গণেশ ঠাকুরের পুজো করার সময় ভুলেও তুলসি পাতা নিবেদন করতে যাবেন না যেন!

Subscribe to Boldsky

তুলসি পাতা ছাড়া তো কোনও পুজোই সম্পন্ন হয় না। তাহলে বাপ্পার আরাধনা করার সময় তুলসির প্রবেশ নিষেধ কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয় পাবেন, তবে তার আগে জেনে রাখা ভাল যে শুধু গণেশ ঠাকুর নয়, দেবাদিদেব শিবের পুজো করার সময়ও তুলসি পাতা নিবেদন করতে মানা করা হয়। কারণ শিবের হাতে মারা গিয়েছিলেন তুলসির স্বামী। যিনি ছিলেন আদতে একজন অসুর। এই ঘটনার পরেই তুলসি মা, শিব ঠাকুরকে অভিষাপ দেন যে তার পুজোয় কোনও দিন তুলসির ব্যবহার হবে না। সেই থেকে দেবাদিদেবের অরাধনা তুলসি পাতাকে বাদ দিয়েই হয়ে থাকে। কিন্তু গণেশ ঠাকুরের পুজোয় তুলসি পাতাকে রাখা হয় না কেন?

এই উত্তর পেতে হাজার বছর আগে লেখা একটি গল্পের দিকে নজর ফেরাতে হবে। সেই প্রবন্ধে এমন লেখা রয়েছে যে একদিন গঙ্গা তীরে মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে করতে বাপ্পা সিদ্ধান্ত নিলেন মিনিট কয়েক একটু ধ্যান করবেন। সেই মতো শুরু করলেন তপস্যা। ঠিক সে সময়ই দূর থেকে গণেশ দেবকে দেখে দেবী তুলসি এতটাই প্রসন্ন হলেন যে মনে মনে ঠিক করে ফেললেন পার্বতী পুত্রকেই বিয়ে করবেন, আর কাউকে নয়! কিন্তু ভাবলেই তো আর চলবে না, বিয়ের জন্য পাত্রীর পাশাপাশি পাত্রেরও তো সম্মতি থাকাটা জরুরি! তাই এই ভাবে তুলসি মা, গণেশ ঠাকুরের সামনে গিয়ে তাঁকে অনুরোধ করলেন চোখ খোলার জন্য। কোনও ভক্ত দেবের আশীর্বাদ নিতে চায় এই ভেবে যেই না গণেশ চোখ খুললেন, অমনি তুলসি মা কিছু না ভেবেই সোজাসুজি বাপ্পাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দিয়ে ফেললেন।

ধ্যান ভেঙে যাওরার কারণে রেগে তো ছিলেনই, তার উপর বিয়ে করার করার প্রস্তাব শুনে গজানন এতটাই ক্ষেপে গেলেন যে তুলসা মাকে অভিষাপ দিলেন যে তাঁর বিয়ে হবে এক অসুরের সঙ্গে। এই শুনে মাও কাঁদতে কাঁদতে বাপ্পাকে অভিষাপ দিয়ে ফললেন। বললেন গণেয ঠাকুরের দুবার বিবাহ হবে এবং গণেশের পুজোয় ভুলেও কখনও তুলসি অংশগ্রহণ করবে না। সেই শুরু... তারপর থেকে গণেশ ঠাকুরের অরাধনা করার সময় তুলসির ব্যবহার হয় না। আর যদি কেউ ভুলে করে ফেলেন তাহলে কিন্তু বিপদ! কারণ সেক্ষেত্রে বাপ্পা এতটাই ক্ষুন্ন হন যে নানাবিধ খারাপ ঘটার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

তাহলে এখন প্রশ্ন হল একদন্তকে প্রসন্ন করা যায় কীভাবে? এক্ষেত্রে বন্ধু এই প্রবন্ধে আলোচিত ফুলগুলি দিয়ে প্রতি বুধবার বাপ্পার আরাধনা করতে হবে। তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে! আর একবার যদি গণেশ ঠাকুরকে প্রসন্ন করতে পারেন, তাহলে জীবনের ছবিটা বদলে যেতে যে সময় লাগবে না, তা তো বলাই বাহুল্য। কারণ দেব একবার ভক্তের উপর প্রসন্ন হলে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি জ্ঞান এবং বুদ্ধির বিকাশ ঘটে চোখে পরার মতো। শুধু তাই নয়, মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন ধরুন: টাকা-পয়সা সংক্রান্ত নানা সমস্যা মিটে যায়, পরিবারে সুখ-শান্তির ছোঁয়া লাগে, বৈবাহিক জীবন সুন্দর হয়ে ওঠে, কোনও ধরনের বিপদ ঘটার আশঙ্কা কমে এবং মনের ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছা পূরণ হতেও সময় লাগে না।

এতদূর পড়ার এবার নিশ্চয় সেই সব ফুল সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা করছে, যেগুলি বাপ্পার সামনে নিবেদন করলে এত সব উপকার পাওয়া মেলে। তাহলে আর অপেক্ষা কেন বন্ধু, চলুন চোখ রাখা যাক বাকি প্রবন্ধে।

প্রসঙ্গত, যে যে ফুলগুলি গণেশ ঠাকুরের বেজায় পছন্দের সেগুলি হল...

১. লাল জবা:

১. লাল জবা:

একেবারেই ঠিক শুনেছেন! এই ফুলটি যে শুধু মা কালীর পছন্দের, তা নয় কিন্তু! শাস্ত্র মতে গণেশ ঠাকুরও লাল জবা খুব পছন্দ করেন। তাই তো এই ফুলটি নিবেদন করে যদি দেবের আরাধনা করা যায়, তাহলে সর্বশক্তিমানের আশীর্বাদে মনের সব ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগে না।

২. কুন্দ ফুল:

২. কুন্দ ফুল:

দেবের আশীর্বাদে জীবনের প্রতিটি দিন আনন্দে ভরে উঠুক, এমনটা যদি চান, তাহলে শুধু বুধবার নয়, প্রতিদিন এই বিশেষ ফুলটি নিবেদন করে গণেশ ঠাকুরের অরাধনা করতে ভুলবেন না যেন!

৩. অপরাজিতা ফুল:

৩. অপরাজিতা ফুল:

হাজারো চেষ্টা করেও কি মনের মতো জীবনসঙ্গীর খোঁজ পাচ্ছেন না? তাহলে বন্ধু গণেশ ঠাকুরের ছবি বা মূর্তির সামনে অপরাজিতা ফুল নিবেদন করে এক মনে "ওম গাম গণপাতায়ে নমহ", এই মন্ত্রটি জপ করুন। দেখবেন মনের ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগবে না। শুধু তাই নয়, এমনও বিশ্বাস রয়েছে যে দেবের পুজোর সময় এই ফুলটি চড়ালে বৈবাহিত জীবনও আনন্দে ভরে ওঠে।

৪. গাঁদা ফুল:

৪. গাঁদা ফুল:

এমনটা অনেকেই বিশ্বাস করেন যে এই ফুলটি গণেশ ঠাকুরের এতটাই পছন্দের যে দেবের পুজোর সময় যদি এটি নিবেদন করা যায়, তাহলে সর্বশক্তিমানের আশীর্বাদে শরীর এতটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় সব রোগ দূরে পালায়। ফলে আয়ু বাড়ে চোখে পরার মতো।

৫. দূর্বা ঘাস:

৫. দূর্বা ঘাস:

২১ টি দূর্বা ঘাস ছাড়া দেবের পুজো সম্ভবই না। তাই তো বাপ্পার পুজোর সময় এই ঘাসটির থাকা মাস্ট! আর প্রতিদিন যদি দূর্বা ঘাস সহযোগে নিয়ম করে দেবের আরাধনা করতে পারেন, তাহলে গৃহস্থে দেবের আগমণ ঘটতে সময় লাগে না। আর যে বাড়িতে স্বয়ং গণেশ ঠাকুর আসন পাতেন, সেই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জীবন বদলে যেতে যে সময় লাগে না, তা তো বলাই বাহুল্য!

৬.পান পাতা:

৬.পান পাতা:

এটিকে ফুল হিসেবে গণ্য করা যায় না ঠিকই। কিন্তু দেবের পুজো পান পাতা ছাড়া সম্ভব নয়। আর যদি নিয়মিত পান পাতা নিবেদন করে বাপ্পার আরাধনা করতে পারেন, তাহলে পরিবারে সুখ এবং সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগতে সময় লাগে না। ফলে সুখের ঝাঁপি কখনও খালি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৭. শঙ্খ ফুল:

৭. শঙ্খ ফুল:

মনের ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছা সব পূরণ হোক, এমনটা যদি চান, তাহলে নীল অথবা সাদা শঙ্ক ফুল নিবেদন করে দেবের আরাধনা করতে ভুলবেন না যেন। কারণ এই ফুলটি গণপতির বেজায় পছন্দের, তাই তাঁর পুজোয় শঙ্খ ফুলকে জায়গা করে দিলে দেখবেন দেব এতটাই প্রসন্ন হবেন যে ভক্তের মনের সব ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগবে না।

৮. বেদানা পাতা:

৮. বেদানা পাতা:

শুনতে আজব লাগছে, কী তাই তো! কিন্তু বন্ধু এমনটা বিশ্বাস রয়েছে যে বেদানা পাতা নিবেদন করে গণেশ ঠাকুরের পুজো করলে সর্বশক্তিমান বেজায় প্রসন্ন হন। আর বাপ্পা যখন কারও উপর প্রসন্ন হন, তখন তার জীবনের ছবিটা বদলে যেতে যে সময় লাগে না, তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না!

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: ধর্ম
    English summary

    Why Is Tulsi Not Offered To Ganesha?

    did you know that Tulsi is never offered to Lord Ganesha? Offering Tulsi leaves to Ganesha is not considered good and it is never included in the offerings. What can be the reason for such a sacred plant not being offered to Lord Ganesha? Here is the reason. Read on.
    Story first published: Wednesday, September 19, 2018, 11:21 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more