সাবধান: পৃথিবী কিন্তু আরও গরম হচ্ছে!

গতকাল "নাসা" একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে ১৮৮০ সালের পর সবথেকে উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড বুকে নাম লিখিয়েছে ২০১৭ সাল।

By Nayan

গতকাল "নাসা" একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে ১৮৮০ সালের পর সবথেকে উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড বুকে নাম লিখিয়েছে ২০১৭ সাল। গত বছর গ্লোবাল ওয়ার্মিং সর্বচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছে, যার মারাত্মক প্রভাব পরছে প্রকৃতি এবং মানব শরীরের উপর। তাই সাবধান! যদিও সাধারণ মানুষ থেকে উন্নত এবং উন্নয়শীল দেশের মাথারা, কেউই এই বিষয়ে সচেতন নয়। সবাই এতটাই উদাসিন যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে হাতের বাইরে বেরিয়ে গেলেও সেই বিষয়ে কারও মাথা ব্যথা নেই।

দা গ্লোবাল সার্ফেস টেম্পারেচার অব দা আর্থ নামে যে সমীক্ষাটি চালানো হয়েছিল, তাতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হারের দিক থেকে ২০১৭ সাল দ্বিতীয় স্থান নিয়েছে, প্রথম স্থানে রয়েছে ১৮৮০ সাল। শুধু তাই নয়, নাসার বিজ্ঞানীদের মতে এখনই যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না যায়, তাহলে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা এতটাই কমে যাবে যাবে যে মানুষের বেঁচে থাকা এক প্রকার কঠিন হয়ে দাঁড়াবে, যেমনটা হয়েছিল আইস এজের সময়। তাই তো আগামী ৩০ বছর পরের পরিস্থিতিকে বিজ্ঞানীরা "মিনি আইস এজ" নামে ডাকা শুরু করেছেন।

প্রসঙ্গত, নাসার রিপোর্ত অনুসারে গত বছর গ্লোবাল অ্যাভারেজ টেম্পারেচর ছিল ১.৬২ ডিগ্রি ফারেনহাইট অথবা ০.৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত ৪০ বছরে সবথেকে বেশি। শুধু তাই নয়, গত সেঞ্চুরিতে পৃথিবীর মাটির গড় তাপমাত্রাও প্রায় ২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ক্রমাগত বাড়েই চলেছে। এমনটা যদি চলতে থাকে তাহলে নীল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আর কতদিন থাকবে, সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। এখন প্রশ্ন হল কেন বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা? বিজ্ঞানীদের মতে পরিবেশ দূষণ এতটা বৃদ্ধি পয়েছে য়ে কার্বোন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে শুরু করেছে, যা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর পিছনে প্রথমিক কারণ। সেই সঙ্গে তো রয়েছেই আরও নানা বিষয়, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়ানক করে তুলছে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে তাপমাত্রা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তত মানুষের শরীরের উপরর তার কুপ্রভাব পরছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে নানা রোগের প্রকোপও। যেমন ধরুন...

১. ভাসকুলার ডিজিজের প্রকোপ বাড়ছে:

১. ভাসকুলার ডিজিজের প্রকোপ বাড়ছে:

একাধিক স্টাডি করে দেখা গেছে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে সারা বিশ্বে এরিথ্রামেলালজিয়া নামক একটি ভাসকুলার ডিজিজের প্রকোপ মারাত্মক বৃদ্ধি পয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত হলে সারা শরীরে প্রচন্ড জ্বালা হতে থাকে, যেমনটা পুড়ে গেলে সাধারণত হয়। আসলে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিরা এবং ধমনীর সংকোচন এবং প্রসারণ স্বাভাবিক নিয়ম মেনে হয় না, যে কারণে এমন ধরনের রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা বাড়ে। আর এমনটা হলে সারা শরীরে রক্তচালাচলও ঠিক মতো হতে পারে না। ফলে আরও নানা ধরনের রোগের আক্রমণ ঘটার সম্ভাবনা বাড়ে।

২. সংক্রমণের মতো রোগের আক্রমণ বাড়ছে:

২. সংক্রমণের মতো রোগের আক্রমণ বাড়ছে:

পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ার কারণে আবহাওয়ায় মারাত্মক পরিবর্তন হচ্ছে। আর এই কারণে নানাবিধ জীবাণুর সংখ্যাও প্রতিনিয়ত যাচ্ছে বেড়ে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে সংক্রমক ডিজিজের প্রকোপ। তাই তো এমন পরিস্থিতিতে বেশি করে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। কারণ ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে খুব শক্তিশালী করে তোলে। ফলে ইনফেকশনের কবলে পরার আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমে।

৩.মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে মারাত্মকভাবে:

৩.মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে মারাত্মকভাবে:

তাপমাত্রা বাড়ার কারণে পরিবেশে এমন পরিবর্চতন আসছে যে তার প্রভাবে মাশাদের বংশবৃদ্ধি বাড়ছে চোখে পরার মতো। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। একটু খেয়াল করে দেখলেই বুঝতে পারবেন কীভাবে গত কয়েক বছর ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটেছে। আর এমনটা হয়েছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর কারণেই। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার কারণে কোন কোনও জায়গায় যেমন বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে, তেমনিই বেড়েছে খরার প্রবণতাও। এই কারণেও ভেক্টরবর্ন ডিজিজের প্রকোপ বেড়েছে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।

৪. কলেরা রোগ এসেছে ফিরে:

৪. কলেরা রোগ এসেছে ফিরে:

নদী এবং সমুদ্রের অন্দরে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে জলে নাইট্রোজ এবং ফসফরাসের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে, যার প্রভাবে কলেরা ব্যাকটেরিয়ার জন্ম ঘঠছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ফলে জলের মাধ্যমে সেই জীবাণুর প্রবেশ ঘটছে শরীরের অন্দরে। এবার নিশ্চয় বুঝেতে পরেছেন কেন ডাক্তাররা জল ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। প্রসঙ্গত, এল নিনোর কারণেও কলেরার মতো রোগর প্রকোপ বাড়ছে। কারণ আবহাওয়ায় পরিবর্তন হওয়ার কারণে সমুদ্রের স্রোতের পরিবর্তন হচ্ছে, ফলে উপকূলবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে, যে কারণে কলেরার জীবাণুর বংশবৃদ্ধি করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। তাই গাঙ্গেয় উপকূলে অবস্থিত আমাদের রাজ্যের নাগরিকদের এই বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে, না হলে কিন্তু বেজায় বিপদ!

৫. মস্তিষ্কের উপর খারাপ প্রভাব পরছে:

৫. মস্তিষ্কের উপর খারাপ প্রভাব পরছে:

২০১১ সালে হওয়া একটি গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে তাপমাত্রা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তত খারাপ প্রভাব পরছে ব্রেনের অন্দরে। বাড়ছে স্ট্রেস এবং ব্রেন ইনজুরির আশঙ্কাও। সেই সঙ্গে বাড়ছে অ্যাংজাইটি এবং মানসিক অবসাদের মতো রোগের প্রকোপও। আর যেমনটা সবারই জানা আছে যে মনাসিক অবসাদ বা স্ট্রেস কখনই একা আসে না। সঙ্গে নিয়ে আসে আরও নানা মারণ রোগকে। তাই এই বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতেও ভুলবেন না যেন!

Story first published: Wednesday, January 24, 2018, 11:15 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion