হ্যাপি হোলি: রং খেলার পরে ত্বক এবং চুলের পরিচর্যা করবেন কীভাবে জানা আছে?

কেমিকাল মেশানো রং দিয়ে হলি খেলারা পর মুখে এবং চুলের যে কী বাজে অবস্থা হয়, সে বিষয়ে কোনও ধরণা আছে!

আজ দোল উৎসব হলেও কালও যে অনেকে রঙের রাজ্য়ে পারি জমাবেন, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই! তাই তো চুটিয়ে বাদুড় রং খেলার পর খারাপ হয়ে যাওয়া ত্বক এবং চুলের খেয়াল রাখতে হবে কীভাবে, সে বিষয়ে যদি কোনও ধারণা না থাকে, তাহলে এই প্রবন্ধে আপনার কথা ভেবেই লেখা।

আজ এবং আগামীকাল সারা দেশেই রঙের উৎসব উদযাপন করা হবে বেশ ধুমধাম করে। আর আমাদের রাজ্যের কথা যদি বলেন, তাহলে তো বলতেই হয় যে এই উৎসবে আমাদের হারায় এমন কেউ এখন জন্ম নেয়নি। কেন এত উদার হচ্ছি তাই ভাবছেন তো? খেয়াল করে দেখুন তো আপনি কীভাবে রং খেলে থাকেন! আবির তো আছেই, সেই সঙ্গে বাদুড়, সোনালী, রুপালি কত রং যে তার সঙ্গে যুক্ত হয়, জানা নেই। এর থেকেও খারাপ ভাবে অনেকেই রং খেলে ঠিকই, কিন্তু রং নিয়ে এমন কারসাজি অন্য কোনও রাজ্যের মানুষেরা করে বলে তো মনে হয় না। আর এই সব কেমিকাল মেশানো রং দিয়ে হলি খেলারা পর মুখে এবং চুলের যে কী বাজে অবস্থা হয়, সে বিষয়ে কোনও ধরণা আছে! তাই দোলের পর চুলের ঝরে পড়া বেড়ে যাক অথবা ত্বকে ফাটল ধরুক, এমনটা যদি না চান, তাহলে এই প্রবন্ধে আলোচিত পদ্ধতিগুলিকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন!

কী কী পদ্ধতিকে এক্ষেত্রে কাজে লাগাতে হবে?

১.ঘষে ঘষে মুখ ধোওয়া নয়:

১.ঘষে ঘষে মুখ ধোওয়া নয়:

চুটিয়ে রং খেয়ার পর হাতের কাছে পাওয়া যে কোনও সাবানকে কাজে লাগিয়ে মুখে ধোয়ার পুরানো অভ্যাস ছাড়ুন। পরিবর্তে চন্দন সোপ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। আর যদি এই ধরনের সাবান হাতের কাছে না থাকে, তাহলে পেঁপে, লেবুর রস এবং দুধ মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। তারপর সেটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর ধুয়ে ফেলুন। প্রসঙ্গত, তৈলাক্ত ত্বকের পরিচর্যায় এই প্যাকটি বাস্তবিকই দারুন কাজে আসে।

২. কলাকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না:

২. কলাকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না:

যাদের ত্বক বেজায় শুষ্ক, তারা হাফ কলা এবং এক চামচ মধু মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। তারপর তাতে অল্প করে নুন মিশিয়ে নিন। এবার মিশ্রনটা মুখে লাগায়ে ভাল করে মাসাজ করুন। কিছু সময় অপেক্ষা করে ভাল করে মুখটা ধুয়ে নিন। দেখবেন নিমেষে রং উঠে যাবে। সেই সঙ্গে ত্বক আদ্র এবং তুলতুলে হয়ে উঠবে।

৩. অলিভ অয়েল এবং হলুদ:

৩. অলিভ অয়েল এবং হলুদ:

ভাল করে রং ধুয়ে ফেলার পর ২ চামচ অলিভ অয়েলের সঙ্গে ১০ ফোঁটা টার্মারিক এসেনশিয়াল ওয়েল মিশিয়ে ভাল করে মুখে লাগিয়ে মাসাজ করুন। এমনটা করলে নিমেষে ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে, সেই সঙ্গে রঙের অন্দরে থাকা কেমিকেলের প্রভাবও কমতে শুরু করবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যাবে। প্রসঙ্গত, এই মিশ্রনটির অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান ত্বকের অন্দরে প্রদাহের মাত্রা কমাতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নানাবিধ ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।

৪. চুলের পরিচর্যায়:

৪. চুলের পরিচর্যায়:

প্রথমেই ভাল করে চুলটা ধুয়ে ফেলুন। এই সময় খেয়াল রাখবেন রং বা আবির যেন চুলে থেকে না যায়। এরপর প্রকৃতিক উপাদন দিয়ে তৈরি শ্যাম্পু ব্যবহার করে আরেকবার চুল ধুয়ে ফলতে হবে। এরপর ভাল করে চুলটা মুছে নিয়ে পরিমাণ মতে অলিভ অয়েল নিয়ে চুলে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করতে হবে। এমনটা করলে ত্বকের গোড়ায় পুষ্টির ঘাটতি যেমন কমবে, তেমনি নানাবিধ কেমিকেলের কারণে চুল পড়ার হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

৫. মুখের রং তুলতে:

৫. মুখের রং তুলতে:

ত্বকের কোনও ধরনের ক্ষতি না করেই বাদুড় রং চুলতে চান? তাহলে আর সময় নষ্ট না করে অল্প পরিমাণে ময়দা, লেবুর রস এবং দুধ মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। তারপর মিশ্রনটা ভাল করে মুখে, ঘাড়ে এবং গলায় লাগিয়ে ফেলুন। কিছু সময় অপেক্ষা করে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। এই পেস্টটি কেমিকেলের প্রভাব কমায়, সেই সঙ্গে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতাকে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে স্কিনকে সুন্দর এবং প্রাণচ্ছ্বল করে তুলতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৬. দুধের মহিমা:

৬. দুধের মহিমা:

একথা জানা আছে কি রং ধুয়ে ফলতে এবং একই সঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে দুধের কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। তাই তো রং খেয়ার পর ত্বকের পরিচর্যায় দুধকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন! এক্ষেত্রে একটি বিষয মাথায় রাখতে ভুলবেন না। তা হল... রং খেয়ার পর নানাবিধ ক্ষতিকর কেমিকেলের প্রভাবে ত্বকের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়। তাই রং খেয়ার পর যতটা সম্ভব প্রকৃতিক উপাদন ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। এমনটা করলে চুল এবং ত্বকের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

X
Desktop Bottom Promotion