Krishna Janmashtami: জন্মাষ্টমীর দিন এই কাজগুলি ভুলেও করবেন না, হতে পারে মারাত্মক বিপদ!

হিন্দু ধর্মে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব মহা ধূমধাম করে পালিত হয়। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে উৎসর্গ করা এই পবিত্র উৎসবটি প্রতি বছর ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এবং রোহিণী নক্ষত্রে পালিত হয়। এই দিনে শ্রীকৃষ্ণের ভক্তরা তাঁর পূজার জন্য ব্রত পালন করেন। ভক্তরা সারাদিন শ্রীকৃষ্ণের ভজন-কীর্তন করেন। জন্মাষ্টমীর দিন দেশের সমস্ত কৃষ্ণ মন্দির ফুল-আলোয় সেজে ওঠে। অনেকে বাড়িতেও গোপাল পুজোর আয়োজন করেন। বাল গোপালকে সুন্দর করে সাজানো হয়।

কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিনটি হিন্দু ধর্মে খুবই শুভ বলে মানা হয় এবং এই দিন নিষ্ঠা ভরে কৃষ্ণের পুজো করলে মনের সমস্ত ইচ্ছা পূরণ হয়। তবে এমন অনেক কাজ আছে যেগুলি জন্মাষ্টমীর দিন একেবারেই করা উচিত নয়। আসুন জেনে নিন, এই দিন কী করবেন ও কী করবেন না।

Krishna Janmashtami dos and donts

জন্মাষ্টমীর দিন কী করবেন

১) জন্মাষ্টমীর দিন খুব সকালে স্নান করে গোপালের পুজো করুন। পুজোয় বসার সময় অবশ্যই শুদ্ধবস্ত্র পরুন। বাল গোপালের পূজায় ব্যবহৃত সমস্ত উপকরণ অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে।

২) ভগবান কৃষ্ণকে পরিষ্কার জল এবং গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করান। শ্রীকৃষ্ণের পুজোয় টাটকা ফুল ব্যবহার করুন। তামা, পিতল ও মাটির প্রদীপ পুজোয় ব্যবহার করুন।

৩) বাল গোপাল মাখন, মিশ্রী এবং তুলসী পাতা খুব পছন্দ করেন, তাই অবশ্যই সেগুলি তাঁর ভোগে অন্তর্ভুক্ত করুন। বাল গোপালকে সাজানোর জন্য কানের দুল, হাতে বালা, বাঁশি এবং ময়ূরের পালক অবশ্যই ব্যবহার করুন।

৪) বাল গোপালের আরতি করার পরে, তাঁকে ভোগ নিবেদন করুন, দোলনায় দোলান এবং তারপর দোলনায় থাকা পর্দা বন্ধ করতে ভুলবেন না।

৫) এই দিন খাদ্যশস্য বিলি করতে পারেন।

৬) জন্মাষ্টমীর দিন ব্রহ্মচর্য পালন করা অনিবার্য। এই দিন পবিত্র মনে নিষ্ঠাভরে ভগবানের পূজা করা উচিত।

৭) জন্মাষ্টমীর আগের দিন নিরমিষ খেয়ে সংযম পালন করতে হবে এবং রাত ১২টার মধ্যে খেয়ে নিতে হবে। ঘুমানোর আগে ভাল করে মুখ ধুয়ে তবেই ঘুমাতে হবে।

৮) জন্মাষ্টমীর দিন সকাল থেকে মধ্য রাত্রি পর্যন্ত উপবাস এবং জেগে থাকতে হবে। এই দিন সবসময় হরিনাম জপ, হরিনাম কীর্তন, শ্রীকৃষ্ণের লীলা শ্রবণ করতে হবে।

৯) জন্মাষ্টমীর পরের দিন সকালে স্নান সেরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারণ মন্ত্র পাঠ করে, ভগবান কৃষ্ণের প্রসাদ দিয়ে পারণ করবেন।

১০) জন্মাষ্টমীর পুজোয় শাঁখের মধ্যে একটু দুধ রাখুন।

জন্মাষ্টমীর দিন কী করবেন না

১) যদি বাড়িতে বাল গোপাল থাকে, তাহলে মাংস-মাছ এবং মদ খাওয়া, খারাপ আচরণ এবং অধার্মিক কাজ ভুলেও করবেন না।

২) জন্মাষ্টমীর দিন ভুল করেও তুলসী পাতা ছেঁড়া উচিত নয়। বিশ্বাস করা হয়, তুলসী ভগবান বিষ্ণুর খুবই প্রিয়। তাই এই দিনে তুলসী পাতা ছেঁড়া শুভ বলে বিবেচিত হয় না।

৩) যারা জন্মাষ্টমী ব্রত পালন করেন না, তাদেরও এই দিনে ভাত খাওয়া উচিত নয়। একাদশী ও জন্মাষ্টমীতে ভাত এবং যবের তৈরি খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়।

৪) রসুন, পেঁয়াজ বা অন্য কোনও আমিষ জাতীয় খাবার এই দিনে খাওয়া উচিত নয়। মাছ-মাংস এবং অ্যালকোহল বাড়িতে আনা উচিত নয়।

৫) কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিনে কাউকে অসম্মান করবেন না। ধনী বা গরিব সব ভক্তই তাঁর কাছে সমান। কোনও দরিদ্র ব্যক্তিকে অপমান করলে ভগবান কৃষ্ণ অসন্তুষ্ট হতে পারেন।

৬) জন্মাষ্টমীর দিনে গাছ কাটাও অশুভ বলে বিবেচিত হয়। শ্রীকৃষ্ণ সবকিছুর মধ্যে বসবাস করেন। বরং সম্ভব হলে এই দিনে বেশি গাছ লাগাতে হবে। এতে ঘর-পরিবারে সুখ ও শান্তি বজায় থাকবে।

৭) এই দিন গরুকে অবহেলা করবেন না। ভগবান কৃষ্ণ গরুকে খুব ভালবাসতেন। ছোটোবেলায় তিনি গরুর সঙ্গেই খেলা করতেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গরুর পূজা করলে শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদ লাভ হয়।

৮) যারা এই দিনে ব্রত পালন করেন, তাদের রাত ১২টার আগে ব্রত ভঙ্গ করা উচিত নয়। তার আগে ব্রত ভাঙলে পূজার ফল পাওয়া যায় না এবং ব্রতও অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। পুজো শেষ হওয়ার আগে কিছু খাওয়া যাবে না।

Disclaimer: এই আর্টিকেলটি ইন্টারনেটে উপলব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। এই তথ্য ধর্মীয় আস্থা ও লৌকিক মান্যতার উপর আধারিত। এর সত্যতার দাবি করে না বোল্ডস্কাই বাংলা।

X
Desktop Bottom Promotion