প্রাণ ফিরে পেতে প্রাণ পাত করতে হবে না!

দুধ-দই সহ আরও যেসব দুগ্ধজাত খাবার রয়েছে, তাতে টাইরোসিন নামে একটি উপাদান থাকে, যা স্ট্রেস কমাতে দারুন কাজে আসে।

By Nayan

আচ্ছা কখনও আপনাদের মনে হয়েছে বেঁচে থাকাটা খুব কষ্টকর? না, সাধারণত মনে হয় না এমনটা। হওয়ার কথাও না, যতক্ষণ না কোনও রোগ ঘারে চাপছে। একেবারেই! একদিম ঠিক বলেছেন। তাই তো কোনও রোগ, বিশেষত যে যে মারণ রোগগুলি নিজেদের ফনা তুলে ধেয়ে আসছে আমাদের দিকে, তারা যাতে কোনওভাবেই ছোবল মারতে না পারে, সে দিকে খেয়াল রাখাটা তো একান্ত প্রয়োজন, তাই না! না হলে যে বেজায় বিপদ!

সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৬ সালে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং হার্টের রোগের মতো ননকমিউনিকেবল ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আর এই সবকটি রোগেই বেশি মাত্রায় আক্রান্ত হচ্ছে যুবসমাজ। শুধু তাই নয়, আক্রান্তের সংখ্যাটা ক্রমণ বাড়ছে। প্রসঙ্গত, এই রিপোর্টটিতে আর বলা হয়েছে, যে যে ননকমিউনিকেবল ডিজডিজের প্রকোপ গত কয়েক বছরে সবথেকে বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল উচ্চ রক্তচাপ। সেই কারণেই তো চিকিৎসকেরা আরও চিন্তায় পরে গেছেন। কারণ রক্তচাপ ওঠানামা করলে হার্টের উপর মারাত্মক চাপ পরে। ফলে একদিকে যেমন হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়ে, তেমনি নানাবিধ হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

এখন প্রশ্ন হল, উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের রোগে আক্রান্তের সংখ্যাটা এত বাড়ছে কেন? বেশ কিছু কেস স্টাডি অনুসারে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এবং মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে স্ট্রেসের কারণে কম বয়সেই শরীরে এসে বাসা বাঁধতে প্রেসারের রোগ, যা ধীরে ধীরে হার্টের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাচ্ছে। প্রসঙ্গত, একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কর্মরত মোট কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশই স্ট্রেসের শিকার, যাদের মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশই ওবেসিটির সমস্যায় ভুগছে। আর একথা তো সবারই জানা আছে যে ওজন যত বাড়তে থাকবে, তত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টরল এবং হার্টের রোগের মতো নন-কমিউনিকেবল ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। তাই স্ট্রেস কমানো যায় কিভাবে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর এই কজটি করবেন কিভাবে?

গবেষণা বলছে এমন কিছু খাবার রয়েছে যা স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি এবং মানসিক অবসাদ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এই খাবারগুলি যদি নিয়মিত খাওয়া যায়, তাহলে মানসিক চাপ কমাতে কোনও সমস্যাই হয় না।

কী কী খাবার এক্ষেত্রে সঙ্গে রাখাটা জরুরি?

১. দই:

১. দই:

দুধ-দই সহ আরও যেসব দুগ্ধজাত খাবার রয়েছে, তাতে টাইরোসিন নামে একটি উপাদান থাকে, যা শরীরে প্রবেশ করার পর সেরোটনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে নিমেষে মন ভাল হয়ে যায়। সেই সঙ্গে স্ট্রেস এবং মানসিক অবসাদও কমতে শুরু করে। আরও একভাবে দুই বা দুধ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে দইয়ের অন্দরে থাকা প্রোটিন শরীর প্রবেশ করার পর মস্তিষ্কের অন্দরে নিউরোহরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ধীরে ধীরে ব্রেন সেলগুলি শান্ত হতে শুরু করে। আর এমনটা হওয়া মাত্র স্ট্রেস লেভেলও কমতে থাকে।

২.ডার্ক চকোলেট:

২.ডার্ক চকোলেট:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে একটু তিতকুটে খেতে এই বিশেষ ধরনের চকোলেটটি স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে অন্যান্য স্ট্রেস সম্পর্কিত বায়ো-কেমিকালের ভারসাম্য ঠিক রাখতেও সাহায্য করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মানসিক চাপ কমতে থাকে। আসলে ডার্ক চকোলেটে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যে শুধু স্ট্রেস কমায়, এমন নয়। সেই সঙ্গে আরও নানা রকমের জটিল রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৩.সাইট্রাস ফল:

৩.সাইট্রাস ফল:

লেবু, কমলা লেবু অথবা মৌসাম্বি লেবুর মতো পছন্দের যে কোনও একটা সাইট্রাস ফল প্রতিদিন খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরে ভিটামিন সি-এর মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে স্ট্রেস লেভেল কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, সাইট্রাস ফলের পাশাপাশি যে কোনও ফলেই প্রাকৃতিক সুগার রয়েছে, যা মানসিক চপা কামতে দারুনভাবে সাহায্য করে থাকে।

৪.বাদাম:

৪.বাদাম:

এতে থাকা ভিটামিন বি২, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্ক একদিকে সেরাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দিয়ে স্ট্রেস কমাতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি অন্যদিকে মানসিক চাপ সম্পর্কিত নানাবিধ শারীরিক সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। এক কথায় বলা যেতে পারে স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি কমাতে বাদামের বাস্তবিকই কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৫. মাছ:

৫. মাছ:

প্রতিদিন যদি মাছ খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন, তাহলে স্ট্রেস নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না। কারণ এতে উপস্থিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, সেরাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি কমতে শুরু করে।

৬. রসুন:

৬. রসুন:

স্ট্রেস লেভেল বাড়তে শুরু করলে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রাও বাড়তে থাকে। যে কারণে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিদিন যদি এক কোয়া করে রসুন খাওয়া শুরু করেন, তাহলে স্ট্রেস তো কমেই। সেই সঙ্গে ব্লাড প্রেসার এবং বাজে কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ফলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

Story first published: Saturday, September 16, 2017, 12:22 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion