কেন পালন করা হয় বরলক্ষ্মী ব্রত? জানুন পূজা পদ্ধতি এবং এর তাৎপর্য

বরলক্ষ্মী পূজা বা বরলক্ষ্মী ব্রত দক্ষিণ ভারতে খুব জনপ্রিয় একটি উৎসব। দেবী লক্ষ্মীকে স্মরণ করে এই পুজো করা হয়। দেবী লক্ষ্মী হলেন ভগবান বিষ্ণুর পত্নী। তাঁর অপর নাম মহালক্ষ্মী। উত্তর ভারতে এই পুজো মহালক্ষ্মী পূজা নামে পরিচিত। এই বছর ২০ অগস্ট এই পুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি ধনসম্পদ, আধ্যাত্মিক সম্পদ, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের দেবী। এই পুজো বা ব্রতটি শুধুমাত্র বিবাহিত মহিলারা পালন করেন। দক্ষিণ ভারত এবং মহারাষ্ট্রের বিবাহিত মহিলারা তাদের স্বামীর দীর্ঘায়ু, পরিবারের কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য উপবাস ও অনেক আচার পালনের মাধ্যমে এই পুজো করেন।

varalakshmi puja Significance

বিশ্বাস করা হয় যে, কেউ যদি বরলক্ষ্মীর এই ব্রত করে তবে এটি হয় আটটি লক্ষ্মী ব্রতের সমান। আটটি দেবদেবী হল- সম্পদ, পৃথিবী, শিক্ষা, প্রেম, খ্যাতি, শান্তি, আনন্দ এবং শক্তি। এই উৎসব সাধারণত শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার অথবা শ্রাবণ মাসে পূর্ণিমা রাতের পূর্ববর্তী শুক্রবারে পালন করা হয়।

বরলক্ষ্মী পূজার ইতিহাস

কথিত আছে, প্রাচীন মগধের কুন্ডিন্যপুর (বর্তমানে মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলায়) নামে একটি শহরে চারুমতী নামে এক মহিলা বাস করতেন। পরিবারের প্রতি তাঁর ভক্তি দেখে প্রভাবিত হয়ে দেবী মহালক্ষ্মী তাঁর স্বপ্নে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং তাঁকে বরলক্ষ্মীর (বর = বর দান) উপাসনা করতে বলেছিলেন। শ্রাবণ মাসে পূর্ণিমা রাতের পূর্ববর্তী শুক্রবারে এই ব্রত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

চারুমতী তাঁর পরিবারকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেওয়ায় তারা তাঁকে পূজা করতে উত্সাহিত করেছিল। গ্রামের আরও অনেক মহিলা তাঁর সাথে এই পুজোয় যোগ দিয়েছিলেন এবং দেবীর বরলক্ষ্মীকে নানান ধরণের মিষ্টির নৈবেদ্য অর্পণ করেছিলেন।

বিবাহিত মহিলারা এই ব্রত অত্যন্ত বিশ্বাস ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। এদিন সকালে ব্রতপালনকারীরা তাড়াতাড়ি স্নান সেরে নেন এবং দিনের অর্ধেক সময় উপবাস করে থাকেন। কথিত আছে, এক ধার্মিক মহিলা ছিলেন, যিনি স্বপ্নে দেবী লক্ষ্মীর দেখা পেয়েছিলেন। তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, দেবী তাঁর ভক্তি দেখে অত্যন্ত খুশী হয়েছেন। স্বপ্নে দেবীর আশীর্বাদ পেতে বরলক্ষ্মী ব্রত পালন করার আদেশ পান তিনি। সেই আদেশানুযায়ী পরের দিন সকালে স্নান করে দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য ব্রত পালন করেছিলেন। এতে তিনি সম্পদ এবং সমৃদ্ধি পেয়েছিলেন। এই স্বপ্নের কথা শুনে গ্রামের অন্যান্য মহিলারাও ব্রত পালন করা শুরু করেছিলেন। তারপর থেকে বরলক্ষ্মী ব্রতকথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

বরলক্ষ্মী পূজার জন্য যে জিনিসগুলি প্রয়েোজন

ক) পূজা করার জন্য দেবী লক্ষ্মীর প্রতিমা বা ছবি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

খ) পূজার জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল কুমকুম বা সিঁদুর। এই পূজাটি বিবাহিত মহিলারা করেন এবং দেবী লক্ষ্মী বিবাহিত মহিলাদের প্রতীক। কুমকুম দেবীকে সাজানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।

গ) যে কোনও ব্রত বা পুজোয় চন্দন একটি শুভ জিনিস। মহিলারা দেবতাকে সাজানোর জন্য চন্দন বাটা ব্যবহার করেন। এটি পূজায় ব্যবহৃত সমস্ত জিনিসকে শুদ্ধ করার কাজেও ব্যবহৃত হয়।

ঘ) নারকেল প্রতিটি পূজায় ব্যবহার করা হয়। এটি একটি পবিত্র ফল হিসেবে পরিচিত। এটি কলসি বা একটি ধাতব পাত্রের ওপর রাখা হয়।

ঙ) আম্রপল্লব বা আমের পাতার মালা পুজোর জায়গাটি সাজানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। অনেক গৃহে, আমের পাতার মালা দিয়ে প্রধান প্রবেশদ্বারটি সাজানো হয়। এই শুভ দিনে তারা ফুল এবং আমের পাতা দিয়ে নিজেদের ঘর সাজায়।

এই পুজোয় দেবী লক্ষ্মীর প্রিয় খাবার হিসেবে যে নৈবেদ্য দেওয়া হয়, তার মধ্যে কয়েকটি হল-মুরুক্কু, বাদুশা, ম্যাঙ্গো রাইস, লেমন রাইস, কাজ্জায়া, তিলকুট, মশলা বড়া ইত্যাদি।

X
Desktop Bottom Promotion