পিঁয়াজকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে ত্বকের সুন্দর্য বাড়ানো যায় জানা আছে?

পেঁয়াজের অন্দরে উপস্থিত ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ডায়াটারি ফাইবার, ফ্লেবোনয়েড এবং নানাবিধ উপকারি ফাইটোকেমিকাল ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

By Nayan

শরীরকে চাঙ্গা রাখতে এই সবজিটি অনেকাংশেই যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতো ভূমিকা পালন করে থাকে, সে বিষয়ে নিশ্চয় অনেকের জানা আছে। কিন্তু এটা জানেন কি যে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতেও পিঁয়াজের কোনও বিকল্প হয় না!

আসলে পেঁয়াজের অন্দরে উপস্থিত ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ডায়াটারি ফাইবার, ফ্লেবোনয়েড এবং নানাবিধ উপকারি ফাইটোকেমিকাল ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে ছোট-বড় নানা ত্বকের রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। প্রসঙ্গত, চুলের সৌন্দর্য বাড়াতেও এই প্রকৃতিক উপাদানটিকে কাজে লাগানো যেতে পারে। তাই তো বলি আর অপেক্ষা না করে জেনে নিন কী কী উপায়ে কাজে লাগানো যেতে পারে চোখে জল এনে দেওয়া এই সবজিটিকে!

১. ত্বকের বয়স কমায়:

১. ত্বকের বয়স কমায়:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে পেঁয়াজে উপস্থিত ভিটামিন এ, সি এবং ই শরীরের অন্দরে প্রবেশ করার পর রক্তে মিশে থাকা টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে ত্বকের পরতে পরতে জমে যাকা ক্ষতিকর উপাদানদেরও নষ্ট করে দেয়। ফলে খাতায় কলমে বয়স বাড়লেও ত্বকের বয়স বাড়ার কোনও নামই নেয় না। প্রসঙ্গত, পেঁয়াজের অন্দরে থাকা নানাবিধ ফাইটোনিউট্রিয়েন্টও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই কম সময়েই যদি টানটান, প্রাণচ্ছ্বল ত্বক পেতে চান, তাহলে পিঁয়াজের রসকে কাজে লাগিয়ে ত্বকের পরিচর্য়া করতে ভুলবেন না যেন!

২. ব্রণর প্রকোপ কমায়:

২. ব্রণর প্রকোপ কমায়:

সারা মুখ কি ব্রণর ক্ষতে ভরে গেছে? তাহলে বন্ধু আজ থেকেই এই প্রাকৃতিক উপাদানটিকে কাজে লাগাতে শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপাকার পাবেন। কারণ পেঁয়াজের অন্দরে থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের কোষেদের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের কোনও খারাপ প্রভাব যাতে স্কিনের উপর না পরে, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্রণর মতো ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি যারা ইতিমধ্যেই এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে এক চামচ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে এক চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে সেই মিশ্রনটি ভাল করে মুখে লাগাতে হবে। ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর ধুয়ে ফেলেতে হবে মুখটা। এমনভাবে প্রতিদিন ত্বকের পরিচর্যা করলে দেখবেন ব্রণর প্রকোপ কমতে সময় লাগবে না। প্রসঙ্গত, নিয়মিত কাঁচা পিঁয়াজ খেলেও কিন্তু সমান উপকার পাওয়া যায়। তাই পিঁয়াজের রস যদি মুখে লাগাতে ইচ্ছা না করে তাহলেও এইভাবেও কিন্তু এই প্রকৃতিক উপাদানটিকে কাজে লাগাতে পারেন।

৩. স্কিন টোনের উন্নতি ঘটায়:

৩. স্কিন টোনের উন্নতি ঘটায়:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে পেঁয়াজে উপস্থিত ভিটামিন এ, সি, ফাইটোনিইট্রিয়েন্ট এবং ফাইটোকেমিকাল ত্বকের অন্দরে প্রবেশ করে একদিকে যেমন টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়, তেমনি মেলাটোনিনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে খুব কম সময়েই স্কিন টোনের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে সার্বিকভাবে ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। প্রসঙ্গত, পিঁয়াজের রস আরেকভাবেও স্কিন টোনের উন্নতি ঘটিয়ে থাকে। কীভাবে? এই সবজিটির অন্দরে থাকা নানাবিধ উপকারি উপাদান ত্বকের কোষের যাতে কোনওভাবে ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের সৌন্দর্য কমার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

৪. কালো ছোপ ছোপ দাগ মেটায়:

৪. কালো ছোপ ছোপ দাগ মেটায়:

খেয়াল করে দেখবেন অনেকের মুখেই নানা কারণে কালো কালো চোপের মতো দাগের সৃষ্টি হয়। হাজারো কসমেটিক্স ব্যবহারের পরেও এই ধরনের দাগকে মুছে ফেলা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। এক্ষেত্রে কিন্তু পিঁয়াজ দারুন কাজে আসতে পারে। আসলে এই সবজিটির অন্দরে থাকা ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে। সেই সঙ্গে স্কিন সেলের জন্ম হারকেও বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের যে কোনও ধরনের দাগ কমে যেতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, ডার্ক সারকেল, ডার্ক স্পট, পিগমেন্টটেশন এবং বলিরেকা কমাতেও এই ঘরোয়া টোটকাটি দারুন কাজে আসে। এক্ষেত্রে সম পরিমাণে পিঁয়াজের রস এবং দই মিশিয়ে সেটি মুখে লাগাতে হবে। তাহলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করবে।

৫. মৃত কোষের স্তরকে সরিয়ে দেয়:

৫. মৃত কোষের স্তরকে সরিয়ে দেয়:

প্রতিনিয়ত আমাদের ত্বকের একেবারে উপরের স্তরে মৃত স্কিন সেলেরা জমতে থাকে। এই স্তর কোনও সময় এতটা পুরু হয়ে যায় যে ত্বকের সৌন্দর্য কমতে একেবারে সময়ই লাগে না। তাই তো এক চামচ পিঁয়াজের রসের সঙ্গে হাফ চামচ দুধ এবং বেসন মিশিয়ে বানানো পেস্ট নিয়মিত মুখে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। এমনটা করলে মৃত কোষেদের পরত সরে যেতে সময় লাগে না। ফলে একদিকে যেমন স্কিন টোনের যেমন উন্নতি ঘটে, তেমনি সার্বিকভাবে সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়।

Story first published: Friday, February 16, 2018, 15:04 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion