নিয়মিত মেথি খেলে শরীরের কত উপকার হয় জানা আছে ?

Written By:
Subscribe to Boldsky

এই গরমে পেট খারাপ, সেই সঙ্গে বদ-হজম এবং গ্য়াস অম্বলের সমস্য়া তো হবেই হবে। এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে ভারসা রাখতে পারেন মেথির উপর। কারণ পেট ঠান্ডা রাখতে মেথি ভেজানো জলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। সেই সঙ্গে শরীরকে নানাভাবে সুস্থ রাখতেও এই প্রকৃতিক উপাদনটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

এখন প্রশ্ন হল শরীরের ভাল-মন্দের সঙ্গে মেথি বীজের কী সম্পর্ক? গত কয়েক দশক ধরে স্বদেশ এবং বিদেশে হওয়া একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে মেথি বীজে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় প্রোটিন, উপকারি ফ্য়াট, ভাল কোলেস্টেরল, ডায়াটারি ফাইবার এবং আরও বেশ কিছু খনিজ এবং মিনারেল, যা নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। এই কারণেই তো এই গরমে যদি নিজেকে সুস্থ রাখতে হয়, তাহলে নিয়মিত মেথি বীজ খেতে ভুলবেন না যেন! প্রসঙ্গত, রোজের ডায়েটে মেথিকে অন্তর্ভুক্ত করলে যে যে উপকারগুলি পাওয়া যায়, সেগুলি হল...

১. যন্ত্রণা কমে:

১. যন্ত্রণা কমে:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে মেথি বীজে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের অন্দরে প্রদাহের মাত্রা কমায়। ফলে যে কোনও ধরনের যন্ত্রণা কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কমাতেও এই প্রকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

picture courtesy

২. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

২. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

বাঙালি মানেই অল্প-বিস্তর পেট রোগা! আর কেনই বা এমনটা হবে না বলুন, সারা বিশ্বে ভজনরসিক জাতিদের মধ্যে অন্যতম হলাম আমরা। তাই গ্যাস-অম্বল রোজের বন্ধু হবে, এ আর নতুন কথা কী! কিন্তু একটা সহজ উপায়ে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে পারেন কিন্তু। কিভাবে? বেশ কিছু কেস স্টাডি করে দেখা গেছে নিয়মিত নানাভাবে মেথি বীজ গ্রহন করলে বাওয়েল মুভমেন্টে উন্নতি ঘটে। ফলে পেট সংক্রান্ত আর কোনও সমস্যাই থাকে না। আসলে মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, নিয়মিত সকালে খালি পেটে মেথি ভেজানো জল খেলে কনস্টিপেশনের সমস্যাও অনেকাংশে দূর হয়।

picture courtesy

৩. খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে:

৩. খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে:

পরিসংখ্যান বলছে গত কয়েক দশকে আমাদের দেশের যুব সমাজের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পয়েছে। আর এমনটা হওয়ার পিছনে হাই কোলেস্টেরলের এবং উচ্চ রক্তচাপের ভূমিকাকে কোনওভাবেই অস্বীকার করা সম্ভব নয়। তাই তো ২০-৫০ বছর বয়সিদের নিয়মিত মেথি জল পান করা উচিত। কারণ এমনটা করলে মেথির শরীরে থাকা স্টেরিওডাল সেপোনিনস নামক একটি উপাদান কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে হার্টের আর্টারি আটকে গিয়ে হঠাৎ করে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৪. জ্বরের প্রকোপ কমে:

৪. জ্বরের প্রকোপ কমে:

ওয়েদার চেঞ্জের কারণে শরীর ভেঙেছে? সেই সঙ্গে জ্বরের এমন ঠেলা যে বিছানা ছাড়তে পারছেন না? তাহলে এক গ্লাস করে মেথি বীজের জল পান করা শুরু করুন, দেখবেন দারুন উপকার মিলবে। আসলে কী জানেন, মেথিতে থাকা বেশি কিছু উপকারি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এতটাই শক্তিশালী করে তোলে যে জ্বরের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, সর্দি-কাশি সারাতেও এই ঘরোয়া চিকিৎসাটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৫. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

৫. হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে:

গ্লেকটোম্যানান নাম একটি উপাদানের খোঁজ পাওয়া যায় মেথির শরীরে। এই উপাদানটি হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে এই প্রকৃতিক উপদানটায় উপস্থিত পটাশিয়াম, রক্তে নুনের পরিমাণ কমায়। ফলে ব্লাড প্রসোর নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে হার্ট অ্যাটাক এবং অন্যান্য হার্টের রোগ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে শূন্যে এসে দাঁড়ায়।

৬. হেয়ার ফলের মাত্রা কমে:

৬. হেয়ার ফলের মাত্রা কমে:

চুলের গোড়াকে শক্তপোক্ত করার মধ্যে দিয়ে হেয়ার ফল কমাতে মেথি বীজ ব্যাপকভাবে সাহায্য করে থাকে। এক্ষেত্রে ১ চামচ মেথি বীজ নিয়ে তার সঙ্গে ১ কাপ নারকেল তেল মিশিয়ে একটা মিশ্রন বানিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রনটি কম করে ৩ সপ্তাহ রেখে দেওয়ার পর তেলটা ছেঁকে নিতে হবে। এবার সেই তেলটা নিয়মিত স্কাল্পে লাগিয়ে মাসাজ করলেই দেখবেন কেল্লাফতে!

৭. ডায়াবেটিসের মতো রোগকে দূরে রাখে:

৭. ডায়াবেটিসের মতো রোগকে দূরে রাখে:

কম বয়সেই ব্লাড সুগার কি উর্ধমুখী? তাহলে তো নিয়মিত মেথি ভেজানো জল খাওয়া উচিত। এমনটা করলে শরীরে গ্লেকটোমেনানের পরিমাণ বাড়তে থাকে, যা শর্করার শোষণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে সুগার লেভেল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, মেথিতে উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এই কারণেও ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার কোনও সুযোগ থাকে না।

৮. ওজন কমায়:

৮. ওজন কমায়:

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে, জলে ভেজানো মেথি বীজ খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরে ফাইবারের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষিদে কমে যায়। এমনটা হওয়ার কারণে খাওয়ার পরিমাণেও লাগাম পরে। ফলে ওজন কমতে শুরু করে।

৯. ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে:

৯. ক্যান্সার রোগ দূরে থাকে:

রক্তে জমতে থাকা টক্সিক উপাদানের মাত্রা বাড়তে থাকলে শরীরের অন্দরে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। আর এখানেই মেথি বীজের ভূমিকাকে অস্বীকার করা যায় না। এই প্রকৃতিক উপাদানটি রক্তে ভেসে বেরানো টক্সিক উপাদানদের শরীর থেকে বার করে দেয়। ফলে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনাই থাকে না।

১০. কিডনি ফাংশানের উন্নতি ঘটে:

১০. কিডনি ফাংশানের উন্নতি ঘটে:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত মেথি বীজ খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে পলিফেনলিক ফ্ল্যাভোনয়েডের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এই উপাদানটি কিডনি ফাংশানের উন্নতি ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে কিডনি সেলের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।

Read more about: শরীর রোগ
English summary

এই গরমে পেট খারাপ, সেই সঙ্গে বদ-হজম এবং গ্য়াস অম্বলের সমস্য়া তো হবেই হবে। এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে ভারসা রাখতে পারেন মেথির উপর। কারণ পেট ঠান্ডা রাখতে মেথি ভেজানো জলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

enugreek seeds have been used as a condiment to promote better health and as a potent hair potion. But recent research indicates that they can do much more than that. From adding flavor to dishes and controlling diabetes to inducing labor, fenugreek seeds have had diverse benefits for your skin, hair, and health.
Story first published: Wednesday, March 21, 2018, 16:50 [IST]