লুসিড ড্রিমিং কী? এক নজরে সব তথ্য

কেউ যদি সচেতন মনে স্বপ্ন দেখতে পারে বা ঘুমানোর সময় কেউ যদি তার স্বপ্ন দেখার ব্যাপারে এবং কি দেখছে তা সম্বন্ধে সচেতন থাকে তাহলে কেমন হয়!

আমরা যখন ঘুমাতে যাই তখন আমাদের সারাদিনের ক্লান্তি এবং অবসাদ কাটানোর জন্য ঘুমাই। ঘুমের মধ্যে অবচেতন মনে আমরা অনেক সময় স্বপ্ন দেখি। যে স্বপ্ন আমাদের বাস্তব জীবনের নানান কাজ বা চিন্তা-ভাবনা বা দুশ্চিন্তা উপর যে প্রভাব আমাদের মনের উপর পড়ে তার কিছুটা প্রতিফলন স্বপ্নে দেখা যায়। কিন্তু এই স্বপ্ন দেখাটা একেবারেই আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নয়। যখন স্বপ্ন দেখি তখন আমরা এটা বুঝতে পারি না যে আমরা স্বপ্ন দেখছি। ফলে আমাদের অবচেতন মন সেই স্বপ্নের মধ্যে এবং তার কার্যকারিতা ও প্রভাব এর মধ্যে একেবারেই ডুবে যায়। কিন্তু এমনটা যদি হত যে কেউ ঘুমাতে গিয়ে স্বপ্ন দেখছে এবং সে সেই স্বপ্ন দেখা সম্বন্ধে সতর্ক যে সে স্বপ্ন দেখছে। অর্থাৎ খুব সহজ কথায় বললে কেউ যদি সচেতন মনে স্বপ্ন দেখতে পারে বা ঘুমানোর সময় কেউ যদি তার স্বপ্ন দেখার ব্যাপারে এবং কি দেখছে তা সম্বন্ধে সচেতন থাকে তাহলে কেমন হয়! মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন আজকের দিনে একটু অভ্যাস এবং অধ্যাবসায়ের ফলে এই সচেতন অবস্থায় স্বপ্ন দেখা সম্ভব বা কেউ যে স্বপ্ন দেখছে সে বিষয়ে সচেতন থাকা সম্ভব।

lucid dreaming

১. কি এই লুসিড ড্রিমিং:

সচেতন মনে অধ্যাবসায় এবং চেষ্টার দরুন কেউ যদি স্বপ্ন দেখা কালীন বুঝতে পারে যে সে স্বপ্ন দেখছে বা স্বপ্নের মধ্যে রয়েছে তবে সেই স্বপ্ন দেখাকে ইংরেজিতে বলা হয় লুসিড ড্রিমিং। সর্বপ্রথম মনে করা হয় যে এই ড্রিমিং অনুভূত করেন অ্যারিস্টোটল। তিনি বলেন যে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকাকালীন কোন ব্যাক্তি এই সময় বুঝতে পারে যে সে ঘুমাচ্ছে এবং যে স্বপ্ন দেখছে সেই স্বপ্নের মধ্যে থাকা বিষয় বা বস্তু সম্পর্কে সে সচেতন এবং সেই বস্তু তার সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারছে।
এটা সম্বন্ধে সঠিক জানা নেই যে এই বিশ্বের কজন মানুষ এই ড্রিমিং অনুভূত করেছে। তবে ব্রাজিলে একটা পরীক্ষা চালানো হয় প্রায় 2500 মানুষের উপর যার মধ্যে দেখা যায় প্রায় 70 শতাংশের বেশি মানুষ এই ড্রিমিং অনুভূত করেছে।
কেউ কেউ খুব সহজেই এই আধা ঘুম আধা জাগরন অবস্থায় থেকে এই বিশেষ অভিজ্ঞতা অর্জন করে, আবার অনেকে আছে যারা অনেকদিনের ধৈর্য এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেকে এই অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তৈরি করে।

২. বাস্তব প্রয়োগ:

অনেক সময় সমালোচকরা বলে থাকেন যে এর বাস্তব প্রয়োগ কোথায়। বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকরা বলেছেন সেই অর্থে কোন বাস্তব প্রয়োগ নেই। তবে অনেক সময় অনেকে কোন ছোটবেলার ভয় বা মনের মধ্যে থাকা কোন হতাশা যা কাউকে নিরন্তর অশান্তি বা অসহায়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে তার থেকে কিছুটা সুরাহা পাওয়া সম্ভব। যদি কেউ এই লুসিড ড্রিমিংয়ে ভয়ের কারণ বা হতাশার কারণ জানতে পারেন, তাহলে সেটা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
এ ছাড়াও আমাদের অবচেতন মন এবং সচেতন মন কিভাবে একটা আরেকটার উপর প্রভাব বিস্তার করে তা এর থেকে জানা সম্ভব।

৩. কিভাবে করবেন:

- যখন এই ড্রীমিং অনুভূত করতে চাইবেন তখন নিজের ঘরকে ঘুমানোর জন্য একটা যথোপযুক্ত পরিবেশ দিন। একটা স্নিগ্ধ শান্ত ঘর আপনাকে ঘুমাতে সাহায্য করবে।
- একটা ডাইরি বা নোটপ্যাড রাখুন নিজের কাছে, ঘুম থেকে উঠে যে স্বপ্ন দেখলেন সেটা মনে করার চেষ্টা করে লিখে রাখুন।
- কখন ঘুম আসছে না সেই সময় কি কি অনুভূত হচ্ছে তা মনে রাখার চেষ্টা করুন।
- একটা ঘড়ি বা লেখা নিজের সামনে রাখুন। প্রতিদিন একই সময়ে সেই লাইন টা পড়ুন বা ঘড়ির সময় দেখার চেষ্টা করুন। যদি আপনি ঘুমিয়ে থাকেন তাহলে সময় বা লাইন পাল্টাতে থাকবে।
- ঘুমানোর সময় প্রতিদিন চেষ্টা করুন সচেতন মনে একই কথা বার বার বলার যতক্ষণ অব্দি ঘুম না আসে। এতে আপনার সচেতন মস্তিষ্কে সংকেত প্রেরিত হবে যে আপনি লুসিড ড্রিমিং করতে চান।

X
Desktop Bottom Promotion