প্রতি সোমবার একাদশা রুদ্র শিব মন্ত্র জপ করলে কী কী উপকার মিলতে পারে জানা আছে?

Subscribe to Boldsky

সোমাবার যে মহাদেব শিবের অরাধনা করার দিন, সেকথা তো সবারই জানা আছে। কিন্তু এদিন এই বিশেষ মন্ত্রটি জপ করতে করতে দেবের পুজো করলে কী কী উপকার মিলতে পারে, সে সম্পর্কে মনে হয় অনেকই জানেন না। তাই তো বোল্ডস্কাইয়ের ধর্মপ্রাণ পাঠকদের সার্বিক উন্নতির কথা ভেবে এই প্রবন্ধটি লেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া।

কথায় বলে বেদ হল সেই শক্তির আধার, যাকে ঠিক ঠিক উপায়ে যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলে জীবন সুন্দর হয়ে উঠতে সময় লাগে না। কারণ আদিকালে লেখা এই বইয়ে এমন কিছু মন্ত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা বেজায় শক্তিশালী। আর এই মন্ত্রটিগুলি যদি ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে পাঠ করা যায়, তাহলে জীবন সুন্দর হয়ে উঠতে সময় লাগে না। এই যেমন একাদশা রুদ্র মন্ত্রের কথাই ধরুন না! বেদে উল্লেখিত এই শিব মন্ত্রটি প্রতি সোমবার পাঠ করা শুরু করলে মনের সব ইচ্ছা পূরণ তো হয়ই, সেই সঙ্গে যে কোনও সমস্যা মিটে যেতে সময় লাগে না। ফলে প্রতিটা দিন যে আনন্দে ভরে ওঠে তা তো বলাই বাহুল্য! তবে এখানই শেষ নয়, এই মন্ত্রটি এতটাই শক্তিশালী যে নিয়মিত পাঠ করা শুরু করলে আরও নানাবিধ উপকার পাওয়া যায়, যে সম্পর্কে এই প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

প্রসঙ্গত, মোট ১১ টি মন্ত্রকে একসঙ্গে একাদশা রুদ্র মন্ত্র বলা হয়ে থাকে। যেমন ধরুন-

১. কাপালি-"ওম হাম হাম শাস্তরস্থাম্ভানায় হাম হাম ওম ফাট"

২. পিঙ্গল: "ওম শ্রিম হ্রিম শ্রিম সর্ব মঙ্গল্যে পিঙ্গলায় ওম নমহ"

৩. ভিমা: "ওম আইম আইম মানো বঞ্চিতা সিদ্ধায় আইম আইম ওম"

৪. বিরুপক্ষ: "ওম রুদ্রায় রোগানক্ষত্রায় অগচ চা রাম ওম নমহ"

৫. বিলোহিতা:"ওম শ্রিম হ্রিম সাম সাম হ্রিম শ্রিম শঙ্কর্শনায় ওম"

৬. শাস্থা:"ওম হ্রিম হ্রিমসফলায়া সিদ্ধায় ওম নমহ"

৭. অজপদ:"ওম শ্রিমবাম শগ বলবর্ধনায় বালেশ্বরায় রুদ্রায় ফুট ওম"

৮. আহিরবুদ্ধায়:"ওম হ্রাম হ্রিম হাম সমস্থা গ্রহ দোশা বিনাশায় ওম"

৯. শমভু:"ওম গাম গ্লাম শ্রোম গ্লাম গাম ওম নমহ"

১০. চন্দ্র:"ওম চাম চন্দ্রশ্বরায় তেজাসায় চাম ওম ফুট"

১১. ভাবা:"ওম ভাবোদ ভাবা সম্ভায় ইশ্ট দর্শন হেতাভ ওম সাম ওম নমহ"

এই ১১ টি মন্ত্রের মধ্যে যে কোনও একটি মন্ত্র জপ করলেই কিন্তু নানাবিধ উপকার মিলতে শুরু করে। কিন্তু যদি ১১ টি মন্ত্রই পাঠ করা সম্ভব হয়, তাহলে দেখবেন বন্ধু জীবনে কোনও দিন পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। কারণ সক্ষেত্রে গৃহস্থে এত মাত্রায় পজেটিভ শক্তির বিকাশ ঘটবে যে মনের ছোট ছোট সব ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগবে না। সেই সঙ্গে আরও যে যে উপকারগুলি মিলবে, সেগুলি হল...

১. শনির সাড়ে সাতির খপ্পরে পরার আশঙ্কা হ্রাস পায়:

১. শনির সাড়ে সাতির খপ্পরে পরার আশঙ্কা হ্রাস পায়:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এই শক্তিশালী শিব মন্ত্রগুলি পাঠ করা শুরু করলে শনির সাড়ে সাতির খপ্পরে পরার আশঙ্কা হ্রাস পায়। ফলে জীবন নরকে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা যায় কমে। প্রসঙ্গত, এমনটাও অনেকে মানেন যে যারা শনির সাড়ে সাতির জালে ইতিমধ্য়েই ফেঁসে গেছেন, তারা যদি এই মন্ত্রগুলির কোনওটি জপ করেন, তাহলে খারাপ শিন দেবের খারাপ প্রভাব কেটে যেতে সময় লাগে না। ফলে টানা সাড়ে সাত বছর ধরে খারাপ সময়ের মার খাওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।

২. যে কোনও কাজে সফলতা আসে:

২. যে কোনও কাজে সফলতা আসে:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে নতুন কোনও কাজ শুরু করার আগে যদি একাদশা রুদ্র শিব মন্ত্রের "মহিরুদ্র" মন্ত্রটি জপ করা যায়, তাহলে সে কাজে সফলাতর স্বাদ পেতে সময় লাগে না।

৩. পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগে:

৩. পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগে:

শাস্ত্র মতে প্রতি সোমবার এই শিব মন্ত্রগুলির কোনও একটি এক মনে জপ করতে করতে দেবের নাম নিলে পরিবারের অন্দরে পজেটিভ শক্তির মাত্রা এতটা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে যে গৃহস্থে কোনও ধরনের অশান্তি বা কলহ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা হ্রাস পায়। ফলে সুখের ঝাঁপি খালি হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা যেমন কমে, তেমনি পরিবারে সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগতেও সময় লাগে না।

৪. মনের জোর বাড়বে:

৪. মনের জোর বাড়বে:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে নিয়মিত এই মন্ত্রগুলি যদি এক মনে জপ করা যায়, তাহলে মনের জোর এতটা বেড়ে যায় যে ভয়ের পাহাড় পেরতে সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, শাস্ত্র মতে এই মন্ত্রটি এতটাই শক্তিশালী যে দুঃখ, মানসিক অবসাদ এবংদুশ্চিন্তা কমাতেও সাহায্য করে থাকে। তাই তো বলি বন্ধু মনের জোরকে সঙ্গী করে যদি জীবনের প্রতিটি যুদ্ধে বিজয় পতাকা স্থাপন করতে হয়, তাহলে এই একাদশা রুদ্র মন্ত্র জপ করতে ভুলবেন না যেন!

৫. জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্ত মেলে:

৫. জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্ত মেলে:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে নিয়মিত এই মন্ত্রতি পাঠ করা শুরু করলে স্বর্গের দরজা খুলে যায়। শুধু তাই নয়, জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকেও মুক্তি মেলে। ফলে মোক্ষ লাভের পথ প্রশস্ত হয়।

৬. খারাপ শক্তির প্রভাব কমে যায়:

৬. খারাপ শক্তির প্রভাব কমে যায়:

শাস্ত্র মতে একাদশা রুদ্র মন্ত্র পাঠ করা শুরু করলে গৃহস্থের অন্দরে জায়গা করে নেওয়া খারাপ শক্তির প্রভাব কমতে শুরু করে। ফলে কোনও ধরনের বিপদ ঘটার আশঙ্কা হ্রাস পায়। বিশেষত কোনও ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়। শুধু তাই নয়, পরিবারের অন্দরে কোনও ধরনের বিবাদ বা কলহ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কাও আর থাকে না। ফলে নিরাপদে এবং সুখে-শান্তিতে কেটে যায় বাকি জীবন।

৭. অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে:

৭. অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে:

বন্ধু নানা কারণে কি বেজায় অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে আছেন? তাহলে আজ থেকেই প্রতি দিন ১০৮ বার এই মন্ত্রগুলি পাঠ করা শুরু করুন। দেখবেন সুফল মিলতে সময় লাগবে না। এক্ষেত্রে যে কোনও ধরনের অর্থনৈতিক সমস্যা তো মিটবেই, সেই সঙ্গে দেবের আশীর্বাদে কর্মক্ষেত্রে উন্নতি লাভের পথও প্রশস্ত হতে শুরু করবে। ফলে নিমেষে পদন্নতি ঘটবে। সেই সঙ্গে সম্মানও বৃদ্ধি পাবে চোখে পরার মতো।

৮. গ্রহ দোষ কেটে যায়:

৮. গ্রহ দোষ কেটে যায়:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে প্রতিদিন ১০৮ বার এই মন্ত্রগুলি পাঠ করলে জন্মকুষ্টিতে থাকা গ্রহ-নক্ষত্রের খারাপ প্রভাব কেটে যেতে সময় লাগে না। ফলে জীবন পথে চলতে চলতে দুঃখ-কষ্টের সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।

৯. প্রতিপক্ষদের নিকেশ ঘটবে:

৯. প্রতিপক্ষদের নিকেশ ঘটবে:

আজকের দুনিয়ায় যেখানে বেশিরভাগই নিজেদের ভাল ছাড়া আর কিছুই ভাবে না। সেখানে আমাদের ক্ষতি করতে চায়, এমন লোকের সংখ্যা যে নেহাতই কম নয়, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে! তাই তো বলি বন্ধু, নিজেকে যদি প্রতিপক্ষদের মার থেকে সুরক্ষিত রাখতে হয়, তাহলে দেবের শরণাপন্ন হতে ভুলবেন না যেন। আসলে শ্রাস্ত্র মতে একাদশা রুদ্র শিব মন্ত্রটি নিয়মিত পাঠ করলে দেবের আশীর্বাদ লাভ হয়। ফলে প্রতিপক্ষদের নিকেশ ঘটতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে কালো যাদুর প্রভাবও কেটে যায়। ফলে কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আর থাকে না বললেই চলে।

১০. কর্মক্ষেত্রে চরম সফলতার স্বাদ মেলে:

১০. কর্মক্ষেত্রে চরম সফলতার স্বাদ মেলে:

৩০ পেরতে না পেরতেই কি বাড়ি, গাড়ি এবং মোটা মাইনের চাকরি পেতে চান, তাহলে বন্ধু, সোমবার করে এই শক্তিশালী শিব মন্ত্রগুলি পাঠ করতে ভুলবেন না যেন! কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এই মন্ত্রটি পাঠ করা শুরু করলে সর্বশক্তিমানের আশীর্বাদ লাভ হয়। ফলে মনের ছোট থেকে ছোটতর ইচ্ছা পূরণ তো হয়ই, সেই সঙ্গে কর্মজীবনে চরম সফলতার স্বাদ মিলতেও সময় লাগে না।

১১. দেহের ক্ষমতা বাড়ে:

১১. দেহের ক্ষমতা বাড়ে:

শাস্ত্র মতে এই মন্ত্রগুলি এতটাই শক্তিশালী যে পাঠ করা মাত্র দেহের অন্দরের শক্তি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে ক্লান্তি যেমন দূর হয়, তেমনি ছোট-বড় নানা রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। ফলে আয়ু বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো। তাই তো বলি বন্ধু বহু বছর যদি সুস্থভাবে কাটাতে হয়, তাহলে শিব পঞ্চকশরা মন্ত্রটি পাঠ করতে ভুলবেন না যেন!

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: ধর্ম
    English summary

    Most Effective Lord Shiva Mantra For Everything

    In the centre of the Krsna Yajur Veda, there is a hymn called the Rudra (also called the Rudram or Rudraprasna). It is a powerful invocation of Lord Shiva in the fierce form of Rudra. Rudra is the God of the Wind, Storm and the Hunt. He is accompanied by his fearsome entourage of the Maruts, the Gods of the Storm and Hunt and is known as the God of Thieves.Translating from Sanskrit, Rudra means “the Howling One”, “the Terrible One”, “the Roaring One”, or “the Wild One”.
    Story first published: Monday, September 24, 2018, 11:17 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more