কেন পালিত হয় নরক চতুর্দশী? জানুন এর পৌরাণিক কাহিনী

By Anindita Sinha

পাঁচদিনব্যাপী দীপাবলির, দ্বিতীয় দিনটি নরক চতুর্দশী বা "ছোট দীপাবলি" নামেই জনপ্রিয়। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীর দিনে নরক চতুর্দশী পালিত হয়। এবছর অর্থাৎ ২০২০ সালে ১৩ ও ১৪ নভেম্বর নরক চতুর্দশী পালিত হবে। রাক্ষসরাজ নরকাসুরকে পরাজিত করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়লাভের স্মৃতিচারণ করতে, এই উৎসব উদযাপিত করা হয়। এও বিশ্বাস করা হয় যে, এই দিনে ১৪ বছরের বনবাসের পর প্রভু রামচন্দ্রের ফিরে আসার সুসংবাদ নিয়ে পবনপুত্র হনুমান অযোধ্যায় পৌঁছেছিলেন।

ভারতের বিভিন্ন অংশে এই উৎসব পালিত হয়। খুবই স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলভেদে নরক চতুর্দশীর ধার্মিক রীতি ও কিংবদন্তীও আলাদা আলাদা। দক্ষিণ ভারতের, লোকেরা সিঁদুর ও তেল দিয়ে একধরণের লেপ বানানোর জন্য অনেক ভোরবেলাতেই ঘুম থেকে উঠে পরেন। এটিকে তারা "উবটন" বলেন এবং নিজেদের কপালে এটি লাগিয়ে তারা স্নান করে নেন।

নরক চতুর্দশী

একটি সাদা কুমড়োকে ভেঙ্গে তাতে সিঁদুর বা কুমকুম লাগানো হয়। কুমড়োর এই ভেঙে ফেলা, রাক্ষসরাজ নরকাসুরের মস্তকের প্রতিরূপ। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর কপালে যে রক্ত লেপে নিয়েছিলেন তারই প্রতীকস্বরূপ এই তেল ও কুমকুম।

ভূত চতুর্দশীর দিন পশ্চিম বাংলার ঘরে ঘরে ১৪ শাক খাওয়া থেকে শুরু করে ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর মতো একাধিক নিয়ম রীতি পালিত হয়। তবে এই দিনটিকে দেশের বহুস্থানে নরক চতুর্দশী হিসেবেও পালন করা হয়।

নরক চতুর্দশীর পৌরাণিক কাহিনী

কথিত আছে, ভগবান ইন্দ্রকে পরাজিত ও দেবমাতা অদিতির (সকল দেব-দেবীর জননী) কানের বালা ছিনিয়ে নিয়ে, রাক্ষসরাজ নরকাসুর, প্রাগজ্যোতিষপুরের (নেপালের দক্ষিণে) শাসক হয়ে বসেন। নরকাসুর, দেবতা ও ঋষিমুনিদের ১৬০০০ কন্যাদেরও তার অন্তঃপুরে বন্দী করে রাখেন।

নরক চতুর্দশীর আগের দিন, শ্রী কৃষ্ণ নরকাসুরের নিধন করে, ঐ কুমারী কন্যাদের বন্দীদশা থেকে মুক্ত করেন এবং দেবমাতা অদিতির বহু মূল্যবান কানবালাও উদ্ধার করেন। এইভাবেই, অশুভের ওপর শুভ- এর জয়কে উদযাপন করতেই, নরক চতুর্দশী পালিত হয়ে থাকে।

আরেকটি কিংবদন্তীতে রয়েছে, রাজা বলির কথা, যিনি অত্যাধিক বলশালী এবং ভগবানদের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছিলেন। তার প্রতিপত্তি খর্ব করতে ভগবান বিষ্ণু বামন অবতার ধারণ করেন এবং রাজা বালীর কাছে শুধুমাত্র নিজের তিন পদক্ষেপ সমান জমি ভিক্ষা করেন।

নিজের দানশীলতার জন্য খাত রাজা বলি এই ভিক্ষা মঞ্জুর করেন। ঠিক সেই মুহুর্তে সেই ক্ষুদ্র মানুষটি নিজেকে, সর্বশক্তিমান ভগবান বিষ্ণুতে রুপান্তরিত করে নেন। ভগবান বিষ্ণু, তাঁর প্রথম পদক্ষেপ রাখেন, স্বর্গে, দ্বিতীয় পদক্ষেপে মর্ত্যে এবং, তৃতীয় পদক্ষেপ কোথায় রাখবেন তা জিজ্ঞাসা করেন, রাজা বলিকে। বলি নিজের মাথা পেতে দেন। রাজার মাথায় পা রেখে ভগবান বিষ্ণু তাকে নরকে ঠেলে দেন। একইসময়ে রাজার উদারতার কথা মনে রেখে, ভগবান বিষ্ণু তাকে জ্ঞানের প্রদীপ দান করেন এবং বছরে একবার মর্ত্যে ফিরে এসে কোটি কোটি প্রদীপ জ্বালানোর অনুমতি দেন। এই প্রদীপই অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করে এবং প্রেম ও জ্ঞানের প্রভা বিস্তার করে। এইভাবেই নরক চতুর্দশীতে, অশুভের ওপর শুভ, অন্ধকারের ওপর আলো এবং অজ্ঞানতার ওপর জ্ঞানের বিজয়কে উদযাপন করা হয়।

X
Desktop Bottom Promotion