আলুকে কাজে লাগিয়ে হয়ে উঠুন ক্লিওপেট্রার মতো সুন্দরি!

Written By:
Subscribe to Boldsky

একটা কথা তো মানেন তো যে আজকের দুনিয়ায় সফল হতে গেলে গুণের পাশাপাশি সৌন্দর্যটাও বড় ফ্যাক্টর। তাই প্রতিদিন বই পড়ার পাশাপাশি একটা করে আলু খেতে ভুলবেন না যেন!

বই এবং আলুর মধ্যকার সম্পর্কটা ঠিক স্পষ্ট হল না, তাই তো? আর এসেবর সঙ্গে গুণ বা সৌন্দর্যের যোগটাই বা কোথায়? আসলে প্রতিদিন কম করে ১ ঘন্টা বই পড়া শুরু করলে এই অভ্যাস আমাদের গুণকে সমৃদ্ধ করে, আর আলুকে কাজে লাগালে বাড়ে আমাদের সৌন্দর্য! একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে আলুতে উপস্থিত ভিটামিন সি, ফাইবার, ভিটামিন বি৬, আয়রন এবং পটাশিয়াম নানাভাবে ত্বকের পরিচর্যায় কাজে এসে থাকে। সেই সঙ্গে স্কিনের উন্নতিতেও সাহায্য করে। এই কারণেই তো প্রতিদিন আলুর পেস্ট মুখে লাগানোর পরিমার্শ দিয়ে তাকে বিশেষজ্ঞরা।

এখন প্রশ্ন হল নিয়মিত আলুর রসের সাহায্যে ত্বকের পরিচর্যা করলে কী কী উপকার মেলে?

১. বলিরেখা কমতে থাকে:

১. বলিরেখা কমতে থাকে:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে স্ট্রেস এবং পরিবেশ দূষণের কারণে অনেকেরই কম বয়সেই বলিরেখা পরতে শুরু করে দেয়। সেই সঙ্গে ত্বক কুঁচকে যাওয়া এবং সৌন্দর্য কমে যাওয়ার মতো সমস্যা তো রয়েছেই। এক্ষেত্রে আলুর রস দারুন উপকারে আসে। দেখা গেছে প্রতিদিন এই প্রকৃতিক উপাদনটিকে যদি কাজে লাগাতে পারা যায়, তাহলে ত্বকের বয়স কমতে শুরু করে। ফলে বলিরেখা নিমেষে উধাও হয়ে যায়। আসলে আলুতে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, আলুর রসের পরবর্তে যদি আলুর পেস্ট বানিয়ে কম করে ২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন, তাহলেও সমান উপকার পাওয়া যায়।

২. ডার্ক স্পট কমে:

২. ডার্ক স্পট কমে:

অল্প পরিমাণ আলু নিয়ে মিক্সিতে ব্লেন্ড করে সেই পেস্ট মুখে লাগিয়ে কম করে ৫ মিনিট মাসাজ করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ঠান্ডা জল দিয়ে ভাল করে মুখটা ধুয়ে ফলতে হবে। প্রতিদিন এমনটা করলে ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হবে। সেই সঙ্গে স্কিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা টক্সিক উপাদানও বেরিয়ে যাবে। ফলে ডার্ক স্পট তো কমবেই। সেই সঙ্গে ব্রণর মতো ত্বকের রোগের প্রকোপও কমতে থাকবে। প্রসঙ্গত, আলুকে ক্লিন্সার হিসেবে ব্যবহার করলেও সমান উপকার পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে দুটো মাঝারি মাপের আলুর টুকরো নিয়ে ২০ সেকেন্ড ব্লেন্ড করে নিতে হবে। তারপর তাতে ১ চামচ বেকিং সোডা এবং অল্প পরিমাণ জল মিশিয়ে ভাল করে সবকটি উপাদান মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর মিশ্রনটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে, কিছু সময় রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।

৩. পুড়ে যাওয়া চামড়াকে স্বাভাবিক করে:

৩. পুড়ে যাওয়া চামড়াকে স্বাভাবিক করে:

আগামী কাল অনেকেই নিশ্চয় পিকনিকে যাচ্ছেন? তাহলে তো মাশাই দিনের শেষে আলুর সঙ্গে আপনার মিটিং ফিক্সড করতেই হবে। কারণ সারা দিন রোদে ঘোরার কারণে ত্বক তো যাবে পুড়ে। আর ট্যান হয়ে যাওয়া ত্বককে স্বাভাবিক করতে আলুর যে কোনও বিকল্প নেই, সে কথা বলা যেতেই পারে। এক্ষেত্রে কয়েকটি আলুর টুকরোকে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। তারপর সেই ঠান্ডা আলু ত্বকে লাগালে দেখবেন দারুন উপকার পাবেন। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে আলুর রস লাগালেও সমান উপকার পাওয়া যায়।

৪. ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়:

৪. ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়:

নিয়মিত আলুকে কাজে লাগিয়ে ত্বকের পরিচর্যা করলে স্কিন টোনের দারুন উন্নতি ঘটে। আসলে এই সবজিটির অন্দরে থাকা ভিটামিন এবং মিনরেল এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হল ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে আলুকে? এক্ষেত্রে আলুর খোসা সারা মুখে কম করে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফলতে হবে ঠান্ডা জল দিয়ে। নিয়মিত এই ঘরোয়া পদ্ধতিটিকে কাজে লাগালে ত্বক তো পরিষ্কার হবেই, সেই সঙ্গে স্কিন টোনেরও উন্নতি ঘটবে।

৫. ড্রাই স্কিনের সমস্যা কমবে:

৫. ড্রাই স্কিনের সমস্যা কমবে:

শীত মানেই ত্বকের আদ্রতা কমে যাওযা এবং অবশ্যই সৌন্দর্য কমতে থাকা। সেই সঙ্গে আশঙ্কা বাড়া নানা ত্বকের রোগের। কারণ স্কিন ফেটে গেলে সেখান দিয়ে নানা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্কিন ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় বেড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার তো শুরু করতেই হবে। সেই সঙ্গে নিয়মিত যদি আলুর সাহায্যে যদি ত্বকের পরিচর্যা করতে পারেন, তাহলে কিন্তু দারুন উপকার মেলে। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে আলু নিয়ে দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে সেই পেস্ট মুখে লাগাতে হবে। তারপর কম করে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ভাল করে ধুয়ে ফলতে হবে মুখ। এমনটা প্রতিদিন করতে পারলে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য তো ফিরবেই। সেই সঙ্গে নানাবিধ ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পাবে।

৬. কোলাজেনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়:

৬. কোলাজেনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়:

কারও ত্বক কতটা সুন্দর এবং মসৃণ হবে তা অনেকাংশেই নির্ভর করে কোলেজেনের উৎপাদনের উপর। যার কোলেজেনের উৎপাদন বেশি, তার ত্বক তত সুন্দর। এই কারণেই তো ডার্মাটোলজিস্টরা নিয়মিত আলুর সাহায্যে ত্বকের পরিচর্যা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ এমনটা করলে স্কিনের অন্দরে ভিটামিন সি-এর মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা কোলাজেনের উৎপাদন এতটা বাড়িয়ে দেয় যে ত্বক সুন্দর হয়ে উঠতে একেবারেই সময় লাগে না।

Read more about: শরীর, রোগ
English summary
Potato works effectively well in slowing down the signs of aging, especially wrinkles. The antioxidants in the vegetable, like vitamin C, can do the job.েApplying potato paste on the face can do wonders. Just peel and mash potatoes and apply the paste on your skin. Leave it on for about 20 minutes and then wash with cold water.
Story first published: Thursday, January 25, 2018, 13:04 [IST]