মাথা চুলকালেই খুশকি ঝরে পরে নাকি? তাহলে বন্ধু এই ঘরোয়া টোটাকাগুলিকে আজ থেকেই কাজে লাগান!

এই প্রবন্ধে এমন কিছু ঘরোয়া টোটকা সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা নিয়মিত কাজে লাগালে খুশকির সমস্যা কমতে দেখবেন সময় লাগবে না। শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে চুলের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো।

পরিসংখ্যান বলছে সিংহভাগ ভারতবাসীই এই ত্বকের সমস্যায় ভুগে থাকেন। তবে পার্থক্য একটাই। কারওকে শুধু শীতকালে অ্যাটাক করে তো, কেউ কেউ সারা বছর ধরেই খুশকির সমস্যায় ভুগে থাকেন। তবে আর চিন্তা নেই! কারণ এই প্রবন্ধে এমন কিছু ঘরোয়া টোটকা সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা নিয়মিত কাজে লাগালে খুশকির সমস্যা কমতে দেখবেন সময় লাগবে না। শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে চুলের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো।

তাহলে আর অপেক্ষা কেন চটজলদি খুশকির প্রকোপ যদি কমাতে চান, তাহলে এই লেখাটি পড়ে ফেলতে ভুলবেন না যেন! প্রসঙ্গত, যে যে প্রকৃতিক উপাদানগুলিকে কাজে লাগিয়ে এই ত্বকের রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব, সেগুলি হল...

১. নিম পাতা:

১. নিম পাতা:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে এই প্রকৃতিক উপাদানটির অন্দরে উপস্থিত অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ, স্কাল্পের অন্দরে সংক্রমণের প্রকোপ কমানোর মধ্যে দিয়ে খুশকির সমস্যা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো বলি বন্ধু, মাথা চুলকাতে চুলকাতে যদি জীবন দুর্বিসহ হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে চুলের পরিচর্যায় নিম পাতাকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন! প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে এক কাপ জলে পরিমাণ মতো নিম পাতা ফেলে জলটা ফুটিয়ে নিতে হবে। তারপর জলটা ছেঁকে নিয়ে সেই জলটা দিয়ে ভাল করে মাথা ধুয়ে নিতে হবে। এমনটা সপ্তাহে কয়েকবার করলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

২. লেবুর মহিমা:

২. লেবুর মহিমা:

স্কাল্প যখন খুব ড্রাই হয়ে যায়, তখনই সাধারণত খুশকির সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। তাই তো স্কাল্পের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতাকে যদি একবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়, তাহলে এমন সমস্যা কমতে দেখবেন একেবারেই সময় লাগবে না। এখন প্রশ্ন হল স্কাল্পের আদ্রতাকে কীভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব? এক্ষেত্রে প্রতিদিন লেবুর রস স্কাল্পে লাগাতে হবে। তাহলেই দেখবেন সমস্যা কমে গেছে। আসলে লেবুর রস লাগানো মাত্র স্কাল্পের অন্দরে পি এইচ লেভেল বাড়তে শুরু করে। ফলে স্কাল্পের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতা ফিরে আসে, সেই সঙ্গে দূরে পালায় খুশকির সমস্যা।

৩. বেকিং সোডা:

৩. বেকিং সোডা:

বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে বেকিং সোডার সঙ্গে সম পরিমাণে লেবুর রস মিশিয়ে বানানো পেস্ট চুলে লাগালে স্কাল্পের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতা ফিরে আসে। সেই সঙ্গে পি এইচ লেভেলের উন্নতি ঘটে। শুধু তাই নয়, স্কল্পে জমে থাকা মৃত কোষের স্তরও ধুয়ে যায়। ফলে খুশকির প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। তাই তো এমন ধরনের ত্বকের রোগের মোকাবিলায় এই ঘরোয়া টোটকাটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে!

৪. টি-ট্রি তেল:

৪. টি-ট্রি তেল:

সাধারণত প্রতিদিন তেল ব্যবহার করলে অনেক সময় খুশির প্রকোপ মারাত্মক বেরে যায়। কিন্তু সাধারণ তেলের পরিবর্তে যদি টি-ট্রি অয়েল মাথায় লাগান, তাহলে কিন্তু এমন সমস্যা হয় না। উল্টে খুশকির প্রকোপ কমে যেতে শুরু করে। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো টি-ট্রি অয়েল নিয়ে তা অল্প পরিমাণে জলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করতে হবে। কিছু সময় অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা। এইভাবে নিয়মিত যদি চুলের পরিচর্যা করতে পারেন, তাহলে দেখবেন খুশকির নাম-গন্ধও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

৫. ভিনিগারের যাদু:

৫. ভিনিগারের যাদু:

শুনতে আজব লাগলে একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে এমন ধরনের ত্বকের রোগের চিকিৎসায় ভিনিগারকে যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলে দারুন উপকার মেলে। আসলে ভিনিগারের অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান, একদিকে যেমন মৃত কোষের স্তরকে ধুয়ে ফেলে, তেমনি চুলকানির প্রকোপ কমায়। ফলে খুশকির সমস্যা মিটতে সময় লাগে না।

৬. দই:

৬. দই:

খুশকির প্রকোপ কমাতে বাস্তবিকই দইয়ের কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। শুধু তাই নয়, চুলের সার্বিক সৌন্দর্যতা এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতেও এই দুগ্ধজাত দ্রব্যটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে দইয়ের অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি অ্যাসিড এবং খনিজ এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হল, চুলের পরিচর্যায় কীভাবে কাজে লাগাতে হবে দইকে। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো টক দই নিয়ে তা ভাল করে স্কাল্পে এবং চুলে লাগিয়ে কম করে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে ২-৩ দিন এই ঘরোয়া টোটকাটিকে যদি কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে কিন্তু দারুন উপকার পাওয়া যায়।

৭. অলিভ অয়েল:

৭. অলিভ অয়েল:

খুশকির সমস্যা কমাতে এই তেলটি দারুন উপকারে লাগে। আসলে অলিভ অয়েলে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান একদিকে যেমন স্কাল্পের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতাকে ফিরিয়ে আনে, তেমনি চুলের গোড়ায় পুষ্টার ঘাটতি দূর করে। ফলে সমস্যা কমতে সময় লাগে না। এক্ষেত্রে চুলটা ভিজিয়ে নিয়ে তারপর হালকা গরম করে রাখা অলিভ অয়েল স্কাল্পে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করতে হবে। এরপর কিছু সময় অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা।

Story first published: Friday, April 27, 2018, 15:46 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion