রক্তে বিষের পরিমাণ বেড়ে গেলে কিন্তু বিপদ! আচ্ছা আপনার রক্ত বিষিয়ে যায়নি তো?

Subscribe to Boldsky

একাধিক স্টাডেতে দেখা গেছে পরিবেশ এবং খাবারে উপস্থিত নানাবিধ বিষাক্ত উপাদান সারা দিন ধরে প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে থাকে। আর যখন রক্তে এইসব বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন একের পর এক রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। বিশেষত নানাবিধ ত্বকের রোগের প্রকোপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই তো রক্তকে সব সময় পরিষ্কার রাখাটা একান্ত প্রয়োজন।

এখন প্রশ্ন হল রক্তে ক্ষতিকর উপদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কীভাবে বোঝা সম্ভব? এক্ষেত্রে প্রথমেই ব্রণর প্রকোপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে সোরিয়াসিসের মতো রোগও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। তবে এখানেই শেষ নয়, রক্ত যেহেতু শরীরের প্রতিটি কোণায়, প্রতিটি অংশে পৌঁছে যায়, তাই রক্ত যদি বিশুদ্ধ না থাকে, তাহলে কিন্তু একে একে শরীরের বাকি অংশের উপরও তার প্রভাব পরতে শুরু করে। ফলে আয়ু কমতে শুরু করে চোখে পরার মতো। তাই তো প্রতি মুহূর্তে সাবধান থাকাটা জরুরি! কিন্তু প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করার পরেও যদি রক্তে বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তাহলে কী করণীয়? সেক্ষেত্রে এই প্রবন্ধে আলোচিত ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতিগুলিকে কাজে লাগাতে হবে। আসলে এমনটা করলে রক্ত ময়লা হয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগই থাকবে না। আর রক্ত বিশুদ্ধ থাকলে দেখবেন ত্বকের রোগ তো দূরে থাকবেই, সেই সঙ্গে শরীরও একেবারে চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

তাহলে আর অপেক্ষা কিসের চলুন জেনে নেওয়া যাক রক্তকে বিশুদ্ধ রাখার ঘরোয়া উপায়গুলি সম্পর্কে। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত যে যে খাবারগুলি খেতে হবে, সেগুলি হল...

১. বাদাম:

১. বাদাম:

একাধিক গবেষণা অনুসারে নিয়মিত এক মুঠো করে বাদাম খাওয়া শুরু করলে শরীরের অন্দরে ফাইবারের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ভিটামিন ই-এর ঘাটতিও দূর হয়, যার প্রভাবে রক্তে উপস্থিত টক্সিক উপাদানেরা শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরের অন্দরে বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। সেই সঙ্গে কমে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে পরার সম্ভাবনাও।

২. ব্রকলি:

২. ব্রকলি:

এতে প্রচুর মাত্রায় ডিটক্স এজেন্ট বা ময়লা বের করে দেওয়ার উপাদান রয়েছে। তাই তো প্রতিদিন এই সবজিটি খেলে রক্ত ময়লা হয়ে যাওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না। প্রসঙ্গত, রক্তের কোণায় কোণায় লুকিয়ে থাকা ময়লাকে টেনে বার করতে ব্রকলি দারুন কার্যকরী, তাই তো রক্ত বিশুদ্ধ করতে ব্যবহৃত ঘরোয়া চিকিৎসাগুলির মধ্য়ে এটি এত জনপ্রিয়।

৩. বিটরুট:

৩. বিটরুট:

এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রপাটিজ, যা শরীরকে নানা ক্ষতিকর উপাদানের হাত থেকে রক্ষা করে। শুধু তাই নয়, লিভারের কর্মক্ষমতা বারাতেও বিটরুট দারুন কাজে আসে। আর একবার লিভার চাঙ্গা হয়ে গেলে শরীর থেকে বিনা বাঁধায় ক্ষতিকর সব বিষাক্ত উপাদানগুলিও খুব সহজে বেরিয়ে যায়।

৪. লেবু:

৪. লেবু:

শরীরে ক্ষতিকর টক্সিনের মাত্রা যত বৃদ্ধি পাবে, তত রক্ত ময়লা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। লেবু নানাভাবে শরীর থেকে এইসব বিষগুলিকে বের করে দেয়। ফলে রক্ত খারাপ হয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগই পায় না। এখানেই শেষ নয়, লেবুর মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীরে উপস্থিত বিশেষ কিছু এনজাইমের কর্মক্ষতা বৃদ্ধি করে। এই এনজাইমগুলি শরীরে উপস্থিত টক্সিনগুলিকে দ্রবণীয় উপাদানে পরিবর্তিত করে দেয়। ফলে সেগুলি সহজে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। আর যেমনটা আগেই বলেছি, শরীরে টক্সিনের মাত্রা যত কমবে, তত রক্ত বিশুদ্ধ থাকবে।

৫. আদা:

৫. আদা:

এই মশলাটি সেই আদি কাল থেকে নানা রোগের চিকিৎসায় ব্য়বহৃত হয়ে আসছে। এতে কার্কিউমিন নামে এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রচুর মাত্রায় রয়েছে, যা রক্তকে শুদ্ধ করার পাশাপাশি একাধিক রোগের প্রকোপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো প্রতিদিন যদি অল্প করে হলুদ খাওয়া যায়, তাহলে কিডনি এবং হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, ফলে শরীর থেকে টক্সিন বেশি মাত্রায় বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।

৬. করলা:

৬. করলা:

আমার মতই আপনারা নিশ্চয় ছোট বেলা থেকে শুনে আসছেন তেঁতো খেলে শরীর ভাল থাকে! একথাটি বাস্তবিকই সত্যি যে করলা জাতীয় তেঁতো খাবার খেলে রক্ত পরিষ্কার হয়, ফলে নানা রোগের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীর বেঁচে থাকে। প্রসঙ্গত, করলায় প্রচুর মাত্রায় ডিটক্সিফাই এজেন্ট রয়েছে, যা রক্ত থেকে ক্ষতিকর উপাদানকে টেনে টেনে শরীর থেকে বার করে দেয়। ফলে সোরিয়ায়িস এবং ব্রণর মতো ত্বকের রোগের প্রকোপ যেমন কমে, তেমনি নানা ধরনের জটিল শারীরিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

৭.আমলকি:

৭.আমলকি:

রক্ত শুদ্ধ করতে এই ফলটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতিতেও এই ফলটি দারুন কাজে আসে। ফলে সার্বিকভাবে যদি শরীর সুস্থ রাখতে চান তাহলে প্রতিদিন খেতেই হবে গুস বেরি।

৮. গাজর:

৮. গাজর:

রক্ত ময়লা হয়ে যাওয়ার কারণে সরিয়াসিস সহ যেসব ত্বকের রোগ হয়, সেগুলির প্রকোপ কমাতে গাজরের কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। প্রসঙ্গত, গাজরে রয়েছে গ্লটেথিয়ান নামে একটি উপাদান, যা একপ্রকার ক্লিনসিং এজেন্ট, অর্থাৎ রক্তকে পরিষ্কার করতে এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া এই সবজিটিতে রয়েছে বিপুল পরিমাণে ভিটামিন- এ, বি, সি এবং কে এবং পটাশিয়াম। এই সবকটি উপাদানই শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে দারুন কাজে আসে। তাই যখনই বুঝবেন রক্ত ময়লা হতে শুরু শুরু কেরেছে, গাজর খাওয়া শুরু করবেন, দেখবেন দারুন ফল পাবেন।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শরীর রোগ
    English summary

    Natural Foods That Purify Blood And Keep You Healthy

    A detox of your body wouldn’t be complete without purifying your blood. To ensure blood health, you'll also need to cleanse your kidneys and liver. Natural blood purifiers like cabbage, lemon, and garlic can do exactly this for you. Pectin-rich fruits such as apples, pears, and guavas, fiber-rich foods like oats, and good old water also flush toxins from your blood and body. Together these can be your A-list of natural blood purifiers!
    Story first published: Monday, June 11, 2018, 16:59 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more