তামার গ্লাসে জল পান করলে কী কী উপকার মেলে জানা আছে?

Written By:
Subscribe to Boldsky

জলের মধ্যে থাকা লক্ষাধিক মাইক্রোঅর্গেনিজম, মোল্ড, ফাঙ্গাস এবং ব্য়াকটেরিয়াদের মেরে ফেলতে তামার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে তামার একাধিক গুণাগুণ জলের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করার ফলে কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। প্রসঙ্গত, তামায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা একদিকে যেমন ক্যান্সার বিরোধী, তেমনি অন্যদিকে শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বের করে দিতেও সাহায্য করে। তাই তো প্রতিদিন কম করে ২-৩ গ্লাস জল তামার গ্লাসে রেখে পান করলে নানাবিধ শারীরিক উপকার পাওয়া যায়।

প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে, খালি পেটে তামার পাত্রে রাখা জল পান করলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে যে যে উপকার মেলে, সেগুলি হল...

১. অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমে:

১. অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমে:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে তামার পাত্রে জল খাওয়া শুরু করলে শরীরের অন্দরে তামার মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে একদিকে যেমন কোষেদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তেমনি আয়রনের শোষণ হারও বেড়ে যেতে শুরু করে। ফলে লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে অ্যানিমিয়ার মতো রোগের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না।

২. ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে:

২. ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে:

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হল ক্যান্সার বিরোধী। তাই শরীরে যত অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ বাড়তে থাকবে, তত দূরে পালাবে কর্কট রোগ। কিন্তু শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়বে কীভাবে? এক্ষেত্রে প্রতিদিন তামার গ্লাসে জল খেলেই কেল্লাফতে! কারণ তামায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা জলের সঙ্গে মিশে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে কোষেদের বিভাজন যাতে ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে দেহের অন্দরে কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন হয়ে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়।

৩. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

৩. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

তামার এমন কিছু গুণ রয়েছে যা চোখের পলকে পাকস্থলীতে উপস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে। ফলে আলসার, বদহজম এবং স্টমাক ইনফেকশনের মতো রোগ হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এখানেই শেষ নয়, স্টমাকে জমে থাকা ক্ষতিকর টক্সিনদের বের করে দেওয়ার পাশাপাশি লিভার এবং কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়াতেও দারুন কাজে আসে তামা। তাই তো প্রতিদিন তামার গ্লাস খাওয়ার পরামর্শ দেন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকেরা।

৪. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

৪. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে:

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির করা এক গবেষণা অনুসারে কপার বা তামা হার্ট অ্যাটাক, কোলেস্টরল এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো মারণ রোগকে একেবারে ধারে কাছে ঘেঁষতে দেয় না। ফলে আয়ু তো বাড়েই, সেই সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও সুন্দর হয়ে ওঠে।

৫.ওজন হ্রাস পায়:

৫.ওজন হ্রাস পায়:

তামার গ্লাসে জল খাওয়ার অভ্যাস করলে একদিকে যেমন হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, তেমনি শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বিও ঝড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মেদ কমতে থাকে।

৬. শরীর এবং ত্বকের বয়স কমে:

৬. শরীর এবং ত্বকের বয়স কমে:

এবার বুঝতে পরেছেন তো কেন তামার গ্লাসের জলকে অমৃতের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এই ঘরোয়া পদ্ধতিটির সাহায্য নিলে বলিরেখা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে টক্সিক উপাদানেরাও শরীরের আর কোনও ক্ষতি করতে পারে না। ফলে খাতায় কলমে বয়স বাড়লেও ত্বক এবং দেহের উপর এর কোনও চাপ পারে না।

৭. সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে:

৭. সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে:

জলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ক্ষতিকারক জীবাণুদের দ্রুত মেরে ফেলে কপার। তাই তো তামার পাত্রে জল খাওয়া শুরু করলে ছোট-বড় নানা ধরনের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে ই.কোলাই এবং এস.অরিয়াসের মতো ব্যাকটেরিয়াও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৮. ক্ষত সারে দ্রুত:

৮. ক্ষত সারে দ্রুত:

অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজে পরিপূর্ণ থাকার কারণে শরীরে তামার পরিমাণ যত বাড়তে থাকে, তত দ্রত ক্ষতও সারতে শুরু করে। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে একাধিক সংক্রমণের প্রকোপ একেবারে কমে যায়।

৯. আর্থ্রাইটিসের কষ্ট কমে:

৯. আর্থ্রাইটিসের কষ্ট কমে:

এই রোগে আক্রান্ত হওয়া মানেই জয়েন্ট পেন হয়ে উঠবে রোজের সঙ্গী। ফলে স্বাভাবিক হাঁটা-চলার উপর একেবারে ফুল স্টপ পরে যাবে। কিন্তু তামাকে সঙ্গে রাখলে দেখবেন আর এমন কষ্ট পেতে হবে না। কীভাবে? তামায় রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ, যা আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা শুধু নয়, শরীরের যে কোনও প্রদাহ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, তামায় এমন কিছু উপাদান আছে যা হাড়ের গঠন মজবুত করতে দারুন কাজে আসে। তাই ৪০-এর পর থেকে মহিলাদের নিয়ম করে তামার জল খাওয়া উচিত। কারণ নানা কারণে বেশিরভাগ মহিলাদের শরীরেই ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকে। ফলে এক সময় গিয়ে আর্থ্রাইটিসের মতো হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

১০. ব্রেনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

১০. ব্রেনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত তামার পাত্রে জল পান করলে দেহের অন্দরে তামার ঘাটতি দূর হয়। যার প্রভাবে মস্তিষ্কের অন্দরে থাকা নিউরনদের ক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে ব্রেন পাওয়ার বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে মস্তিষ্ক এত দ্রুত কাজ করা শুরু করে দেয় যে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি বাড়তেও সময় লাগে না।

১১. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে:

১১. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে:

তামা, ত্বকের অন্দরে মেলানিনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্কিন টোনের উন্নতি ঘটার পাশাপাশি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে মুখ মন্ডল বেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    জলের মধ্যে থাকা লক্ষাধিক মাইক্রোঅর্গেনিজম, মোল্ড, ফাঙ্গাস এবং ব্য়াকটেরিয়াদের মেরে ফেলতে তামার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে তামার একাধিক গুণাগুণ জলের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করার ফলে কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

    Storing water in a copper vessel creates a natural purification process. It can kill all the microorganisms, molds, fungi, algae and bacteria, present in the water that could be harmful to the body and make the water perfectly fit for drinking. In addition, water stored in a copper vessel, preferably overnight or at least for four hours, acquires a certain quality from the copper. Copper is an essential trace mineral that is vital to human health. It has antimicrobial, antioxidant, anti-carcinogenic and anti-inflammatory properties. It also helps neutralize toxins.
    Story first published: Friday, March 16, 2018, 17:01 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more