খুশি থাকার সহজ উপায়!

Written By:
Subscribe to Boldsky

আমাদের কাছে আছে তো সব কিছু। আছে অর্থ, সমৃদ্ধি এমনকি সুস্থ জীবনও। কিন্তু তবু আমরা কেউ খুশি নই। কিছু না কিছু বিষয় যেন প্রতিনিয়ত ছুঁচের মতো বিধে চলেছে আমাদের বুকে। ফলে খুশি যেন ধরা ছোঁয়ার মধ্যে আসতেই চায় না। এমন অস্থির পরিস্থিতিতে খুশির সন্ধান দিতে পারে একমাত্র আধ্যাত্মিকতাই। তাই তো এই প্রবন্ধে এমন কিছু সহজ পথের সন্ধান দেওয়া হল, যা মেনে চললে জীবনে কখনও খুশির পাত্র খালি হয়ে যাবে না। সেই সঙ্গে জীবনে ভরে উঠবে আনন্দে।

খুশির সন্ধান পাওয়ার আগে ব্যালেন্স স্টেট অব মাইন্ড সম্পর্কে ধরণা করে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। না হলে খুশির সন্ধান পাওয়া বেজায় কঠিন হয়ে দাঁড়াবে কিন্তু! কি এই ব্যালেন্স স্টেট অব মাইন্ড? সহজ কথায় এটা হল মনের এমন একটা অবস্থা, যেখানে খুশি এবং আনন্দ সমান। অর্থাৎ খুশির সময়ে কেউ যতটা আনন্দে থাকে, দুঃখের সময়ও ততটাই শান্ত থাকবে মন। তর্কের খাতিরে আপনি হয়তো বলতে পারেন দুঃখের সময় অনন্দে থাকা বা শান্ত থাকা যায় নাকি? সত্যিই যায় কিন্তু! ভগবত গীতাতেও লেখা আছে, যে মানুষ অনন্দে এবং দুঃখে ভগবানের নাম করেন। যতই সমস্যা আসুক না কেন, ভগবানের সঙ্গ ছাড়েন না। তার সঙ্গেই তো ভগবান সব সময় থাকেন। কিন্তু কীভাবে দুঃখের সময়ও আনন্দে থাকবেন কীভাবে, এই প্রশ্নই উঠছে মনে, তাই তো? এই উত্তরেরই সন্ধান দেওয়া হল এই প্রবন্ধে।

আনন্দে মন খুশি হয়ে উঠবে এটা তো স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু দুঃখে কীভাবে মনকে শান্ত রাখবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে...

১. ভাসবাসার সন্ধান পেতে হবে:

১. ভাসবাসার সন্ধান পেতে হবে:

যে কোনও ধর্মগ্রন্থ খুলে দেখুন একটা কথার উল্লেখ সব সময় পাবেন। কী সেই কথা, জানেন? সব ধর্মই ভালবাসার জয়গান গায়। তাই তো প্রতিটি ধর্মেই বলা হয়েছে ভালবাসা হল সেই শক্তি, যা আমাদের কঠিন পরিস্থিতিতেও আনন্দের সন্ধান দেয়। শুধু তাই নয়, জীবনকে করে তোলে সমৃদ্ধ। তাই তো আনন্দে থাকতে হলে ভালবাসার মানুষদের সঙ্গে থাকতে হবে। একা কেউ আনন্দে থাকতে পারেন না। যতই টাকা থাকুক না কেন, টাকা কিন্তু একাকিত্বকে দূর করতে আপারক। তাই টাকাকে নয়, গুরুত্ব দিতে শুরু করেন সম্পর্ককে। প্রসঙ্গত, স্বামী বিবেকানন্দ একটা কথা প্রায়ই বলতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন ভালবাসা মানুষকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আর স্বার্থপরতা মানুষকে করে তোলে সীমাবদ্ধ। তাই তো জীবনের একটাই মন্ত্র হওয়া উচিত, আর সেটা হল শুধুই ভালবাসা। তাই বন্ধু টাকার পিছনে না ছুটে ভালাবাসার পিছনে ছুটুন। দেখবেন জীবন আনন্দে ভরে উঠবে।

২. যত পারবেন দান করুন:

২. যত পারবেন দান করুন:

প্রয়োজনের সময় মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করুন। যত এমনটা করবেন, তত দেখবেন আনন্দের ঝোলা ভরতে শুরু করেছে। কারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে যে খুশি লুকিয়ে রয়েছে, তা কি কেবল নিজের কথা ভাবার মধ্য়ে রয়েছে? মনে তো হয় না! আরেকটা কথা। ভাববেন না যে কাউকে কিছু দিলে আপনার ঝুলি ফাঁকা হয়ে যাবে। কারণ গান্দীজি যেমনটা বলতেন, "পৃথিবীতে জতসংখ্যক মানুষ আছেন, তাদের সবার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ রসদ রয়েছে। কিন্তু যে লোভী, তার সব সময়ই মনে হয় তার ভাগে কম পরে যাচ্ছে।" তাই বন্ধু খুশির সন্ধান পেতে হলে নিজেকে নিয়ে নয়, অপরকে নিয়ে ভাবা শুরু করুন। দেখবেন হাতে-নাতে ফল পাবেন!

৩. কিছু জিনিসকে গুরুত্ব দেওয়া ছাড়ুন:

৩. কিছু জিনিসকে গুরুত্ব দেওয়া ছাড়ুন:

অনেকেই আছেন যারা আশপাশে ঘটে চলা সব কিছু নিয়েই ভাবতে বসে যান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা বাড়তে শুরু করে তাদের। আর দুশ্চিন্তা যে খুশির প্রতিপক্ষ, তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না। তাই যদি খুশি থাকতে চান, তাহলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ভাবা ছেড়ে দিন। দেখবেন খুশির ঝোলা কখনই খালি হবে না। ওই যে কথায় আছে না, "ইফ ইউ লেট গো আ লিটিল, ইউ উইল বি হ্যাপি। ইফ ইউ লেট গো আ লট, ইউ উইল বি আ লোট মোর হ্যাপি।" প্রসঙ্গত, প্রথম প্রথম এমনটা করা হয়তো একটু কঠিন হবে। কিন্তু একবার যদি দুঃখ দেয়, এমন ভাবনাকে উপেক্ষা করা শুরু করে দিতে পারেন, তাহলে দেখবেন আনন্দ কখনই আপনার সঙ্গ ছাড়বে না।

৪. জীবনের লক্ষ কি:

৪. জীবনের লক্ষ কি:

আমাদের সবারই জন্ম হয়েছে কিছু না কিছু কাজ করার জন্য। তাই অপ্রসাঙ্গিক বিষয় নিয়ে ভেবে জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডকে নষ্ট না করে বরং আপনার বেঁচে থাকার লক্ষ কি, সে সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা করার চেষ্টা করুন। একবার যদি এমনটা করে ফেলতে পারেন, তাহলে দেখবেন লক্ষ পূরণ করতে অপনি এতটাই ব্যস্ত হয়ে যাবেন যে জীবনে দুঃখের কোনও জায়গাই থাকবে না। এখন যদি প্রশ্ন করেন যে লক্ষ পূরণ করতে গিয়ে যদি বাজে কোনও অভিজ্ঞতা হয়, তাহলে তো মন খারাপ হয়ে যাবেই! না একেবারেই এমনটা হবে না। কারণ অভিজ্ঞতা ভাল হোক, কী মন্দ, তা আমাদের সমৃদ্ধ করে। ফলে খারাপ অভিজ্ঞতা হলেও জীবনে চলার পথে আমরা পিছিয়ে যাই না, বরং কিছু হলেও এগিয়ে যাই। আসলে অতীতে ঘঠে যাওয়া খারপ কিছু আগামী দিনে যাতে পুনরায় না হয়, তার জন্য আমরা এতটাই প্রস্থুত হয়ে যাই যে মন দুঃখের সংস্পর্শে আসার সুযোগই পায় না।

৫. বর্তমানে বাঁচুন:

৫. বর্তমানে বাঁচুন:

পিছনে কী ফেলে এসেছেন সেই নিয়ে যদি ভাবতে বসে যান, তাহলে আজকের দিনটা তো খারাপ হয়ে যাবেই। আর আজকের দিনটা যদি খারাপ হয়ে যায়, তাহলে আগামী কাল কেমনভাবে সুন্দর হবে বলুন! তাই বর্তমানে বাঁচুন। এখন জীবন আপনাকে যে রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছে, সেই রাস্তায় চোখ বুঝে চলতে থাকুন, আর চলার পথে যা যা অভিজ্ঞতা হচ্ছে, তাই নিয়ে আনন্দে থাকুন। এমনটা করলে দেখবেন দুঃখ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মাথায় রাখবেন। খেয়াল করে দেখবেন অনেকই একটা কথা খুব বলে থাকেন যে আজ যদি আমি এই জিনিসটা পেয়ে যাই, তাহলে দারুন খুশি হয়ে যাবো। কিন্তু দেখা গেছে ওই জিনিসটা পেয়েও তারা খুশি থাকতে পারেন না। কারণ তখন আরও কিছু পাওয়ার ইচ্ছা জন্মে যায় তাদের মনে। তাই এই ধরনের ভাবনাকে একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। বরং যা পাচ্ছেন তাতেই খুশি থাকা উচিত।

Read more about: ধর্ম
English summary
All religions unanimously consider love as a divine principle in life. Yogis say love is bliss, love is enlightenment, and love is existence.Swami Vivekananda said, “All love is the expansion, all selfishness is the contraction. Love is, therefore, the only law of life. He who loves lives; he who is selfish is dying. Therefore love for love’s sake, because it is the law of life, just as you breathe to live.”
Story first published: Tuesday, January 23, 2018, 15:50 [IST]