Vijaya Ekadashi 2022: জীবনযুদ্ধে সাফল্য পেতে বিজয়া একাদশীর ব্রত পালন করুন, জেনে নিন ব্রতের তিথি ও শুভক্ষণ

ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীকে বিজয়া একাদশী বলা হয়। এই দিনে ভক্তরা বিধি মেনে ভক্তিভরে শ্রীবিষ্ণুর পূজা করে এবং সারাদিন উপবাস পালন করে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, বিজয়া একাদশীর ব্রত করলে সমস্ত কাজে সাফল্য লাভ করা যায়।

Vijaya Ekadashi 2022

আসুন জেনে নেওয়া যাক, চলতি বছর কবে পড়েছে বিজয়া একাদশী এবং একাদশীর শুভক্ষণ, পূজা পদ্ধতি ও ব্রত কথা সম্পর্কে।

বিজয়া একাদশীর তিথি ও শুভক্ষণ

বিজয়া একাদশীর তিথি ও শুভক্ষণ

চলতি বছর ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি, এই দু'দিন বিজয়া একাদশী পালিত হবে। একাদশী তিথি শুরু হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি, শনিবার সকাল ১০টা ৩৯ মিনিট থেকে এবং পরের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ০৮টা ১২ মিনিট পর্যন্ত চলবে। ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ১১ মিনিট থেকে ১২টা ৫৭ মিনিট পর্যন্ত পুজোর শুভক্ষণ থাকবে।

বিজয়া একাদশীর তাৎপর্য

বিজয়া একাদশীর তাৎপর্য

সমস্ত একাদশী তিথিরই নিজস্ব বিশেষত্ব রয়েছে। বিজয়া একাদশী বিজয় ও সাফল্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনে বিধি মেনে ভগবান বিষ্ণুর পূজা করা হয়। এই ব্রত পালনে সমস্ত কাজে সাফল্য লাভ হয়, বাধা-বিপত্তি থেকে মুক্তি মেলে এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা যায়।

বিজয়া একাদশীর ব্রত কথা

বিজয়া একাদশীর ব্রত কথা

সীতা হরণের পর রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সুগ্রীবের সেনার সঙ্গে লঙ্কার দিকে যাত্রা শুরু করেন শ্রীরামচন্দ্র। কিন্তু লঙ্কা যাওয়ার রাস্তায় বিশাল সমুদ্র তাঁদের পথ আটকে দেয়। রামচন্দ্র লক্ষ্মণের কাছ থেকে সমুদ্র পার করার উপায় জানতে চাইলে, লক্ষ্মণ বলেন, এখান থেকে কিছু দূরেই বকদালভ্য মুনির আশ্রম রয়েছে। তাঁর কাছে গেলে এর কোনও না কোনও উপায় নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। এরপরই তাঁরা বকদালভ্য মুনির কাছে পৌঁছান। সমস্ত ঘটনা শোনার পর ঋষি তাঁদের ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে সমস্ত সেনা-সহ ব্রত পালনের কথা বলেন। মুনিবর এও বলেন, 'এই ব্রতর প্রভাবে তাঁরা সমুদ্র পার করতে সফল হবেন এবং লঙ্কা রাজ রাবণকে পরাজিত করতেও সফল হবেন।'

এরপর শ্রীরামচন্দ্র তাঁর সৈন্যদের নিয়ে এই তিথিতে একাদশী ব্রত পালন করেন এবং সমুদ্রের উপর সেতু নির্মাণ করে লঙ্কার দিকে যাত্রা করেন এবং যুদ্ধে বিজয়ীও হন। সেই থেকে ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথি বিজয়া একাদশী নামে পরিচিত।

বিজয়া একাদশী পূজা বিধি

বিজয়া একাদশী পূজা বিধি

এই দিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার কাপড় পরিধান করুন। তারপর ব্রতর সংকল্প নিন। ঠাকুর ঘরে পুজোর বেদি তৈরি করে তার ওপর জল ভরা ঘট স্থাপন করুন। এতে আম বা অশোকের পাতা রাখুন। বেদির ওপর বিষ্ণুর মূর্তি অথবা ছবি রাখুন। পূজায় ফল, ফুল, তুলসী পাতা, গঙ্গাজল, প্রদীপ ও ধূপ ব্যবহার করুন। সন্ধ্যায় বিষ্ণুর আরতীর পর ফলাহার গ্রহণ করুন। একাদশীর রাতে ঘুমাবেন না। ভজন-কীর্তন করে সারা রাত জেগে থাকুন। পরের দিন অর্থাৎ দ্বাদশীর দিন সকালে বিষ্ণুর পূজা করে উপবাস ভঙ্গ করুন এবং সাধ্যমতো দান-দক্ষিণা দিন।

X
Desktop Bottom Promotion