নখ কাটা

মানসিক চাপ, নার্ভাসনেস, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কিংবা স্বভাবগত কারণে অনেকেই দাঁত দিয়ে নখ কেটে থাকেন। তবে এই দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যেস দাঁতের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। ADA-এর মতে, দাঁতে নখ কাটার ফলে চোয়ালের কর্মহীনতা হতে পারে। দাঁতেরও ক্ষতি করতে পারে। এই অভ্যাস রোধ করতে, নখে নেলপলিশ লাগাতে পারেন।

আরও পড়ুন : দাঁত আলগা হয়ে যাচ্ছে? দেখে নিন ঢিলে দাঁতকে মজবুত করার ঘরোয়া উপায়

৩) বরফ চিবিয়ে খাওয়া

আমরা অনেকেই বরফ চিবোতে ভালোবাসি, কিংবা কোনও ঠান্ডা শরবত খাওয়ার পর গ্লাসে পড়ে থাকা অবশিষ্ট বরফ চিবিয়ে খাই। আপনি হয়ত জানেন না, এটি দাঁতের মারাত্নক ক্ষতি করতে পারে। বরফ চিবানোর ফলে দাঁতের এনামেল বা প্রতিরক্ষামূলক স্তরের ক্ষতি হতে পারে।

৪) দাঁত ক্লেঞ্চিং বা গ্রাইন্ডিং করা

অনেকেরই দাঁতে দাঁত দিয়ে পিষার অভ্যাস থাকে। বিশেষ করে অবচেতন মনে এইরকম প্রায়ই হয়ে থাকে। এর ফলে দাঁতের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া মাড়িতে ব্যথা কিংবা চোয়ালের গতিবিধি সীমাবদ্ধ হতে পারে।

৫) তামাক ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন

তামাক কিংবা সিগারেটের সেবন, দাঁত এবং মাড়ির স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষতিকর। তামাক ব্যবহারের ফলে মাড়ির রোগ, মুখে দুর্গন্ধ, শুষ্ক মুখ, দাঁতের ক্ষয় এবং ওরাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

৬) আঙ্গুল চোষা

এই অভ্যাসটি বাচ্চাদের মধ্যে বেশি লক্ষ্য করা যায়। আঙুল চোষা শিশুদের জন্য ভাল, কিন্তু পাঁচ বছর বয়সের পরেও এই অভ্যাসের ফলে দাঁতের গুরুতর সমস্যা হতে পারে। এই অভ্যাসটির কারণে দাঁতের সেটিং নষ্ট হতে পারে।

৭) টুথপিক ব্যবহার করা

খাওয়ার পর অনেকেরই টুথপিক ব্যবহারের অভ্যেস লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে গেলে, অনেকেই তা টুথপিক দিয়ে পরিষ্কার করতে পছন্দ করেন। তবে আপনি কী জানেন, এই টুথপিকের ব্যবহার দাঁতের ক্ষেত্রে কতটা ক্ষতিকারক? টুথপিক ব্যবহারের ফলে দাঁতের পাশাপাশি মাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

X
Desktop Bottom Promotion