সৌভ্রাতৃত্বের উৎসব রাখিবন্ধন : জানুন রাখিবন্ধন উৎসবের ইতিহাস এবং তাৎপর্য

রাখিবন্ধন উৎসব কবে থেকে, কীভাবে শুরু হয়েছিল এই নিয়ে অনেকে অনেক মত ব্যক্ত করেছেন। এ নিয়ে অনেক পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক গল্পও রয়েছে। বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে রাখিবন্ধন উৎসব করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৫ সালে এই উৎসবের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমানকে একসূত্রে বেঁধেছিলেন তিনি। তাই, রাখিবন্ধন শুধু ভাই-বোনের মৈত্রীর বন্ধন নয়, মানবতা ও সৌভ্রাতৃত্বেরও প্রতীক।

raksha bandhan

যাইহোক, রাখিবন্ধন আমরা সাধারণত পালন করি ভাই-বোনের মধ্যে দিয়ে। এই উৎসব ভাই ও বোনের মধ্যে প্রীতিবন্ধনের উৎসব। এদিন বোন বা দিদি তার ভাই বা দাদা-র হাতে রাখি বেঁধে দেয় ভাইয়ের মঙ্গলকামনায়। এর পরিবর্তে ভাই, বোনকে উপহার দেয় এবং দিদি বা বোনকে আজীবন রক্ষা করার শপথ নেয়। এরপর ভাই-বোন পরস্পরকে মিষ্টি খাওয়ায়। অনেক জায়গায় নিজের ভাই-বোন ছাড়াও জ্ঞাতি ভাই-বোন এবং অন্যান্য আত্মীয়দের মধ্যেও রাখীবন্ধন উৎসব প্রচলিত। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব উদযাপিত হয়।

এইবছর স্বাধীনতা দিবসের দিন রাখিবন্ধন উৎসব। রাখিবন্ধন - এর আরেক নাম হল রক্ষাবন্ধন। এটি একটি হিন্দি শব্দ। এটি 'রক্ষা' এবং 'বন্ধন' দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত, যেখানে রক্ষার অর্থ 'সুরক্ষা' এবং বন্ধনের অর্থ 'সম্পর্ক'। অতএব, রক্ষাবন্ধন শব্দটি ভাই ও বোনের পারস্পরিক প্রেম এবং অবিচ্ছেদ্য বন্ধনকে বর্ণনা করে।

রাখীবন্ধন সংক্রান্ত বিভিন্ন পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক কাহিনী -

১) শ্রীকৃষ্ণ ও দ্রৌপদী- মহাভারতে এক যুদ্ধের কারণে শ্রীকৃষ্ণের আঙুল কেটে গেলে দ্রৌপদী তাঁর পরনের বস্ত্র থেকে একটি টুকরো ছিঁড়ে তা বেঁধে দিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণের আঙুলে। এর পরিবর্তে শ্রীকৃষ্ণ কথা দেন যে, তিনি সমস্ত বিপদ থেকে দ্রৌপদীকে রক্ষা করবেন। সেই মতো তিনি দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের সময় তাঁকে রক্ষা করেছিলেন।

২) বলিরাজা ও লক্ষ্মী- দেবী লক্ষ্মী একবার সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে বলিরাজার কাছে আশ্রয় চান। বলিরাজ তাঁকে আশ্রয় দিতে রাজি হওয়ায় দেবী লক্ষ্মী খুশি হয়ে বলিরাজার হাতে একটি রাখী বেঁধে দেন। সেই দিনটি ছিল শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথি।

৩) সন্তোষী মা- রাখীবন্ধনের দিন গণেশের বোন, গণেশের হাতে একটি রাখী বেঁধে দেন। এতে গণেশের দুই ছেলে শুভ ও লাভের রাগ হয়। তাদের কোনও বোন না থাকায়, তারা বাবার কাছে বায়না ধরে যে, তারা নিজের বোনের হাতে রাখি পরতে চায়। গণেশ তখন দিব্য আগুন থেকে একটি কন্যার জন্ম দেন। এই দেবী হলেন গণেশের মেয়ে সন্তোষী মা।

৪) যম ও যমুনা- যমুনা তাঁর ভাই যমের হাতে রাখি বেঁধেছিলেন।

৫) আলেকজান্ডার ও পুরু রাজা - আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করলে তার স্ত্রী রোজানা পুরু রাজাকে একটি পবিত্র সুতো পাঠিয়ে তাঁকে অনুরোধ করেন আলেকজান্ডারের ক্ষতি না করার জন্য। পুরু রাজা এই রাখীর সম্মান রক্ষার খাতিরে যুদ্ধক্ষেত্রে কখনও আলেকজান্ডারকে নিজে থেকে আঘাত করেননি।

৬) রানি কর্ণবতী ও সম্রাট হুমায়ুন - শত্রুর হাত থেকে নিজের রাজ্যকে বাঁচাতে, মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের কাছে সাহায্য চান মেওয়ারের রানি কর্ণবতী। সেই সময়ে তিনি একটি রাখিও পাঠান সম্রাট হুমায়ুনকে।

কাকতালীয়ভাবে , এইবছর একইদিনে পড়েছে ভারতের স্বাধীনতা দিবস এবং রাখীবন্ধন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে স্বপ্ন নিয়ে রাখীবন্ধন উৎসব প্রবর্তন করেছিলেন, আমরা ভবিষ্যতে সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করে এক ধর্মনিরপেক্ষ ভারত গড়ে তোলার আশা রাখি।

Story first published: Tuesday, August 13, 2019, 12:52 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion