কারি পাতকে কাজে লাগিয়ে হয়ে উঠুন ফর্সা ত্বকের অধিকারি!

Written By:
Subscribe to Boldsky

ফর্সা এবং উজ্জ্বল ত্বকের অধিকারি হয়ে উঠতে কে না চায় বলুন! কিন্তু এমনটা কীভাবে সম্ভব, তা অনেকেই জানেন না। তাই তো কিলো কিলো ফেয়ারনেস ক্রিম কিনে সেই ইচ্ছা পূরণের চেষ্টায় লেগে পরেন। এমনটা করলে আপাত দৃষ্টিতে স্কিন টোনের কিছুটা উন্নতি ঘটে ঠিকই, কিন্তু মারাত্মক ক্ষতি হয় ত্বকের। ফলে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে নানা ত্বকের রোগ।

তাহলে এখন প্রশ্ন হল ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে কীভাবে? এক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারেন কারি পাতাকে। বলেন কী! যে প্রাকৃতিক উপাদানকে কাজে লাগিয়ে রান্নার স্বাদ বারে, সেই নাকি ত্বকের পরিচর্যা করবে। একেবারেই! একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কারি পাতার অন্দরে থাকা উপকারি খনিজ, ভিটামিন সি, এ, আয়রন এবং আরও সব পুষ্টিকর উপাদান শরীরে প্রবেশ করে ত্বকের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন করে যে স্কিনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেতে সময় সাগে না। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার। তবে এক্ষেত্রে কারি পাতাকে সরাসরি ব্যবহার করা সম্ভব নয়, তাই এই প্রকৃতিক উপাদানটিকে বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে মিলিয়ে বানিয়ে ফেলতে হবে ফ্যাস প্যাক। আর সেই প্যাক মুখে লাগিয়ে ত্বকের পরিচর্যা করলেই কেল্লাফতে!

তাহলে আর অপেক্ষা কেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক ত্বকের পরিচর্যায় কীভাবে কাজে লাগাতে হবে কারি পাতাকে...

১. কারি পাতা এবং হলুদ:

১. কারি পাতা এবং হলুদ:

এই ফেস প্যাকটি বানাতে প্রয়োজন পরবে এক মুঠো কারি পাতা এবং এক চিমটে হলুদের। এই দুটি উপাদান এক সঙ্গে মিলিয়ে বানিয়ে নিতে হবে একটা পেস্ট। তারপর সেই পেস্টটা মুখে লাগিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। যখন দেখবেন ফেস প্যাকটা একেবারে শুকিয়ে গেছে, তখন ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা। এইভাবে সপ্তাহে ২-৩ বার ত্বকের পরিচর্যা করলে ত্বকের অন্দরে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজের মাত্রা বাড়তে শুরু করবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমবে, তেমনি স্কিন টোনের উন্নতি ঘটতেও সময় লাগবে না।

২. কারি পাতা এবং মুলতানি মাটি:

২. কারি পাতা এবং মুলতানি মাটি:

একথা তো কারওই অজানা নেই যে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়তে মুলতানি মাটির কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। আর সেই মুলতানি মাটির সঙ্গে যখন কারি পাতা মেশানো হয়, তখন সেই ফেস প্যাকের কার্য়কারিতা আরও বেড়ে যায়। ফলে চটজলদি ত্বক ফর্সা হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে নানাবিধ ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ কারি পাউডার নিয়ে তার সঙ্গে সম পরিমাণ মুলতানি মাটি এবং গোলাপ জল মিশিয়ে বানিয়ে ফেলতে হবে একটি ফেস প্য়াক। তারপর সেই মিশ্রনটি মুখে লাগিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এইভাবে নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা করলে ত্বকের তেলতেল ভাব কমবে, সেই সঙ্গে ত্বকের উপরে জমতে থাকা মৃত কোষের স্থরও সরে য়েতে শুরু করবে। ফলে একদিকে ত্বক যেমন উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, তেমনি সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো।

৩. কারি পাতা এবং লেবুর রস:

৩. কারি পাতা এবং লেবুর রস:

ব্রণর দাগ চটজলদি মিলিয়ে যাক এমনটা চান নাকি? তাহলে এই ফেস প্যাকটিকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন! আসলে কারি পাতা এবং লেবুর রসের অন্দরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি, স্কিন সেলের উৎপাদন বাড়িয়ে তোলে। ফলে যে কোনও দাগ মিলিয়ে য়েতে সময় লাগে না। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ কারি পাতা নিয়ে তার সঙ্গে পরিমাণ মতো লেবুর রস মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা।

৪. কারি পাতা এবং দুধ:

৪. কারি পাতা এবং দুধ:

ত্বকের দাগ মিলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পোকা-মাকড় কামড়ানোর যন্ত্রণা কমাতে এবং অ্যালার্জির প্রকোপ কমাতে এই ফেস প্যাকটির কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। আসলে কারি পাতার অন্দরে থাকা নানাবিধ উপকারি উপাদান একদিকে যেমন ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে, তেমনি অন্যদিকে দুধের অন্দরে থাকা কার্যকারি উপাদান অ্যালার্জির প্রকোপ কমায়, সেই সঙ্গে ত্বকের ভিতরে প্রদাহের মাত্রা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। এখন প্রশ্ন হল, এই ফেস প্যাকটি বানাতে হবে কীভাবে কীভাবে? এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ কারি পাতা দুধে ফেলে সেদ্ধ করে নিতে হবে। তারপর মিশ্রনটি ঠান্ডা করে মুখে লাগাতে হবে। তাহলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করবে।

৫. কারি পাতা এবং অলিভ অয়েল:

৫. কারি পাতা এবং অলিভ অয়েল:

ত্বককে তুলতুলে করে তোলার পাশাপাশি স্কিনের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করতে কাজে লাগাতে পারেন এই ফেস প্যাকটি। আসলে অলিভ অয়েলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ময়েসশ্চারাইজিং প্রপাটিজ, যা ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। এই প্যাকটি বানাতে ২ চামচ কারি পাতার সঙ্গে পরিমাণ মতো অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর মিশ্রনটি মুখ এবং গলায় লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা।

Read more about: শরীর রোগ
English summary

কারি পাতার অন্দরে থাকা উপকারি খনিজ, ভিটামিন সি, এ, আয়রন এবং আরও সব পুষ্টিকর উপাদান শরীরে প্রবেশ করে ত্বকের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন করে যে স্কিনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেতে সময় সাগে না। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার।

Curry leaves as the name suggest, are tiny leaves mostly use to enhance the flavor of curries. These tiny leaves are easily available in market throughout the year. Apart from making your dishes lip smacking, they have many properties for enhancing your beauty, hair and health too.
Story first published: Wednesday, March 28, 2018, 15:34 [IST]