চশমা না পাসান্দ? তাহলে এই ব্যায়ামগুলি করতে ভুলবেন না যেন!

আচ্ছা আপনাদের কী মনে হয়, চোখ কি কখনও অসুস্থ হয়? ঠিক কী উত্তর দেবেন বুঝতে পারছেন না, তাই তো?

By Nayan

আচ্ছা আপনাদের কী মনে হয়, চোখ কি কখনও অসুস্থ হয়? ঠিক কী উত্তর দেবেন বুঝতে পারছেন না, তাই তো? এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ আমরা কখনই চোখের দিকে নজর দিই না। তাই তো চোখ অসুস্থ হলেও সে খবর আমাদের কাছে পৌঁছায় না। আচ্ছা এবার বলুন তো কখনও কখনও চোখ থেকে জল পড়া, লাল হয়ে যাওয়া এবং ভিষণ রকম চুলকানির মতো সমস্যাগুলি হয়?

হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক বলেছেন। এমনটা হয় তো! এই সমস্যাগুলিই আমাদের জানান দিতে থাকে যে আমাদের চোখ কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পরেছে। শুধু তাই নয়, নয়ন যুগলের অসুস্থ হতেও যে আর দেরি নেই, তাও এই লক্ষণগুলি দেখেই প্রমাণ পাওয়া যায়। এমন অবস্থায় অনেকেই আমরা কিছু করি না। কিন্তু যেটা করা উচিত, তা হল কিছু ব্যায়াম, যা চোখের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই হে বন্ধু আপনার সারা দিন যদি হয় টিভি, নয়তো কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে কাটে, তাহলে বাকি প্রবন্ধে চোখ রাখতে ভুলবেন না যেন! না হলে কিন্তু হরলিক্সের বোতলের মতো পুরু পাওয়ারের লেন্সওয়ালা চশমা পরে ঘুরে বেরাতে হবে!

চোখের ক্ষমতা বাড়াতে সাধারণত যে যে সহজ ব্যায়ামগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, সেগুলি হল...

১. হাতের তালু আর চোখ:

১. হাতের তালু আর চোখ:

খুব ব্যস্ত নাকি কম্পিউটারে। তাহলে বন্ধু একটু সময় বার করে কয়েক মিনিট হাতের তালুটা চোখের উপর রাখুন দেখি! তবে চোখের উপর চাপ দেবেন না যেন! এমনটা কয়েক মিনিট করে রাখলেই দেখবেন মন এবং চোখের স্ট্রেস কমতে থাকবে। সেই সঙ্গে চোখের ক্লান্তিও দূর হবে। আর চাখের ক্লান্তি দূর হলে কোনও ধরনের আই প্রবলেম হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমবে, তেমনি দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও আর থাকবে না।

২. কথায় কথায় চোখ পিটপিট করতে ভুলবেন না যেন!

২. কথায় কথায় চোখ পিটপিট করতে ভুলবেন না যেন!

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে কম্পিউটার, মোবাইল বা যে কোনও ডিজিটাল স্ক্রিনে কাজ করার সময় আমাদের চোখের পাতা একেবারেই পরতে চায় না। ফলে চোখের উপর চাপ বাড়তে শুরু করে। সেই কারণেই তো যারা দিনের বেশিরভাগ সময় কম্পিউটারে কাজে করেন, তাদের কিছু সময় অন্তর অন্তর চোখ পিট পিট করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এমনটা করলে চোখের ক্লান্তি দূর তো হয়ই। সেই সঙ্গে চুলকানি এবং ড্রাই আইয়ের মতো সমস্যাও দূর হয়। এখন প্রশ্ন হল কতবার চোখ পিট পিট করতে হবে? চিকিৎসকেরা বলে থাকেন কম করে ৫ সেকেন্ড যদি এমনটা করা যায় তাহলে চোখের উপকার মেলে।

৩. বলের মতো ঘোরাতে থাকুন চোখের মণি:

৩. বলের মতো ঘোরাতে থাকুন চোখের মণি:

আপনি কি চান বয়স বাড়লেও চোখ তরতাজা থাকুক? তাহলে বন্ধু দিনের মধ্যে কম করে ২ মিনিট খরচ তো করতেই হবে! আর এই দু মিনিটে করবেন কী? তেমন কিছু না! প্রথমে ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং তারপর ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে চোখের মণিকে ঘোরাতে হবে। তবে পুরো ব্যায়ামটা খুব ধীরে ধীরে করবেন। এমনটা প্রতিদিন ২-৩ মিনিট করলেই দখবেন দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে মনযোগও বৃদ্ধি পাবে।

৪. ঠান্ডা-গরম জলে সেক দিতে ভুলবেন না:

৪. ঠান্ডা-গরম জলে সেক দিতে ভুলবেন না:

একটা বাটিতে গরম জল আর আরেকটা বাটিতে ঠান্ডা জল নিয়ে নিন। তারপর একটা টাওয়াল গরম জলে ডুবিয়ে কিছু সময় চোখের উপর রাখুন। তরপর জল দিয়ে একই ভাবে চোখে সেক দিন। এমনটা কয়েক মিনিট করলে সারা দিন ধরে কাজ করতে করতে চোখের যে ক্ষতি হয়েছে, তা ঠিক হতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে কান্তি দূর হবে এবং দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটবে।

৫. ফোকাস শিফটিং এক্সারসাইজ:

৫. ফোকাস শিফটিং এক্সারসাইজ:

চোখের পেশির ক্ষমতা বাড়াতে এই ব্যায়ামটি দারুন কাজে আসে। এক্ষেত্রে চোখের একেবারে সামনে যে বস্তুটি আছে তার দিকে তাকান। ৫ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকার পর তার থেকে একটু দূরে রয়েছে এমন কিছুর দিকে এক দৃষ্টিতে পুনরায় ৫ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এমনটা করতে থাকলে চোখের পেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আর এমনটা হলে স্বাভাবিকভাবেই দৃষ্টিশক্তিও বাড়তে শুরু করে।

Story first published: Wednesday, December 20, 2017, 15:18 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion