বাড়িতে অশান্তি-ঝামেলা শেষ হওয়ায় নাম নেই! বাস্তুশাস্ত্র মেনে এই কাজ করুন, পাবেন সুরাহা

By Bhagysree Sarkar

প্রতিটি মানুষের জীবনে বাস্তুশাস্ত্রের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। একথা সকলেই কমবেশি বিশ্বাস করে থাকি। হিন্দু ধর্ম মতে, আমরা বাস্তুশাস্ত্র মেনে কিছু করলে তার ফল বেশ শুভ এবং ইতিবাচক হয়। কিন্তু যদি আপনি বাস্তুশাস্ত্র না মেনেই কোনও কাজ করেন, তার ফল সম্পূর্ণ বিপরীত হয়। বাস্তুশাস্ত্রে আমাদের জীবনের সব ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করার উপায় বর্ণনা করা হয়েছে। সেগুলি যদি আপনি মেনে চলেন, তাহলে জীবন আরও অনেক ভালো হবে। সঙ্গে এড়ানো যাবে বাস্তুর ত্রুটিও।

বাস্তু শাস্ত্র, প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই শাস্ত্রে আমাদের বাড়িতে ইতিবাচক শক্তির আগমন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করার উপায় উল্লেখিত রয়েছে। আজকের প্রতিবেদনে মহিলাদের জন্য কিছু বিশেষ বাস্তু টিপস দেওয়া হয়েছে।

vastu tips

এগুলি মেনে চললে, বাড়িতে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসতে বাধ্য হবে

  • রান্নাঘর: আমরা যেখানে নিত্যদিনের খাবার রান্না করি।
  • রান্নার সময়: সকাল এবং বিকেলে রান্না করা শুভ বলে মনে করা হয়। রাতে বেশিক্ষণ রান্না করা বা খাবার তৈরি করা উচিত নয়।
  • শস্য সংরক্ষণ: শস্য সবসময় পরিষ্কার এবং শুকনো জায়গায় রাখুন। শস্যের বাক্স বা ব্যাগ কখনই মাটিতে রাখবেন না।
  • রান্নাঘরে গাছপালা: বাস্তুশাস্ত্রে রান্নাঘরে তুলসী গাছ রাখা শুভ বলে মনে করা হয়। এটি নেতিবাচক শক্তি দূর করে এবং বাড়িতে ইতিবাচকতা নিয়ে আসে।
  • বেডরুম: সারাদিনের পর বিশ্রামের জায়গা যে ঘর।
  • আয়না বসানো: শোবার ঘরে আয়না বিছানার সামনে বা এমন জায়গায় রাখবেন না যেখানে আপনি ঘুমানোর সময় আপনার প্রতিবিম্ব দেখতে পান।
  • বিছানার অবস্থান: বিছানাটি দেয়ালের বিপরীতে রাখুন এবং এর নীচে কোনও জিনিস রাখবেন না।
  • রঙ: শোবার ঘরে হালকা রং ব্যবহার করুন। এটি মনকে শান্ত রাখে এবং ভালো ঘুম দেয়।
  • পুজো ঘর: আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।
  • দিক: পুজো ঘর উত্তর-পূর্ব দিকে হওয়া উচিত।
  • দেব-দেবীর মূর্তি: দেব-দেবীর মূর্তি পরিষ্কার কাপড়ে ঢেকে রাখুন।
  • প্রদীপ: প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঘি প্রদীপ জ্বালান। এতে ঘরে পজিটিভ এনার্জি আসবে।

চলতি বছরের রাখী পূর্ণিমা কবে? জেনে নিন রাখী বাঁধার শুভ সময় ও তিথি!

তবে মনে রাখবেন, ঝাড়ুকে ঘর থেকে নেতিবাচক শক্তি দূর করার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয় বাস্তুশাস্ত্রে। এটি পায়ে লাগানো অশুভ বলে মনে করা হয়। কারণ এটি ঘরে নেতিবাচক শক্তি প্রবেশের সুযোগ দেয়। তাই ঝাড়ুকে সর্বদা সম্মানের সাথে ব্যবহার করুন এবং এটি তুলতে বা রাখার জন্য হাত ব্যবহার করুন। পা দেবেন না এতে।

এছাড়াও রান্নার পর বাসন না সরানোর ফলে নেতিবাচক শক্তির সৃষ্টি হয়। যা বাড়ির পরিবেশকে প্রভাবিত করে। তাই খাবার তৈরির সঙ্গে সঙ্গে পাত্র পরিষ্কার করুন এবং সঠিক জায়গায় রাখুন। পাশাপাশি দরজা হল ঘরে প্রবেশ এবং বের হওয়ার উপায়। পা দিয়ে এগুলো খুললে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই সবসময় হাত দিয়ে ধীরে ধীরে দরজা খুলুন এবং বন্ধ করুন।

শুধু তাই নয়, টয়লেটকে ঘরের ক্ষেত্রে বলা হয় এটি সবচেয়ে অপবিত্র স্থান। তাই এটি সবসময় বন্ধ রাখা উচিত। টয়লেট পরিষ্কার রাখবে। সঙ্গেই বাস্তুশাস্ত্রে বলা হয়, অতিথিদের অপমান করা অশুভ। কারণ, অতিথিদের স্বাগত জানানো ভারতীয় সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাই অতিথিদের সর্বদা সম্মানের সাথে স্বাগত জানান। তবে মনে রাখবেন, একটি ঘড়ি সময়ের প্রতীক। তাই তা সবসময় চলতে হবে। একটি বন্ধ ঘড়ি অশুভ বলে মনে করা হয় বাস্তুশাস্ত্রে। তাই ঘরে উপস্থিত সব ঘড়ি সবসময় সচল রাখুন।

Story first published: Thursday, August 1, 2024, 19:04 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion