নিয়মিত বাঁধাকোপি খেলে কি হতে পারে জানা আছে?

Written By:
Subscribe to Boldsky

ক্রসিফেরাস পরিবারের এই সদস্যটিকে কাজে লাগিয়ে বানানো নানা মুখরোচক বাঙালি পাখোয়ান খাওয়া শুরু করলে মেলে নানা শরীরিক উপকারিতা। বিশেষত ওয়েদার চেঞ্জের সময় শরীরকে চাঙ্গা রাখতে এই ঘরোয়া ঔষধিটির কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে।

স্থরে স্থরে সাজানো এই গোলাকার সবজিটির অন্দরে প্রচুর মাত্রায় রয়েছে ভিটামিন এবং মিনারেল। সেই সঙ্গে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সালফার, ফসফরাস এবং ফলেটের মতো উপকারি উপাদানও, যা নানাভাবে শরীরের গঠনে সাহায্য করে থাকে। সেই কারণেই তো রোজের ডায়েটে বাঁধাকোপির অন্তর্ভুক্তি মাস্ট!

এখন প্রশ্ন হল কিভাবে খেলে এই সবজিটি থেকে সর্বত্তম উপকার পাওয়া যেতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে রান্না করার সময় অল্প হলেও এই সবজির অন্দরে থাকা উপকারি উপাদানেরা অনেকাংশেই নষ্ট হয়ে যায়। সেই কারণেই তো রান্না করে নয়, বরং বাঁধাকোপির রস বানিয়ে তা খাওয়া উচিত। আর যদি একান্ত রস বানাতে না পারেন, তাহলে সেদ্ধ করে খান। এমনটা করলে সবজির অন্দরে থাকা প্রতিটি ভিটামিন এবং মিনরেল আমাদের শরীরে প্রবেশ করার সুযোগ পাবে। ফলে মিলবে নানা উপকার। যেমন ধরুন...

১. দেহের অন্দরে প্রদাহ কমায়:

১. দেহের অন্দরে প্রদাহ কমায়:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এই সবজিটি খাওয়া শুরু করা যায়, তাহলে দেহের অন্দরে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রদাহ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও যায় কমে। কারণ প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া, শরীরের জন্য একেবারেই ভাল নয়।

২. রোগ প্রতিরোধ ব্য়বস্থার উন্নতি ঘটায়:

২. রোগ প্রতিরোধ ব্য়বস্থার উন্নতি ঘটায়:

শরীরকে নানাবিধ জীবাণু এবং ফরেন বডির হাত থেকে বাঁচাতে আমাদের শরীরের অন্দরে বেশি কিছু সৈনিক রাত্রি দিন কাজ করে চলে। এরা যখন কাজ করতে করতে দুর্বল হয়ে পরে, তখনই মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে নানা রোগ। আপনি কি চান, আপনার সৈনিকেরও এমন দুর্বল হয়ে পরুক। উত্তর যদি না হয়, তাহলে আজ থেকেই বাঁধাকোপির রস খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে। কারণ এই প্রকৃতিক উপদানাটি ইমিউন সিস্টেমকে এত মাত্রায় শক্তিশালী করে তোলে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে কমে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও।

৩. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়:

৩. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়:

সারা দিন দূষণ এবং খাবারের মাধ্যমে নানাবিধ ক্ষতিকর টক্সিক বা বিষ আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে থাকে। এই বিষাক্ত উপাদানেরা রক্তে মিশে যাওয়ার পর যেমন শরীরের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে যায়, তেমনি ত্বকের অন্দরেও জমতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে ত্বকের সৌন্দর্য কমে যায়। সেই সঙ্গে নানাবিধ ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। এমন অবস্থায় নিয়মিত যদি বাঁধাকোপি খাওয়া যায়, তাহলে দারুন উপকার মেলে। কারণ এই সবজিটিতে থাকা সালফার এবং ফসফরাস ত্বকের ভিতরে জমতে থাকা বর্জ্য পদার্থদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে স্কিনের অন্দরে হওয়া পুষ্টির ঘাটতিও দূর করে। ফলে ধীরে ধীরে ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণচ্ছ্বল হয়ে ওঠে।

৪. শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়:

৪. শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়:

যেমনটা একেবারে শুরুতেই আলোচনা করা হয়েছে যে বাঁধাকোপিতে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন এবং অন্যান্য খনিজ উপাদান থাকে, যেমন- ভিটামিন সি, এ,বি১,বি২,বি৬,ই এবং কে। এই সবকটি ভিটামিনই শরীরে নানা উপকারে লেগে থাকে। সেই সঙ্গে রোগ ভোগের আশঙ্কা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। প্রসঙ্গত, বাঁধকোপির অন্দরে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়:

৫. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়:

বাঁধাকোপিতে উপস্থিত বিটা-ক্যারোটিন শরীরে প্রবেশ করার পর রেটিনার ক্ষমতা বাড়াতে শুরু করে। ফলে ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে ছানির সমস্য়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও যায় কমে। তাই যাদের দিনের বেশির বেশিরভাগ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হয়, তাদের রোজের ডায়েটে বাঁধাকোপির অন্তর্ভুক্তি ঘটা মাস্ট!

৬. লিভার ফাংশনের উন্নতি ঘটে:

৬. লিভার ফাংশনের উন্নতি ঘটে:

শরীরকে চাঙ্গা রাখতে যে যে অঙ্গগুলির কোনও বিকল্প হয় না, লিভার তাদের অন্যতম। সেই কারণেই তো চিকিৎসকেরা লিভারের একটু বেশি মাত্রায় খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আর এই কাজটি যাতে আপনি ঠিক ঠিক মতো করতে পারেন, তার জন্যই তো বাঁধাকোপি খাওয়া জরুরি। কারণ এই সবজিটি খাওয়া শুরু করলে শরীরে ইনডোল-৩ কার্বোনাইল নামে একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা শরীরকে বিষ মুক্ত করার পাশাপাশি লিভার ফাংশনের উন্নতিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৭. শরীরকে বিষ মুক্ত করে:

৭. শরীরকে বিষ মুক্ত করে:

বাঁধাকোপির রসে উপস্থিত ভিটামিন কে এবং সি আমাদের শরীরের অন্দরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে একদিকে যেমন কোষেদের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়, তেমনি ক্যান্সারের মতো রোগ হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। প্রসঙ্গত, হার্টকে দীর্ঘদিন কর্মক্ষম রাখতেও এই দুই ভিটামিন দুটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এবার বুঝেছেন তো বাঁধাকোপির রসের উপকারিতা কতটা।

৮. ওজন কমাতে সাহায্য করে:

৮. ওজন কমাতে সাহায্য করে:

অতিরিক্ত ওজন আজ অভিশাপের সমান। কারণটা খুব সহজ! মাত্রাতিরিক্ত ওজন মানেই তার লেজুর হবে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল এবং হার্টের রোগের মতো মারণ ব্যাধি। আর এমনটা হলে জীবনে একেবারেই শান্তি থাকবে না, তা কি আর বলে দিতে হবে। তাই কোমরের মাপ যদি বাড়তে শুরু করে, তাহলে আজ থেকেই বাঁধাকোপি দিয়ে বানানো নানা পদ রস খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দ্রুত ওজন কমে যাবে। আসলে নিয়মিত এই সবজিটি খেলে ইনটেস্টটাইনের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। আর এমনটা হলে মেদ বৃদ্ধির আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে নানাবিধ পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

Read more about: শরীর রোগ
English summary

ক্রসিফেরাস পরিবারের এই সদস্যটিকে কাজে লাগিয়ে বানানো নানা মুখরোচক বাঙালি পাখোয়ান খাওয়া শুরু করলে মেলে নানা শরীরিক উপকারিতা। বিশেষত ওয়েদার চেঞ্জের সময় শরীরকে চাঙ্গা রাখতে এই ঘরোয়া ঔষধিটির কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে।

The health benefits of cabbage include its frequent use as a treatment for constipation, stomach ulcers, headaches, obesity, skin disorders, eczema, jaundice, scurvy, rheumatism, arthritis, gout, eye disorders, heart diseases, and Alzheimer’s disease.
Story first published: Saturday, February 17, 2018, 15:51 [IST]
We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more