বাদাম খেতে তো বেশ লাগে কিন্তু জানেন কি সেই বাদামের পেস্ট মুখে লাগালে কী কী উপকার পাওয়া যায়?

এই লেখায় বাদাম দিয়ে বানানো এমন কিছু ফেস মাস্কের সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা নিয়মত মুখে লাগালে স্কিন টোনের উন্নতি তো ঘটবেই, সেই সঙ্গে আরও নানাবিধ উপকার মিলবে।

ফর্সা ত্বক পেতে কে না চায় বলুন! আমার এক বন্ধু ছিল। অজয় সিনহা। বোড় কোম্পানির বড় পোস্ট, সঙ্গে মোটা মায়নে। ৩০-৩১ বছরে জীবনকে স্বর্গ বানাতে যা কিছুর প্রয়োজন ছিল, তা সবই ওর দেশপ্রিয় পার্কের বাড়িতে মজুত ছিল। কিন্তু অজয়ের একটাই দুঃখ ছিল। বেচারা হাজার চেষ্টা করেও ফর্সা হতে কোনও দিন পারেনি। তাই তো আজও বন্ধু মহলে কালুবিতারানা নামে পরিচিত। তবে আপনি চাইলে কিন্তু এক সপ্তাহে ত্বকের রং বদলে দিতেই পারেন! কীভাবে এমনটা সম্ভব, তাই ভাবছেন নিশ্চয়?

তা বন্ধু যারাই ফর্সা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাতে ঘুমতে যান, তারা দয়া করে একবার এই প্রবন্ধটি পড়ে ফেলুন। তাহলেই দেখবেন কেল্লাফতে! আসলে এই লেখায় বাদাম দিয়ে বানানো এমন কিছু ফেস মাস্কের সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা নিয়মত মুখে লাগালে স্কিন টোনের উন্নতি তো ঘটবেই, সেই সঙ্গে আরও নানাবিধ উপকার মিলবে। শুধু তাই নয়, দূরে থাকা সম্ভব হবে জটিল সব ত্বকের রোগের থেকেও।

তাহলে এখন প্রশ্ন হল, কীভাবে বানাতে হবে বাদামের ফেসপ্যাক এবং এমনটা করলে কেমনই বা উপকার মিলবে?

১. ড্রাই স্কিনের সমস্যা দূর করে:

১. ড্রাই স্কিনের সমস্যা দূর করে:

গরম কালেও কি ত্বক শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়? তাহলে তো বন্ধু রোজ এক বাটি করে বাদাম খাওয়ার পাশাপাশি বাদাম দিয়ে বানানো ফেসপ্যাক মুখে লাগাতেই হবে। কারণ এমনটা করলে ত্বকের অন্দরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে যে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতা তো ফিরে আসবেই, সেই সঙ্গে সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো! এখন প্রশ্ন হল এক্ষেত্রে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে বাদামকে? এই ফেসপ্যাকটি বানাতে প্রয়োজন পরবে অল্প পরিমাণে গুঁড়ো বাদাম, ওটস এবং দুধের। এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে বানিয়ে ফেলতে হবে একটি পেস্ট। তারপর সেটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা। এইভাবে সপ্তাহে ৩-৪ দিন ত্বকের পরিচর্যা করলেই দেখবেন ফল মিলতে শুরু করেছে।

২. অয়েলি স্কিনের সমস্যা মেটাতে:

২. অয়েলি স্কিনের সমস্যা মেটাতে:

বেশি তেল মোটেও ভাল নয়। তাই তো ত্বকের অন্দরে থাকা সিবেসিয়াল গ্ল্যান্ড থেকে যদি বেশি মাত্রায় তেল বেরতে শুরু করে, তাহলে অতিরিক্ত তেল এবং কলকাতার গরমের যৌথ উদ্যোগে মুখ তো কালো হয়ে যায়ই। সেই সঙ্গে ব্রণ সহ আরও নানাসব ত্বকের রোগ ঘারে চেপে বসে। তাই তো এই ধরনের সমস্যাকে ফেলে রাখা একেবারেই উচিত নয়। কিন্তু কী করণীয়? এক্ষেত্রে এক মুঠো বাদাম গুঁড়ো নিয়ে সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন সকালে উঠে জলটা ছেঁকে নিয়ে পরিমাণ মতো দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিন। এবার সেই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ অপেক্ষা করুন। ঘড়ির কাঁটা মিনিট পনেরো পেরনোর পর হলকা গরম জল দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলতে হবে। এইভাবে প্রতিদিন এই ফেস মাস্কটিকে কাজে লাগেল অয়েলি ত্বকের সমস্যা তো কমবেই, সেই সঙ্গ স্কিন উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

৩. ত্বকের দাগ মেটায়:

৩. ত্বকের দাগ মেটায়:

পরিমাণ মতো মুলতানি মাটি নিয়ে তার সঙ্গে বাদাম গুঁড়ো এবং গোলাপ জল মিশিয়ে একটি পেস্টা বানিয়ে বনিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ততক্ষণ থাকতে হবে, যতক্ষণ না পেস্টটি শুকিয়ে যাচ্ছে। যখন এমনটা হবে, তখন ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে মুখটা। এই ভাবে একদিন অন্তর অন্তর ত্বকের পরিচর্যা করলে দেখবেন মুখের সব দাগ মিলিয়ে গেছে।

৪. ত্বককে ফর্সা করে তুলতে:

৪. ত্বককে ফর্সা করে তুলতে:

ফর্সা ত্বকের অধিকারি হয়ে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে যারা বেঁচে রয়েছেন, তারা পরিমাণ মতো চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে বাদাম গুঁড়ো এবং দুধ মিশিয়ে বানানো পেস্ট মুখে লাগাতে শুরু করুন। এমনটা করলে ত্বকের উপরিঅংশে জমে থাকা মৃত কোষের স্তর সরে যাবে। সেই সঙ্গে ত্বকের অন্দরে কোলাজেনের উৎপাদন যাবে বেড়ে। ফলে ত্বক উজ্জ্বল এবং ফর্সা হয়ে উঠতে দেখবেন সময় লাগবে না।

৫. ত্বকের বয়স কমাতে:

৫. ত্বকের বয়স কমাতে:

খাতায় কলমে বয়স ৩০-এর কোটা পেরলেও ত্বকের বয়স ২০-তেই আটকে থাকুক, এমনটা যদি চান, তাহলে ত্বকের পরিচর্যায় বাদামকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন! কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে বাদামের অন্দরে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ত্বকের অন্দরে জলের ঘাটতিকে দূর করে। সেই সঙ্গে কোলাজেনের উখপাদন বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বলিরেখার মাত্রা কমায়। ফলে ত্বকের বয়স কমতে সময় লাগে না। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো বাদাম গুঁড়োর সঙ্গে সম পরিমাণে অলিভ অয়েল এবং দই মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রনটি নিয়মিত মুখে লাগাতে শুরু করলে দেখবেন ত্বকের বয়স কমবে চোখে পরার মতো।

X
Desktop Bottom Promotion