কার্তিক মাসের তাৎপর্য

By: Tulika Ghoshal
Subscribe to Boldsky

কার্তিক মাসকে হিন্দুদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় মাস হিসেবে গণ্য করা হয়|দীপাবলির পরে কার্তিক মাসের শুরু, শীতকালের ইঙ্গিত দেয়| প্রতি বছর এই অষ্টম মাসটি শুরু হয় যখন সূর্য বৃশ্চিকরাশিতে প্রবেশ করে| গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার মতে, কার্তিক মাস নভেম্বর মাসে পড়ে|অনেক ধর্মানুষ্ঠান ও প্রথা আছে যা এই মাস জুড়ে অনুসরণ করার প্রয়োজন হয়|

শিবের আরাধনা

কার্তিক মাস বিষ্ণু ও শিব ভক্তদের আনুকূল্যে এবং তাই এইসময়ে বিষ্ণু ও শিবের মন্দিরে হাজার হাজার ভক্তদের সমাগম হয়ে থাকে|কার্তিক মাসে, কর্ণাটক ও অন্ধ্র প্রদেশের অনেক মানুষ কার্তিক সোমবার ব্রত পালন করে থাকেন| এই মাসে পূর্ণিমাতে কার্তিক নক্ষত্রটি চাঁদের সহচার্য্যে থাকে তাই এই মাসের নাম কার্তিক|

কার্তিক মাসের গুরুত্ব

শিবের আর এক নাম সোম বা সোমেস্বর| কার্তিক সোমবার ব্রত প্রভু সোমেস্বরকে তুষ্ট করার জন্য পালন করা হয়| কার্তিক মাসের প্রত্যেকটি সোমবার শিবের আরাধনা ও তার আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য অনুকূল|হিন্দু ধর্মে, এটা বিশ্বাস করা হয় যে কার্তিক মাসে শিব এবং বিষ্ণুর আরাধনার দ্বারা মানুষ তাদের পাপ থেকে উদ্ধার পেতে পারেন|এই নিবন্ধটিতে বিভিন্ন কারণে কেন কার্তিক মাসকে শুভ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তা তুলে ধরে হল|

কার্তিক মাসের গুরুত্ব

কার্তিক মাসের গুরুত্ব

কেন কার্তিক মাস হিন্দু ধর্মে এত গুরুত্বপূর্ণ জানতে নিম্নলিখিত বিশেষত্বগুলিতে আলোকপাত করুন|

বিষ্ণু ভগবান অসাদ্ধ শুদ্ধ একাদশীতে অবসর নেন এবং কার্তিক শুদ্ধ একাদশীতে জাগ্রত হন|

পুরাণ মতে শিব, কার্তিক পূর্ণিমাতে ত্রিপুরাসুরকে বধ করেন ও বিশ্বকে রক্ষা করেন আর তাই তিনি ত্রিপুরহরি নামে পরিচিত|

শুধুমাত্র কার্তিক মাসে গঙ্গা নদী প্রতিটি জলাশয়, নদী, খাল এবং বিলে, তাদের পবিত্র করতে প্রবেশ করে|

মানুষ কার্তিক মাসে আয়াপ্পা দীক্ষা নিতে শুরু করে যা মকর সংক্রান্তির (15 জানুয়ারি) দিন পর্যন্ত চলতে থাকে|

কার্তিক মাসের গুরুত্ব

কার্তিক মাসের প্রথা

কার্তিক মাসের গুরুত্ব বুঝতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধর্মানুষ্ঠান অনুসরণ করা প্রয়োজন|প্রথমেই আপনাকে ঊষালগ্নে অর্থাত ব্রহ্ম মুহূর্তে ঘুম থেকে জেগে উঠতে হবে| এর পরে, পবিত্র নদীর জলে স্নান করতে হবে| বাড়ীতে নৈবিদ্যের আয়োজন করুন ও প্রতি সোমবার মন্দিরে পুজো দিন| সারা মাস জুড়ে, সশব্দে প্রতিদিন কার্তিক পুরানামের প্রতিটি অধ্যায়ে পড়ুন| রোজ সকালে এবং সন্ধ্যায় পবিত্র প্রদীপ জ্বালান| সারা মাস নিরামিষ খাবার খান এবং সমগ্র দিনের মধ্যে শুধুমাত্র একবার আহার করুন|গরিবের সেবা করুন| প্রতিদিন ইষ্টনাম জোপুন|কার্তিক পূর্ণিমায় শিব মন্দিরে প্রদীপ জ্বালানো শুভ হিসেবে গণ্য করা হয়| পাপের থেকে পরিত্রাণ পেতে আমলা গাছের তলায় খাবার খান|কার্তিক মাসের শেষ দিন,পলি সরগম যা অমাবস্যা দিবস হিসাবে পরিচিত, খুব আশাপ্রদ হয়|এই দিনে একতিরিশটি সলতে দিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে কলার ভেলায় নদীতে ভাসিয়ে দিন|

কার্তিক মাসের তাৎপর্য

কার্তিক মাসের অসাধারণ তাৎপর্য আছে|আপনি যদি কার্তিক মাসের ধর্মানুষ্ঠান অনুসরণ করেন,পুরাতন হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী আপনার জীবন সুশৃঙ্খল হবে এবং আপনি সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারবেন|নদী বা দীঘিতে ভোরের আগে স্নান কার্তিক মাসের ধর্মানুষ্ঠানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত| এই উপলক্ষ্যে মানুষের ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস রপ্ত হয়|অনেকে রীতি মেনে ঠান্ডা জলে স্নান করে থাকেন যা আপনাকে শীতের মাসগুলোতে ঠান্ডার সাথে যুঝতে সাহায্য করে| এই ধর্মানুষ্ঠান আপনাকে জলের গুনের সাথে সাথে দূষণ সম্পর্কেও অবগত করে|এছাড়াও দানধ্যান এই ধর্মানুষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত, যা আপনাকে অতি দরিদ্র মানুষের প্রতি হিতৈষী হতে শেখায়|

English summary
Karthik Masa is reckoned as a promising month for the Hindus. It commences on the very day after Diwali, which also indicates the commencement of winters. Karthik Masa starts on the 8th month of each year, as soon as the sun enters into the Scorpion sign. As per the Gregorian calendar, Karthik Masa falls in the month of November. There are a number of customs and rituals that need to be followed throughout this month.
Story first published: Thursday, November 10, 2016, 17:10 [IST]
Please Wait while comments are loading...