মল্লিকার্জুন: দ্বিতীয় জ্যোতির্লিঙ্গের কথা

By Tulika Ghoshal
Subscribe to Boldsky

মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ, শ্রীশৈলম অন্ধ্র প্রদেশে অবস্থিত| বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে এটি একটি এবং শিবের উপাসনার একটি খুব প্রাচীন স্থান|

এটি অনন্য কারণ দেবাদিদেব মহাদেব এবং দেবী পার্বতী দুজনেই এখানে জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে উপস্থিত| মল্লিকার্জুন, দুটি শব্দের একটি মিশ্রন, যাতে 'মল্লিকা' দেবী পার্বতী এবং 'অর্জুন' শিবের অনেক নামের মধ্যে একটি বোঝায়|

মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গের আরেকটি তাৎপর্য হল এই যে এটি ২৭৫ পড়ল পেত্রা স্থালামের মধ্যে অন্যতম| পড়ল পেত্রা স্থালাম মন্দির ও উপাসনালয় দেবাদিদেব মহাদেবের জন্য নিবেদিত হয়| শিব নয়নার শ্লোকে এই মন্দির সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শতকে|

মল্লিকার্জুন: দ্বিতীয় জ্যোতির্লিঙ্গের কথা

শক্তিপীঠ মল্লিকার্জুন

৫২টি শক্তিপীঠের মধ্যে মল্লিকার্জুন অন্যতম| শিবের পত্নী দেবী সতীর শরীর নিয়ে যখন মহাদেব ধ্বংসের নাচ নেচেছিলেন, বিষ্ণুদেবের সুদর্শন চক্র ব্যবহারে সতীদেবীর শরীর টুকরো টুকরো হয়েছিল| এই টুকরা পৃথিবীর উপর পড়ে এবং শিবের ভক্তদের জন্য উপাসনার এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে ওঠে| এই স্থানগুলি শক্তিপীঠ হিসেবে গণ্য করা হয়|

কথিত আছে যে, পৃথিবীতে দেবী সতীর ওপরের ঠোঁট এই মল্লিকার্জুনে পড়ে| তাই এই স্থান হিন্দুদের কাছে এত পবিত্র|

মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গের কিংবদন্তী

মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে অনেক ভিন্ন ভিন্ন গল্প কথিত আছে এবং ভক্তরা বিভিন্ন গল্প পছন্দ করে থাকেন| এখানে, আমরা সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি গল্পের কথা উল্লেখ করব|

নিম্নলিখিত গল্প শিব পুরাণের কোটিরুদ্র সংহিতার ১৫ অধ্যায়ে পাওয়া যাবে|

একবার, মহাদেব এবং দেবী পার্বতী তাদের পুত্রদের, গণেশ ও কার্তিকের বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রীর সন্ধান করার সিদ্ধান্ত নিলেন| প্রথমে কার বিয়ে দেওয়া যায় তাই নিয়ে তর্ক শুরু হল| শিব প্রস্তাব দিলেন, যে প্রথম বিশ্বভ্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণ শেষ করবে তার বিবাহ আগে হবে|

মল্লিকার্জুন: দ্বিতীয় জ্যোতির্লিঙ্গের কথা

প্রভু কার্তিক তার ময়ুরের উপর চড়ে বসে প্রদক্ষিণ শুরু করে দিলেন| প্রভু গণেশ বুদ্ধি করে তার পিতামাতাকে সাতবার প্রদক্ষিণ করলেন এবং বললেন তাঁর কাছে পিতামাতাই বিশ্ব| এভাবে প্রতিযোগিতা জেতার পর গণেশের বিবাহ দেবী রিধি ও সিদ্ধির সাথে সম্পন্ন হল| যখন প্রভু কার্তিক ফিরে এলেন তিনি এই পক্ষপাতদুষ্টতা দেখে ক্রুদ্ধ হলেন এবং বরাবরের জন্য কৈলাশ ছেড়ে কুমারভ্রমচারী নাম নিয়ে ক্রন্চ পর্বতে বসবাস করতে চলে গেলেন|

এই ঘটনায় মহাদেব ও পার্বতী বিষন্ন হলেন| তারা প্রভুর কার্তিককে দেখতে ক্রন্চ পর্বত পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত নিলেন| যখন কার্তিক বুঝতে পারলেন, তাঁর বাবামায়ের আগমন হবে, তখন তিনি অন্যত্র চলে যান| যেখানে প্রভু শিব ও দেবী পার্বতী অপেক্ষা করেছিলেন সেই জায়গাটি এখন শ্রীশৈলম হিসাবে পরিচিত| বলা হয়, শিব প্রতি অমাবস্যায় এবং দেবী পার্বতী প্রতি পূর্ণিমাতে কার্তিক পরিদর্শনে যান|

পরবর্তী গল্প রাজকুমারী চন্দ্রাবতীকে নিয়ে| গল্পটি মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরের দেয়ালে খোদাই করা আছে|

চন্দ্রাবতী রাজকন্যা হিসেবে জন্ম গ্রহণ করেন কিন্তু রাজকীয় জীবন ত্যাগ করে প্রায়শ্চিত্তের জীবন যাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন| তিনি যখন কদলী বনে ধ্যান মগ্ন ছিলেন তখন তিনি দেখেন কপিল গাভী একটি বেল গাছের নিকট উপস্থিত হল| গাভীর চারটি বাট দিয়ে অনর্গল দুধ বেরিয়ে সেই জায়গাটি ভিজে যায়| প্রতিদিন এই জিনিস চলতে থাকে| কিংকর্তব্যবিমূঢ়, রাজকুমারী গাছের তলার মাটি খুঁড়তে শুরু করলেন| এখানেই তিনি 'স্বয়ম্ভু শিবলিঙ্গ' পেলেন-শিবলিঙ্গ যা প্রকৃতির দ্বারা গঠিত| শিবলিঙ্গ উজ্জ্বল এবং জ্বলন্ত ছিল|

চন্দ্রাবতী এই জ্যোতির্লিঙ্গের উপাসনা করেন এবং অবশেষে একটি বিশাল জ্যোতির্লিঙ্গের মন্দির তৈরী করেন|

কথিত আছে যে, চন্দ্রাবতী শিবের খুব প্রিয় ভক্ত ছিলেন| অন্তিমকালে, তিনি বাতাসের দ্বারা কৈলাশে বাহিত হয়ে সেখানেই মোক্ষ ও মুক্তি পান|

মল্লিকার্জুন: দ্বিতীয় জ্যোতির্লিঙ্গের কথা

মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গে শিবের আরাধনার তাৎপর্য

এটা বিশ্বাস করা হয় যে এখানে শিবের কাছে প্রার্থনা করলে অপরিমেয় সম্পদ ও খ্যাতি অর্জিত হয়| শিবের কাছে সত্য নিষ্ঠা থাকলে সব রকমের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়|

মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গে উৎসব

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হল মহা শিবরাত্রি| প্রতি বছর, জাঁকজমকের সাথে এই অনুষ্ঠান পালিত হয়| এই বছর, মহা শিবরাত্রি ফেব্রুয়ারি ২৪ তারিখে পালিত হবে|

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: শিব
    English summary

    দ্বিতীয় জ্যোতির্লিঙ্গের কথা | সবিস্তারে মল্লিকার্জুনের গল্প | মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গের কিংবদন্তী | মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গে উৎসব

    Mallikarjuna jyotirlinga is located in Srisailam, Andhra Pradesh. It is one among the twelve jyotirlingas and is a very ancient place of worship for the followers of Lord Shiva.
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more