শ্রী কৃষ্ণের আশীর্বাদ লাভ করতে জন্মাষ্টমীর দিন এই নিয়মগুলি মেনে পুজো করতে ভুলবেন না যেন!

Subscribe to Boldsky

আগামী কাল ভক্ত জনেদের মাঝে আরও একবার জন্ম নিতে চলেছেন ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার শ্রী কৃষ্ণ। তাই তো সারা দেশ জুড়ে কৃষ্ণ ভক্তরা অপেক্ষা করে রয়েছেন এই মাহেন্দ্রক্ষণের। আপনিও নিশ্চয় বাসুদেবের পুজোর অআয়োজন করতে চলেছেন! কিন্তু জানা আছে কি দেবের পুজো করার সময় কী কী নিয়ম মেনে চলা উচিত? অথবা উপোসের আগে এবং পরে কী কী বিষয় নজরে রাখার প্রয়োজন রয়েছে?

আপনার উত্তর যদি না হয়, তাহলে অবশ্যই এই প্রবন্ধে চোখ রাখতে ভুলবেন না যেন! কারণ এই লেখায় জন্মাষ্টমীর পুজো সম্পর্কে এ-টু- জেড আলোচনা করা হয়েছে। আর একথা জানা আছে কি ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে যদি সর্বশক্তিমানের অরাধনা করতে পারেন, তাহলে দেব এতটাই প্রসন্ন হন যে নানাবিধ উপকার পাওয়ার সম্ভাবান বৃদ্ধি পায়, যে সম্পর্কেও এই লেখায় আলোকপাত করার চেষ্টা করা হবে। তাই তো বলি বন্ধু আর অপেক্ষা নয়, চলুন বাকি প্রবন্ধে চোখ রেখে জেনে ফেলা যাক জন্মাষ্টমির পুজোর নানাবিধ নিয়ম সম্পর্কে...

জন্মাষ্টমীর পুজোর লগ্ন:

জন্মাষ্টমীর পুজোর লগ্ন:

শাস্ত্র মতে এবার শ্রী কৃষ্ণের পুজোর লগ্ন শুরু হচ্ছে আগামী কাল, রাত ৮:৪৭ মিনিটে আর শেষ হচ্ছে ৩ সেপ্টেম্বর রাত ৭:২০ মিনিটে। এদিকে নিশি পুজোর সময় শুরু হচ্ছে ২ সেপ্টেম্বর রাত ১১:৫০ মিনিটে, শেষ হচ্ছে সেদিনই ১২:৪৮ মিনিটে।

পুজো শুরুর আগের নিয়ম:

পুজো শুরুর আগের নিয়ম:

আগামী কাল ঠাকুর ঘর এবং বিগ্রহ পরিষ্কার করার পর লাল জামা-কাপড় পরে দেবের সামনে আসন গ্রহন করতে হবে। তারপর ১০ টি কয়েনে সিঁদুর এবং হলুদ লাগিয়ে দেবের সামনে রাখতে হবে। এমনটা করার পর শ্রী কৃষ্ণের সামনে ধুপ-ধূনো এবং প্রদীপ জ্বালীয়ে শুরু করতে হবে পুজো।

পুজোর সময় যে মন্ত্রটি পাঠ করা জরুরি:

পুজোর সময় যে মন্ত্রটি পাঠ করা জরুরি:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এদিন "ওম হ্রিম শ্রিম শ্রিয় ফাট", এই মন্ত্রটি পাঠ করতে করতে যদি এক মনে দেবের নাম নেওয়া যায়, তাহলে নানাবিধ উপকার মিলতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, ১০৮ বার মন্ত্রটি পাঠ করে ঠাকুরের সামনে রাখা ১০ টি কয়েন আপনার মানি ব্যাগে অথবা যেখানে টাকা রাখেন সেখানে রাখতে হবে। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এমনটা করলে যে কোনও ধরনের অর্থনৈতিক সমস্যা মিটে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে বড়লোক হয়ে ওঠার স্বপ্নও পূরণ হয়। শুধু তাই নয়, মেলে আরও অনেক উপকার।

মন্ত্রটি জপ করার মধ্য়ে দিয়ে দেবের অরাধনা করলে আর কী কী উপকার মেলে:

মন্ত্রটি জপ করার মধ্য়ে দিয়ে দেবের অরাধনা করলে আর কী কী উপকার মেলে:

শাস্ত্র মতে জন্মাষ্টমীর দিন এই মন্ত্রটি জপ করতে করতে দেবের পুজো করলে খারাপ শক্তির প্রভাব কাটতে শুরু করে। ফলে কোনও ধরনের বিপদ ঘটার আশঙ্কা যায় কমে। সেই সঙ্গে সুখ এবং সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগে। শুধু তাই নয়, দেবের আশীর্বাদে কর্মক্ষেত্রে চরম সফলতা লাভের পথও প্রশস্ত হয়, সেই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া মানসিক শান্তি ফিরে আসে, রোগ-ব্য়াধি দূরে পালায় এবং কুদৃষ্টির প্রভাবে কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।

রাশি অনুসারে পুজোর বিধি:

রাশি অনুসারে পুজোর বিধি:

বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিটি রাশির জাতক-জাতিকাদের আলাদা আলাদা নিয়ম মেনে শ্রী কৃষ্ণের অরাধনা করতে হবে। আর যদি এমনটা করা যায়, তাহলে নিনিবিধ সুফল মিলতে সময় লাগে না। এখন প্রশ্ন হল কোন রাশিকে কেমন নিয়ম মানতে হবে?

১. মেষরাশি: এই রাশির জাতক-জাতিকাদের চন্দন, বেদানা এবং লাডডু নিবেদন করে করতে হবে দেবের পুজো।

২.বৃষরাশি: এদের দেবের সামনে নিবেদন করতে হবে গোপি চন্দন।

৩. মিথুনরাশি: এই রাশির অধিকারীরা যদি তুলসি পাতা এবং মিছরি নিবেদন করে দেবের অরাধনা করেন, তাহলে নানাবিধ সুফল মেলার সম্ভাবনা যায় বেড়ে।

৪. কর্কটরাশি: এই রাশির জাতক-জাতিকাদের শ্রী কৃষ্ণের পুজো শুরুর আগে নিবেদন করতে হবে গরুর দুধ। তারপর শুরু করতে অরাধনা।

৫. সিংহরাশি: জন্মাষ্টমীর পুজোর সময় এদের দেবের সামনে রাখতে হবে লোহার বাঁশি। তাহলেই দেখবেন নানাবিধ সুফল মিলতে শুরু করেছে।

৬. কন্যারাশি: জাতকেরা যদি তুলসি পাতা এবং যে কোনও সবুজ ফল নিবেদন করে সর্বশক্তিমানের পুজো করেন, তাহলে নানা উপকার মিলতে সময় লাগে না।

৭. তুলারাশি: এদের মাখন এবং মিছরি নিবেদন করে করতে হবে দেবের পুজো।

৮. বৃশ্চিকরাশি: জন্মাষ্টমীর দিন যদি এরা মধু এবং রাবড়ি পরিবেশন করে শ্রী কৃষ্ণের অরাধনা করেন, তাহলে ঠাকুরের আশীর্বাদে জীবনের প্রতিটি দিন অনন্দে ভরে উঠতে সময় লাগে না।

৯. ধনুরাশি:এদের হলুদ ফুল এবং বেসনের লাডডু সহকারে করতে হবে দেবের পুজো।

১০.মকররাশি: মনের সব ইচ্ছা পূরণ হোক এমনটা যদি চান, তাহলে দেবের পুজো করার সময় ময়ূরের পালক নিবেদন করতে ভুলবেন না যেন!

১১.কুম্ভরাশি: প্রসাদ হিসেবে আপনারা যদি ভগবানের সামনে চকোলেট বরফি পরিবেশন করেন, তাহলে দেখবেন সর্বশক্তিমানের আশীর্বাদে আপনার জীবনের ছবিটি বদলে যেতে সময় লাগবে না।

১২. মীনরাশি: এদের গরুর দুধ নিবেদন করে করতে হবে শ্রী কৃষ্ণের পুজো।

জন্মাষ্টমীর দিন উপোস করার নিয়ম:

জন্মাষ্টমীর দিন উপোস করার নিয়ম:

এদিন উপোস করে দেবের অরাধনা করবেন এমনটা যদি ভেবে থাকেন, তাহলে কতগুলি বিষয় মাথায় রাখা একান্ত প্রয়োজন, যেমন ধরুন-

১. আগামী কাল সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান করে, পরিষ্কার কাপড় পরে তবেই পুজোর কাজে হাত লাগাবেন।

২. উপোস দু ধরনের হতে পারে। এক, সারা দিন কিছু না খেয়ে থাকতে পারেন অথবা দিনে একবার ফল বা নিরামিষ খাবার খেতে পারেন।

৩. শ্রী কৃষ্ণকে নতুম জামা-কাপড় পরিয়ে পুজো শুরু করতে হবে। আর যদি বাল গোপালের পুজো করেন, তাহলে দেবকে একটি দোলনায় বসাতে ভুলবেন না যেন!

৪. এদিন শ্রী কৃষ্ণের অরাধনা করার পাশাপাশি বাসুদেব, বলরাম এবং শুভদ্রা মায়েরও পুজো করতে হবে।

৫. যদি সম্ভব হয় তাহলে দিনের শেষে ভগবত গীতার যে কোনও একটি অংশ পাঠ করে শেষ করতে হবে উপোস। আসলে এমনটা করলে মন এবং শরীরের শুদ্ধি ঘটে। সেই সঙ্গে মনও শান্ত হয়।

পুজোর পরে পরিক্রমা করা মাস্ট:

পুজোর পরে পরিক্রমা করা মাস্ট:

অনেকেই মনে করেন জন্মাষ্টমীর পুজো মানে শুধু শ্রী কৃষ্ণে আরাধনা করা। কিন্তু একথা জানা আছে কি দেবের অরাধনা করার পর যদি শিব ঠাকুরের মূর্তি বা ছবির পরিক্রমা না করেন, তাহলে কিন্তু পুজো শেষ হয় না। শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে আরও বেশ কিছু জিনিস মাথায় রাখা একান্ত প্রয়োজন, যেমন ধরুন- শিব ঠাকুরের পাশাপাশি মা লক্ষ্মীর মূর্তি বা ছবির চারিপাশেও কম করে ৩ বার পরিক্রমা করতে হবে। একই নিয়ম মানতে হবে গণেশ এবং হনুমানজির ক্ষেত্রেও। প্রসঙ্গত, এই সব নিয়ম মানলে তবেই কিন্তু নানা উপকার পাবেন, না হলে...!

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: ধর্ম
    English summary

    When is Janmashtami 2018: Date, Day, Pooja Muhurat Time

    Offering special prayers to Lord Krishna on Janmashtami is said to appease the Lord immensely due to which he grants one’s wishes and bestows them with wealth and prosperity in life. Astrospeak offers you a chance to perform special Puja on Janmashtami and appease Lord krishna.Here is a special Janmashtami mantra to appease Lord Krishna and seek wealth as well as fulfill desires in life...
    Story first published: Saturday, September 1, 2018, 11:32 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more