অল্প দিনে সুন্দর-টানটান ত্বক পেতে এই ফেস প্যাকগুলি ব্যবহার করতে ভুলবেন না যেন!

ব্যবহার শুরু করুন এই প্রবন্ধে আলোচিত ফেস প্যাকগুলি। নানাবিধ ফল এবং প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে বানানো এই মাস্কগুলি মুখে লাগালে কোনও ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কমবে

By Nayan

কসমেটিক্স কিন্তু পি সি সরকার নয় যে ব্যবহার করবেন আর অমনি হয়ে উঠবেন ক্লিয়োপেট্রার মতো সুন্দরি। বরং সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলবে এমন দাবি করা ক্রিম যত মুখে ঘোষবেন, তত কিন্তু খারাপ হতে থাকবে স্কিন। ফলে সৌন্দর্য তো বাড়বেই না, উল্টে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই! তাহলে এখন প্রশ্ন হল ত্বককে সুন্দর করে তুলার উপায় কী?

এক্ষেত্রে একটাই উত্তর দেওয়া যেতে পারে, তা হল প্রকৃতির কোলে ফিরে আসুন। ব্যবহার শুরু করুন এই প্রবন্ধে আলোচিত ফেস প্যাকগুলি। নানাবিধ ফল এবং প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে বানানো এই মাস্কগুলি মুখে লাগালে কোনও ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তো কমবেই, সেই সঙ্গে স্কিন উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠতেও সময় লাগবে না।

তা কী সিদ্ধান্ত নিলেন বন্ধুরা? কসমেটিক্স ব্যবহার করবেন, না প্রকৃতির ছোঁয়ায় হয়ে উঠবেন ক্লিয়োপেট্রার মতো সুন্দরি?

প্রসঙ্গত, ত্বককে তার হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য ফিরিয়ে দিতে যে যে প্রকৃতিক উপাদনগুলিকে ব্যবহার করে ফেস প্যাক বানাতে হবে, সেগুলি হল...

১. পেঁপে এবং মধু:

১. পেঁপে এবং মধু:

একাধিক উপকারি উপাদানে সমৃদ্ধ এই দুই প্রকৃতিক উপাদনকে একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত মুখে লাগালে দারুন উপকার পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে ২ পিস পেঁপের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিয়ে বানাতে হবে এই ফেস প্য়াকটি। তারপর মুখটা ভাল করে পরিষ্কার করে পেস্টটি ভাল করে মুখে লাগাতে হবে। ১৫-২০ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এর পর পছন্দের কোনও ময়েসশ্চারাইজার ক্রিম মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করবেন।

২. কিউয়ি এবং অ্যাভোকাডো:

২. কিউয়ি এবং অ্যাভোকাডো:

দুটি ফলেই রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিটা-ক্যারোটিন। এই দুটি উপাদান ত্বকের অন্দরে লুকিয়ে থাকা টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে ত্বকের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটায়। ফলে স্কিন টোনের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। এখন প্রশ্ন হল কীভাবে বানাতে হবে এই ফেস প্যাকটি? এক্ষেত্রে ১টা অ্যাভোকাডো, ১ টা কিউয়ি এবং ১ চামচ মধুর প্রয়োজন পরবে। এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে একটা পেস্ট বানাতে হবে। সেই পেস্টটি মুখে এবং গলায় লাগিয়ে কম করে ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে। সময় হয়ে গেলে ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিয়ে ফেলতে হবে।

৩. কলা:

৩. কলা:

এই ফলটির অন্দরে থাকা পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার মধ্যে দিয়ে স্কিনকে প্রাণবন্ত করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, শরীরে জমে থাকা টক্সিক উপাদানের খারাপ প্রভাব যাতে ত্বকের উপর না পরে, সেদিকেও খেয়াল রাখে এই উপকারি উপাদানটি। এই কারণেই তো ত্বকের যত্নে নিয়মিত কলা দিয়ে বানানো পেস্ট মুখে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। প্রসঙ্গত, এই পেস্টটি বানাতে অর্ধেক কলা, হাফ চামচ মধু এবং ১ চামচ লেবুর রস মেশাতে হবে। তারপর সবকটি উপাদান ভাল করে মেশানোর পর মিশ্রনটি মুখে লাগিয়ে কম করে ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে।

৪.টমাটো:

৪.টমাটো:

লাইকোপেন নামক একটি উপকারি উপাদানের খোঁজ পাওয়া যায় এই সবজিটির অন্দরে, যা ত্বকের উপর যাতে অতি বেগুনি রশ্মির কোনও খারাপ প্রভাব না পরে, সেদিকে খেয়াল রাখে। সেই সঙ্গে টমাটোর অন্দরে থাকা ভিটামিন এ, সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের বয়স কমানোর পাশাপাশি সার্বিকভাবে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

৫. কমলা লেবুর খোসা:

৫. কমলা লেবুর খোসা:

একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে এই প্রকৃতিক উপাদানটি ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করার পাশাপাশি ব্ল্যাক হেড দূর করতে এবং ব্রণর প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার ত্বকের অন্দরে এবং বাইরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়ে গেলে স্কিন সুন্দর হয়ে উঠতে যে একেবারেই সময় লাগে না, তা বলাই বাহুল্য! প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে তিনটি কমলালেবু থেকে সংগ্রহ করা কোসা, ১ চামচ দই এবং ১ চামচ মধু মিশিয়ে বানাতে হবে এই ফেস প্যাকটি। তারপর মিশ্রনটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে। সময় হয়ে গেলে মুখটা ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

এই ফেস প্যাকগুলি ব্যবহার করার পর কেমন ফল পেলেন, তা জানাতে ভুলবেন না যেন!

X
Desktop Bottom Promotion