শিবের ৮টি ভূষণের অর্থের উপলব্ধি

By ANINDITA SINHA

হিন্দুধর্মে, শিব সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ঈশ্বর। হিন্দু ত্রিমূর্তিতে, তিনি তৃতীয় ঈশ্বর। ত্রিমূর্তি তিন ঈশ্বর নিয়ে গঠিত, যারা সৃষ্টি, প্রতিপালন ও বিনাশের অধিকর্তা।

ওপর দুইজন ঈশ্বর হলেন, ব্রহ্মা ও বিষ্ণু। ভগবান ব্রহ্মা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা যেখানে ভগবান বিষ্ণু এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পালনকর্তা।

হিন্দুধর্মে, ভগবান শিব অগ্রণী ঈশ্বর ও তাঁর অসংখ্য ভক্ত রয়েছে। বেশিরভাগ ভক্তই ভগবান শিবের বিভিন্ন কিংবদন্তীর সাথে সুপরিচিত। সেই কিংবদন্তীগুলোই তাকে একজন অজেয় ঐশ্বরিক শক্তি রূপে তুলে ধরে।

ভগবান শিবের ৮টি ভুষণ রয়েছে এবং মানা হয় যে, প্রতিটি ভূষণের পেছনেই নিজস্ব তাৎপর্য রয়েছে।

তাঁর মস্তকের অর্ধচন্দ্র থেকে তাঁর জটা হতে প্রবাহিত গঙ্গা এবং তাঁর ডমরু, যা সৃষ্টির বাদ্য, এই সব ভূষণেরই একটি অধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে।

আজ বোল্ডস্কাই, আপনাদের কাছে এই ভূষণগুলির আসল অর্থ শেয়ার করবে। আপনি হয়তো নিশ্চই একবার দেখে নিতে চাইবেনঃ

ভগবান শিবের ত্রিশূলঃ

ভগবান শিবের ত্রিশূলঃ

ত্রিশূল তিনটি শক্তি যথা, জ্ঞান, অভিলাষ ও বাস্তবায়নের প্রতিনিধিত্ব করে।

ত্রিশূলে বাঁধা ডমরুঃ

ত্রিশূলে বাঁধা ডমরুঃ

ত্রিশূলের ওপর বাঁধা ডমরু, ধ্বনির প্রতীক। এই ধ্বনি আসলে, পবিত্র পুঁথি বেদের শব্দ, যা আমাদের জীবন পথে চলার জন্য ঈশ্বর প্রদত্ত নির্দেশিকা।

কন্ঠের নাগঃ

কন্ঠের নাগঃ

ভগবান শিবের কন্ঠে জড়িয়ে থাকা নাগ, মানুষের অহং-কে সূচিত করে।

ভগবান শিবের জপমালাঃ

ভগবান শিবের জপমালাঃ

ভগবান শিবের হাতের জপমালাটি রুদ্রাক্ষের দানা দিয়ে তৈরি। এই দানাগুলি বিশুদ্ধতাকে চিহ্নিত করে। এই মালা বা জপমালা, যা সাধারণত ভগবানের ডান হাতে দেখতে পাওয়া যায়, তা একাগ্রতাকে চিহ্নিত করে।

শিবের মস্তকে অবস্থিত মুখমণ্ডলঃ

শিবের মস্তকে অবস্থিত মুখমণ্ডলঃ

ভগবান শিবের মস্তকে অবস্থিত মুখমণ্ডল, পবিত্র নদী গঙ্গার প্রতিনিধিত্ব করে। এটি এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তি প্রজন্মে আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রবাহকে সূচিত করে।

শিবের মস্তকের চন্দ্রঃ

শিবের মস্তকের চন্দ্রঃ

ভগবান শিবের মস্তকে অবস্থিত চন্দ্র বা চাঁদ জ্ঞাপন করে যে, ভগবান শিবই সময়ের প্রভু এবং তিনি নিজে শাশ্বত।

শিবের কপালের বিন্দুঃ

শিবের কপালের বিন্দুঃ

বড়, উপবৃত্তাকার বিন্দু, যেটি শিবের কপালে দেখতে পাওয়া যায় সেটি তৃতীয় নয়ন বা জ্ঞানচক্ষুর প্রতিনিধিত্ব করে। কথিত আছে যে, যদি তৃতীয় নয়ন উন্মোচিত হয়, তবে তা নিজের দৃষ্টিপথে আসা প্রতিটি ব্যক্তিকেই ভস্মীভূত করে দেয়। এটি অশুভ ও অজ্ঞানতার ধ্বংসের প্রতীক।

ব্যাঘ্র-চর্মের ওপর উপবিষ্ট হওয়াঃ

ব্যাঘ্র-চর্মের ওপর উপবিষ্ট হওয়াঃ

ভগবান শিবকে ব্যাঘ্র-চর্ম পরিধান রত ও ব্যাঘ্র-চর্মের ওপর উপবিষ্ট অবস্থায় দেখা যায়। এটি নির্ভীকতার প্রতীক।

X
Desktop Bottom Promotion