Krishna Janmashtami 2023: জন্মাষ্টমীর ব্রত পালনে মেনে চলুন এই নিয়ম, পূরণ হবে সকল মনোস্কামনা!

Krishna Janmashtami Fasting Rules in Bengali: ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথিই 'জন্মাষ্টমী' হিসেবে পালিত হয়। কথিত আছে, কোনও ব্যক্তি এক বার ভক্তিভরে শ্রীকৃষ্ণের এই জন্মাষ্টমী ব্রত পালন করেন, তা হলে তাঁকে জীবনে কোনও কষ্ট ভোগ করতে হয় না। এ বছর ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর গোটা দেশে মহা আড়ম্বরে পালিত হবে জন্মাষ্টমীর উৎসব।

জন্মাষ্টমীর দিন শ্রী কৃষ্ণের শিশু রুপ নাড়ু গোপালের পূজা করা হয়। এই দিন ব্রত পালনের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চলা উচিত। তবেই পূরণ হবে সকল মনোস্কামনা। আসুন জেনে নেওয়া যাক কী ভাবে জন্মাষ্টমী ব্রত পালন করবেন।

Krishna Janmashtami

১) জন্মাষ্টমীর আগের দিন নিরামিষ খাবার খেতে হবে এবং রাত ১২টার মধ্যে খেয়ে নিতে হবে। ঘুমানোর আগে অবশ্যই ভাল করে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

২) কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিন ব্রহ্ম মুহুর্তে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সামনে ব্রত পালনের সংকল্প নিন। হাতে একটি তুলসী পাতা রেখে এই সংকল্প করা উচিত। ব্রত পালনের সময় হওয়া কোনও ভুলের জন্য আগে থেকেই ক্ষমা প্রার্থনা করে নিন।

৩) যে সকল বিবাহিত জাতক জাতিকারা ব্রত রাখবেন, তাঁরা জন্মাষ্টমীর আগের রাত থেকেই ব্রহ্মচর্য পালন করুন। সাধারণত রাত ১২টার পর থেকে ব্রত শুরু হয়ে যায় এবং পরের দিন রাত ১২টায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মের পরই তা শেষ হয়।

৪) জন্মাষ্টমীর দিন শ্রী বিষ্ণুর পূজা করুন এবং ভগবানের কাছে তিল নিবেদন করুন। দুপুরে তিলের জলে স্নান করুন। প্রচলিত বিশ্বাস, এই সময় থেকেই মাতা দেবকীর প্রসব বেদনা শুরু হয় এবং রাতে শ্রী কৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন।

৫) জন্মাষ্টমীর দিনে লক্ষ্মী নারায়ণের পূজা করা উচিত। বাড়ির দরজা পদ্ম ফুল দিয়ে সাজান। পদ্ম ফুল শ্রী বিষ্ণুর খুব প্রিয় এবং এই ফুলেই দেবী লক্ষ্মীর বাস।

৬) জন্মাষ্টমী তিথিতে গোপালের পুজোয় অবশ্যই শশা নিবেদন করতে হবে। এই তিথিতে এমন শশা আনা উচিত যাতে ডাঁটি ও পাতা থাকে। একটি শিশু যখন জন্ম নেয় তখন তাকে মায়ের থেকে আলাদা করার জন্য নাড়ি কাটা হয়। একই ভাবে জন্মাষ্টমীর দিন মাঝরাতে কৃষ্ণ জন্মের সময়ে শসার ডাঁটি কেটে তার কাণ্ড থেকে আলাদা করা হয়। এটি মা দেবকী থেকে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের বিচ্ছিন্নতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এটি করার পরই যথাযথ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুজো শুরু হয়। তবে এই দিনে গোপালের জন্মের আগে ভুলেও শসা কাটা উচিত নয়।

৭) জন্মাষ্টমীর উপবাসে ফলাহার করতে পারেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফল খাওয়া উচিত। রাতে স্বাভাবিক খাবার খেয়ে উপোস ভাঙতে পারেন। তবে যারা সারা দিন উপোস রাখতে চান, তারাও রাতে ফল, দই, দুধ ও শ্রী কৃষ্ণকে দেওয়া প্রসাদ খেতে পারেন।

৮) শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিনে ব্রত রাখলে, সন্ধ্যার পূজার সময় আপনার নতুন পোশাক পরা উচিত।

৯) এই দিনে সারা দিন শ্রী কৃষ্ণের নাম জপ করা উচিত। সকাল থেকে মধ্য রাত্রি পর্যন্ত উপবাস এবং জাগরণ। হরিনাম জপ, কৃষ্ণ লীলা শ্রবণ, ভগবানকে দর্শন, ভজন, কীর্তন, অভিষেক দর্শন করতে হবে। ভগবানকে অভিষেক করে অনুকল্প প্রসাদ সেবন করতে হবে। যে পঞ্চামৃত দিয়ে গোপালকে স্নান করানো হবে, সেই পঞ্চামৃত প্রসাদ আকারে অবশ্যই গ্রহণ করুন।

১০) এই দিনে জলে তুলসী পাতা রেখে পান করুন। এই দিনে সঠিক বিধি মেনে তুলসীর পূজাও করতে হবে। শ্রী কৃষ্ণের প্রতিটি ভোগে তুলসি পাতা অবশ্যই রাখতে হবে।

১১) জন্মাষ্টমীর পরের দিন সকালে স্নান করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারণ মন্ত্র পাঠ করে শ্রীকৃষ্ণের প্রসাদ খেয়ে ব্রত ভঙ্গ করবেন।

Disclaimer: এই আর্টিকেলটি ইন্টারনেটে উপলব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। এই তথ্য ধর্মীয় আস্থা ও লৌকিক মান্যতার উপর আধারিত। এর সত্যতার দাবি করে না বোল্ডস্কাই বাংলা।

Story first published: Tuesday, September 5, 2023, 21:00 [IST]
X
Desktop Bottom Promotion