দুগ্গা পুজো মানেই তো রাত জাগা! আর এমন পরিস্থিতে ত্বককে চাঙ্গা রাখতে নিম তেলের ব্যবহার কিন্তু মাস্ট

বছরের এই একটা সময়ে রোদে পুড়ে ঠাকুর দেখা, সঙ্গে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার মাত্রাটা এত বেড়ে যায় যে ত্বকের বারোটা বাজতে সময় লাগে না। তার উপর রাত জাগা তো আছেই। তাই এইসব নানা কারণে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য তো কমেই, সেই সঙ্গে সৌন্দর্য কমে যাওয়া, ডার্ক সার্কেল সহ আরও নানাবিধ ত্বকের সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। তাই তো এমন পরিস্থিতিতে পুজো চারদিন সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিম তেলের ব্যবহার মাস্ট! কিন্তু কেন?

প্রায় ৪০০০ বছর ধরে শরীর এবং ত্বকের পরিচর্যায় এই প্রাকৃতিক উপাদানটিকে কাজে লগানো হচ্ছে। কারণ নিমের অন্দরে উপস্থিত একাধিক উপাকারি উপাদান ত্বকের অন্দরে প্রবেশ করা মাত্র এমন খেল দেখায় যে ত্বক চাঙ্গা হয়ে উঠতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে আরও বেশ কিছু উপকার পাওয়া যায়। যেমন ধরুন...

১. ড্রাই স্কিনের মতো সমস্য়া দূরে পালায়:

১. ড্রাই স্কিনের মতো সমস্য়া দূরে পালায়:

একাধিক গবেষমায় দেখা গেছে নিম তেলে উপস্থিত এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড, ট্রাইগ্লিসারাইড, ভিটামিন ই এবং ক্যালসিয়াম ত্বকের অন্দরে প্রবেশ করা মাত্র এমন কিছু করে, যার প্রভাবে ড্রাই স্কিনের মতো সমস্য়া দূরে পালাতে সময় লাগে না।

২. টোনার হিসেবে দারুন কাজে আসে:

২. টোনার হিসেবে দারুন কাজে আসে:

পুজোর সময় ত্বকের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তা সুনিশ্চিত করতে টোনার হিসেবে নিম তেলকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন! আসলে এমনটা করলে ত্বকের অন্দরে জমতে থাকা টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যায়। সেই সঙ্গে ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতেও সময় লাগে না। আর এমনটা যখন হয়, তখন সার্বিক সৌন্দর্যও যে বৃদ্ধি পায়, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে!

৩. ত্বকের বয়স কমে:

৩. ত্বকের বয়স কমে:

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বয়স বাড়লেও ত্বকের বয়স না বাড়ুক, এমনটা যদি চান, তাহলে নিয়মিত নিম তেল দিয়ে ত্বকের মাসাজ করতে ভুলবেন না যেন! আসলে এমনটা করলে বলিরেখা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে স্কিন টানটান হয়। ফলে ত্বকের বয়স কমতে সময় লাগে না।

৪. ত্বক ফর্সা হয়ে ওঠে:

৪. ত্বক ফর্সা হয়ে ওঠে:

অল্প সময়ে ফর্সা ত্বকের অধিকারী হয়ে উঠতে চান নাকি? তাহলে ত্বকের পরিচর্যায় নিম তেলকে কাজে লাগাতে ভুলবেন না যেন! কারণ এমনটা করলে ত্বকের অন্দরে কোলাজেনের উৎপাদন বেড়ে যেতে শুরু করে, যার প্রভাবে স্কিন টোনের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না।

৫. ত্বকের সংক্রমণের প্রকোপ কমে:

৫. ত্বকের সংক্রমণের প্রকোপ কমে:

এই ধরনের সংক্রমণ সাধারণত নোংড়া থাকলে হয়। আর এই রোগ হলে পায়ে যন্ত্রণা হওয়ার মতো লক্ষণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে থাকে। অ্যাথলিট ফুট নামে পরিচিত এই ত্বকের সমস্য়ার প্রকোপ কমাতে নিম তেলের সঙ্গে নারকেল তেল মিলিয়ে যে জায়গায় সংক্রমণ হয়েছে সেখানে লাগান। এমনটা রোজ করলে, অল্প দিনেই দেখবেন রোগ কমতে শুরু করেছে।

৬. ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতা ফিরে আসে:

৬. ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতা ফিরে আসে:

শুষ্ক ত্বক যাদের, তারা নিয়মিত এই তেল লাগালে সমস্য়া অনেকটাই কমে যায়। প্রতিদিন নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে নিম তেল মিশিয়ে ভালো করে সারা শরীরে মাসাজ করলেই দেখবেন ত্বক সুন্দর হতে শুরু করেছে।

৭. স্কিনের যত্নে দারুনভাবে সাহায্য করে:

৭. স্কিনের যত্নে দারুনভাবে সাহায্য করে:

নিমে অ্যান্টিব্য়াকটেকিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ থাকার কারণে ত্বকের উন্মুক্ত ছিদ্র বন্ধ করতে এটি দারুন কাজে আসে। নারকেল তেলের সঙ্গে নিম তেল মিশিয়ে মুখে লাগান, তাহলেই দেখবেন সমস্য়া কমতে শুরু করে দিয়েছে।

৮. ব্রণর প্রকোপ কমে:

৮. ব্রণর প্রকোপ কমে:

নিম তেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রপাটিজ থাকায় এটি যদি মুখে লাগানো যায়, তাহলে ব্রণর সমস্য়া কমতে শুরু করে। কীভাবে লাগাতে হবে? ব্রণ কমাতে কয়েক ফোঁটা নিম তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ল্য়াভেন্ডর তেল মিশিয়ে ব্রণর উপর লাগান। প্রসঙ্গত, কখনই নিম তেল যেন সরাসরি মুখে লাগাবেন না।

৯. খুশকির সমস্যা দূর হয়:

৯. খুশকির সমস্যা দূর হয়:

সাধারণত ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলেই এই ধরনের ত্বকের সমস্য়া হয়ে থাকে, যা নিম তেলের ব্য়বহারে একদম কমে যায়। এখানেই শেষ নেয়। স্কাল্পের যে কোনও ধরনের সংক্রমণ কমাতেও নিম তেলের জুরি মেলা ভার। কীভাবে ব্য়বহার করতে হবে এটি? আপনি যে শ্য়াম্পু ব্য়বহার করেন তাতে কয়েক ড্রপ নিম তেল মিশিয়ে রোজ মাথায় লাগান। তাহলেই দেখবেন সমস্য়া কেমন কমতে শুরু করে দিয়েছে।

১০. একজিমার মতো রোগের চিকিৎসায় কাজে আসে:

১০. একজিমার মতো রোগের চিকিৎসায় কাজে আসে:

ত্বকের একধরনের প্রদাহজনিত রোগ হল একজিমা। নানা কারণে বহু মানুষ এই ধরনের ত্বকের সমস্য়ায় ভুগে থাকেন। একজিমার প্রকোপ কমাতেও নিম তেল দারুন কাজ দেয়। শরীরের যে যে জায়গায় একজিমা হয়েছে, সেখানে সেখানে নিম তেল লাগালে যন্ত্রণা কমে। তবে ভুলেও যেন সরাসরি ত্বকের উপর নিম তেল ব্য়বহার করবেন না। পরিবর্তে সামান্য় গরম জলে কয়েক ড্রপ নিম তেল মিশিয়ে তা দিয়ে স্নান করুন। এমনটা প্রতিদিন করলে দেখবেন রোগ কমতে শুরু করেছে।

১১. মশারা ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না:

১১. মশারা ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না:

বাড়িতে মশার উৎপাত বাড়লেই আমরা বাজার চলতি নানা ক্রিম লাগানো শুরু করি। কারও কি জানা আছে এই ধরনের সমস্য়ায় নিম তেল দারুন কাজে আসে। কীভাবে ব্য়বহার করতে হবে? খুব সহজ! ১০-১৫ ফোটা নিম তেল, হাফ কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে গায়ে লাগান। তাহলেই দেখবেন মশারা আর ধারে কাছে ঘেঁষতে পারছে না।

১২. হাইপারপিগমেন্টটেশনের মতো সমস্যা দূর হয়:

১২. হাইপারপিগমেন্টটেশনের মতো সমস্যা দূর হয়:

ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বাড়লেই আশঙ্কা বাড়ে হাইপারপিগমেন্টটেশনের সমস্য়া হওয়ার। নিয়মিত যদি সারা শরীরে নারকেল তেলের সঙ্গে নিম তেল মিশিয়ে লাগানো যায় তাহলে মেলানিনের মাত্রা কমে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই কমতে শরু করে হাইপারপিগমেন্টটেশনও।

এতক্ষণে নিশ্চয় উত্তর পয়ে গেছেন যে পুজোর সময় প্রতিদিন নিম তেলের সাহায্যে ত্বকের পরিচর্যা করার প্রয়োজন রয়েছে কেন...!

Story first published: Thursday, October 18, 2018, 11:00 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion