For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

আপনি কি অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন? তাহলে এই খাবারগুলি খাওয়া শুরু করুন!

By Nayan
|

আজকের দিনে ওবেসিটি আর সাধারণ কোনও সমস্য়া নয়। কারণ ওজন বৃদ্ধি মানেই হার্টের রোগ, ব্লাড প্রেসার, কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিসের মতো মারণ রোগ ঘারে চেপে বসা। আর এমনটা হওয়া মানেই শরীরের ভাঙতে বসা। তাই সুস্থভাবে বাঁচতে নিজের ওজন সম্পর্কে সচেতন থাকাটা একান্ত প্রয়োজন। না হলে কিন্তু...!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশ করা ডেটা অনুসারে গত কয়েক দশকে আমাদের দেশে ওবেসিটির সমস্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, যে কারণে বেড়েছে অন্যান্য লাইফস্টাইল ডিজিজে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও। তাই এখন থেকেই যদি সাবধান হওয়া না যায়, তাহলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যত যে বেজায় অন্ধকারে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এখন প্রশ্ন হল কীভাবে ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব? এক্ষেত্রে প্রথমেই নজর দিতে হবে ডায়েটের দিকে। বেশি মাত্রায় জাঙ্ক ফুড খাওয়া কমাতে হবে। সেই সঙ্গে ভাজা জাতীয় খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। এই নিয়মটি মানার সঙ্গে সঙ্গে যদি এই প্রবন্ধে আলোচিত খাবারগুলি খাওয়া যায় এবং নিয়মিত অল্প-বিস্তর হাঁটাহাঁটা করা যায়, তাহলে ওজন বৃদ্ধির কোনও সম্ভাবনাই থাকে না।

কী কী খাবার কেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে? এই প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয় পাবেন। তবে তার আগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জেনে নেওয়া জরুরি। কয়েক মাস আগে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন নামক সংস্থা "ভাইটাল সাইন" নামক একটি রিপোর্চ প্রকাশ করেছিল। তাতে যা লেখা ছিল ধাপে ধাপে একাধিক কেস স্টাডিকে তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন যে ওজন বৃদ্ধির কারণে শুধু হার্টের ক্ষতি, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগই হয় না। হতে পারে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগও। আর এই বক্তব্যটা যে বেজায় ফেলনা নয়, তা আমেরিকায় হওয়া একটি সমীক্ষাতেও প্রমাণিত হয়েছে। সেদেশ ওবেসিটির শিকার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের শরীরেই ক্যান্সার সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার পিছনে অতিরিক্ত ওজনকেই দায়ি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইন্টারনেশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার নামক সংস্থার করা একটি কেস স্টাডিতে দেখা গেছে ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকলে বিশেষ ধরনের কিছু ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। যার মধ্যে অন্যতম হল মাল্টিপাল মাইলোমা, অ্যাডিনোকার্সিনোমা, থাইরয়েড ক্যান্সার, পোস্ট মেনোপোজাল ব্রেস্ট ক্যান্সার, গলব্লাডার, স্টমাক, লিভার, কিডনি, ওভারি, ইউটেরাস এবং কলোরেকটাল ক্যান্সার প্রভৃতি।

এমন পরিস্থিতির পরিবর্তনে যে যে খাবারগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে, সেগুলি হল...

১.পালং শাক:

১.পালং শাক:

বাঙালির প্রিয় এই সবজিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় প্রোটিন এবং থাইলেকয়েডস। এই দুটি উপাদানই অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। আর পেট ভরা থাকলে অল্প অল্প করে, বারে বারে খাবার খাওয়ার ইচ্ছাও চলে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা হ্রাস পায়। এই প্রসঙ্গে আরেকটা কথা বলে রাখি, সবুজ এই সবজিটি ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীরের গঠনে আরও নানাভাবে ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই প্রতিদিন যদি এক বাটি করে পালং শাক খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন, তাহলে শরীর নিয়ে আরও কোনও চিন্তাই থাকে না।

২.মাশরুম:

২.মাশরুম:

গবেষণাতে প্রমাণিত হয়ে গেছে যে ওজন কমাতে বাস্তবিকই এই সবজিটির কোনও বিকল্প হয় না। কারণ এতে থাকা ফাইবার এবং প্রোটিন অতিরিক্ত ওজন ঝরানোর কাজটা করে থাকে। আসলে শরীরে ফাইবার এবং প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যালরি গ্রহণের ইচ্ছা কমে যায়। আর একথা কে না জানে যে ক্যালরি কম মাত্রায় শরীরে ঢোকা মানে ওজন কমার হার বেড়ে যাওয়া।

৩. লঙ্কা:

৩. লঙ্কা:

একেবারে ঠিক শুনেছেন! যে কোনও পদের স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত এই সবজিটি অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে নানাভাবে কাজে লেগে থাকে। আসলে লঙ্কার শরীরে থাকা ডিহাইড্রোক্যাপসিয়েট নামক একটি উপাদান হজম ক্ষমতাতে এতটাই বাড়িয়ে দেয়ে যে কোনও খাবারই পুরো মাত্রায় হজম হতে সময় লাগে না। ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার সুযোগ থাকে না। তবে এখানেই শেষ নয়, লঙ্কায় থাকা ভিটামিন সি-ও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বাড়লে শরীরের মধ্যভাগে মেদ জমার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আর স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমাতে পারে একমাত্র ভিটামিন সি। এবার বুঝেছেন তো কিভাবে এই বিশেষ ভিটামিনটি ওবেসিটির লড়ায়ে নিজেকে কাজে লাগায়!

৪. ফুলকোপি:

৪. ফুলকোপি:

প্রস্টেট, ব্রেস্ট, লাং এবং স্কিন ক্যান্সারকে দূরে রাখার পাশাপাশি এই সবজিটির অন্দরে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস, টেস্টোস্টেরন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বিও কমিয়ে ফেলে। শুধু তাই নয়, ফুলকপি এবং ওই একই পরিবারের আরেক সদস্য ব্রকিলতে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি-এর সন্ধান পাওয়া যায়, যা স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে ওজন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. গাজর:

৫. গাজর:

বিটা-ক্যারোটিন এবং ফাইবারে ঠাসা এই সবজিটি খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে বারে বারে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা যেমন কমে, তেমনি কাজের ফাঁকে চিপস, কোল ড্রিঙ্কের আনাগোনাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওজন কমতে আর কোনও বাঁধাই থাকে না। প্রসঙ্গত, গাজরে থাকা ডায়াটারি ফাইবার নানাবিধ পেটের রোগ এবং কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে।

৬.পিঁয়াজ:

৬.পিঁয়াজ:

কুয়েরসেটিন নামে এক ধরনের ফ্লেবোনয়েড একেবারে ঠেসে ঠেসে ভরা রয়েছে পিঁয়াজের শরীরে। এই উপাদানটি চর্বিকে গলিয়ে ফেলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ওজনের কারণে যাতে কোনও ভাবেই হার্টের ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতেও পিঁয়াজের জুড়ি মেলা ভার। তাই ওজন কমানোর পাশপাশি হার্টকে যদি দীর্ঘকাল সুস্থ রাখতে চান তাহলে আপনার বাজারের থলেতে কোন সবজিটি থাকা মাস্ট, তা নিশ্চয় এতক্ষণে জেনে ফেলেছেন!

Read more about: রোগ শরীর
English summary

আজকের দিনে ওবেসিটি আর সাধারণ কোনও সমস্য়া নয়। কারণ ওজন বৃদ্ধি মানেই হার্টের রোগ, ব্লাড প্রেসার, কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিসের মতো মারণ রোগ ঘারে চেপে বসা। আর এমনটা হওয়া মানেই শরীরের ভাঙতে বসা। তাই সুস্থভাবে বাঁচতে নিজের ওজন সম্পর্কে সচেতন থাকাটা একান্ত প্রয়োজন। না হলে কিন্তু...!

Obesity is no longer considered a cosmetic issue that is caused by overeating and a lack of self-control. The World Health Organisation (W.H.O), along with National and International medical and scientific societies, now recognize obesity as a chronic progressive disease resulting from multiple environmental and genetic factors. It is now recognized as the second most common cause of ‘preventable death’ after cigarette smoking.
X