পরিবেশ দূষণের হাত থেকে ত্বককে কীভাবে বাঁচাবেন জানেন কি?

Written By:
Subscribe to Boldsky

পরিসংখ্যানের দিকে নজর ফেরালে ভয়ে মনটা কেমন কেঁপে ওঠে। আসলে যত দিন যাচ্ছে, তত কলকাতার বাতাসে দূষিত বায়ুর পরিমাণ বাড়ছে, যার প্রভাব যে শুধু শরীরের উপর পরছে, এমন নয়, সেই সঙ্গে ত্বকের অন্দরে দূষিত উপাদানের পরিমাণ এত মাত্রায় বেড়ে যাচ্ছে যে সৌন্দর্য কমতে সময় লাগছে না। সেই সঙ্গে ত্বক বুড়িয়ে যাচ্ছে সময়ের আগেই। আর সবথেকে ভয়ের বিষয় হল এমনটা যে মুষ্টিমেয় মানুষদের সঙ্গে ঘটছে, এমন নয়, কলকাতার মোট জনসংখ্যার সিংহভাগই ভুগছে নানাবিধ ত্বকের রোগে। তাই তো এই প্রবন্ধে বায়ু দূষণের হাত থেকে কীভাবে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা ত্বককে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে স্কিন ডিজিজের প্রকোপ কমানোর পাশাপাশি ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতেও সাহায্য করে। তাই তো এই লেখায় সেই সব প্রকৃতিক উপাদানগুলির উপর আলোকপাত করার চেষ্টা করা হল।

প্রসঙ্গত, যে যে প্রকৃতিক উপাদনগুলি পরিবেশ দূষণের হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে খাকে, সেগুলি হল...

১. নিম পাতা:

১. নিম পাতা:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিম পাতার অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান একদিকে যেমন ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা নেয়, তেমনি স্কিনের অন্দরে জমতে থাকা টক্সিক উপাদানেরাও বেরিয়ে যায়। সেই সঙ্গে স্কিনের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতাও ফিরে আসতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। তাই কলকাতায় বাড়তে থাকা বিষ বাষ্পের প্রকোপ থেকে যদি ত্বককে বাঁচাতে চান, তাহলে স্কিন এবং চুলের পরিচর্যায় নিম পাতাকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন। এক্ষেত্রে এক কাপ জলে পরিমাণ মতো নিম পাতা ফেলে ফুটিয়ে নিতে হবে। তারপর জলটা ছেঁকে নিয়ে মুখে এবং চুলের গোড়ার লাগাতে হবে। তাহলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে।

২. তুলসি পাতা:

২. তুলসি পাতা:

বেশ কিছু স্টাডি অনুসারে পরিবেশে উপস্থিত দূষিত উপাদানদের শোষণ করে নিয়ে বাতাসকে পরিশুদ্ধ করতে তুলসি পাতার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো প্রতিটি বাড়িতে তুলসি গাছ লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রসঙ্গত, বায়ু দূষণের প্রভাব থেকে ত্বককে বাঁচাতেও তুলসি পাতা দারুন কাজে আসে। এখন প্রশ্ন হল এক্ষেত্রে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে তুলসি পাতাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে নিয়মিত ১০-১৫ এম এল তুলসি পাতার রস খাওয়া শুরু করতে হবে। তাহলেই কেল্লাফতে!

৩.হলুদ:

৩.হলুদ:

শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে হাজার বছর ধরে এই প্রকৃতিক উপাদনটিকে কাজে লাগিয়ে আসছেন আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু একথা এতদিন পর্যন্ত জানা ছিল না যে বায়ু দূষণের প্রভাব থেকে ত্বককে বাঁচাতেও হলুদ দারুন কাজে আসে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে এই মশলাটির অন্দরে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান নানাভাবে ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটিয়ে থাকে। সেই সঙ্গে ত্বকের উপর একটি আবরণ তৈরি করে, যা পরিবেশ দূষণের যে কোনও প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে। এক্ষেত্রে ১ চামচ ঘি বা মধুর সঙ্গে হাফ চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে। এমনটা যদি নিয়মিত করতে পারেন, তাহলে দেখবেন পরিবেশে যতই দূষিত উপাদানের মাত্রা বারুক না কেন, ত্বকের কোনও ক্ষতিই হবেই না।

৪. ঘি:

৪. ঘি:

একেবারে ঠিক শুনেছেন! পরিবেশ দূষণের হাত থেকে ত্বককে বাঁচাতে বাস্তবিকই ঘিয়ের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এক্ষেত্রে রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে নাসারন্ধ্রে অল্প পরিমাণ ঘি লাগিয়ে শুতে হবে। আর যদি এমনটচা করতে মন না চায়, তাহলে প্রতিদিন ২-৩ চামচ ঘি খেতে হবে। আসলে নিয়মিত ঘি খেলে শরীরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যে তার প্রভাবে মেটাল, লেদ এবং মার্কারির মতো উপাদানের প্রভাব ত্বকের উপর পরার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, অল্প পরিমাণ ঘি নিয়ে তার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা জল মিশিয়ে তা দিয়ে যদি নিয়মিত ফেস মাসাজ করা যায়, তাহলে সমান উপকার মেলে।

৫. ত্রিফলা:

৫. ত্রিফলা:

নিয়মিত ১ চামচ ত্রিফলার সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে যদি খাওয়া যায়, তাহলে পরিবেশ দূষণের কারণে ত্বকের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। শুধু তাই নয়, ফুসফুসের ক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে কোনও ধরনের রেসপিরেটারি প্রবলেমে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।

৬. ডালিমের রস:

৬. ডালিমের রস:

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এক গ্লাস করে ডালিমের রস খাওয়া শুরু করলে রক্তে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের পরিমাণ কমতে শুরু করে। ফলে একদিকে যেমন নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে, তেমনি দূষণের কারণে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।

৭. স্টিম:

৭. স্টিম:

পরিমাণ মতো গরম জলে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস বা পিপারমেন্ট তেল ফেলে যদি নিয়মিত স্টিম নেওয়া যায়, তাহলে দারুন উপকার মেলে। এক্ষেত্রে পরিবেশ ধূষণের খারাপ প্রভাব তো কমেই, সেই সঙ্গে শরীরেরও নানা উপকার হয়। প্রসঙ্গত, বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিন যদি দুবার করে স্টিম নেওয়া যায়, তাহলে আরও বেশি মাত্রায় উপকার পাওয়া যায়।

Read more about: শরীর রোগ
English summary

Ayurvedic hacks to protect skin from nasty pollution

Skin naturally begins to lose moisture and elasticity with age but pollution in the air is one of the main sources of skin damage because toxins in the air cause skin of the face, neck and hands to age prematurely, smog, dirt and dust in the air clog pores and give the skin a dull appearance. Long term exposure to pair pollution can lead to skin allergies, asthma, and eczema.
Story first published: Friday, April 13, 2018, 15:32 [IST]