রাশি অনুসারে কোন দেব-দেবীর পুজো করলে মনের মতো ফল মেলে জানা আছে?

Written By:
Subscribe to Boldsky

হিন্দু ধর্মের উপর লেখা নানাবিধ শাস্ত্রের অলিগলিতে ঘুরলে আপনি জানতে পারবেন নানাবিধ দেব-দেবীর পুজো করার যে পদ্ধতি আমরা সাধারণত অনুসরণ করে থাকি, তা মোটেও সঠিক নয়। সেই কারণেই তো যে ফলের আশায় আমরা সর্বশক্তিমানের আরাধনা করি, সেই ফল পেতে হয় দেরি হয়, নয়তো পাওয়াই যায় না। এখন প্রশ্ন হল, দেবতাদের পুজো করার সঠিক নিয়ম কী?

অগ্নি পুরাণ অনুসারে যে কোনও মানুষেরই তার রাশি অনুসারে দেব-দেবীর পুজো করা উচিত। না হলে যতই মন্ত্রপাঠ করা হোক না কেন, সেভাবে কোনও ফলই পাওয়া যায় না। আসলে শাস্ত্র মতে রাশি হল আমাদের প্রকৃত পরিচয়। তাই তো এই অনুসারে পুজো-অর্চনা করলে কসমিক এনার্জির ক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জাতক-জাতিকাদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না।

জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে প্রতিটি রাশিকেই একটি নির্দিষ্ট গ্রহ এবং দেব অথবা দেবী নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সেই কারণেই তো রাশি অনুসারে রুলিং প্ল্যানেট এবং দেব-দেবীর পুজো করলে ফল মিলতে সময় লাগে না। এখন প্রশ্ন হল কোন রাশির জাতক-জাতিকাদের কোন দেব-দেবীর পুজো করলে বশি উপকার মেলে?

১. মেষ, বৃশ্চিক, মকর এবং কুম্ভরাশ রাশি:

১. মেষ, বৃশ্চিক, মকর এবং কুম্ভরাশ রাশি:

শাস্ত্র মতে মেষ এবং বৃশ্চিক রাশির রুলিং প্ল্যানেট হল মঙ্গল। আর মকর এবং কুম্ভরাশিকে নিয়ন্ত্রণ করে শনি। তাই তো এই রাশির জাতক-জাতিকাদের নিয়ম করে ভগবান শিবের আরাধনা করা উচিত। প্রসঙ্গত, একাধিক বইয়ে এমনটাও উল্লেখ পাওয়া যায় যে এই রাশির অধিকারিরা যদি ঠিক মতে দেবাদিদেবের পুজো করতে পারেন, তাহলে সাফল্য তাদের চিরসঙ্গী হয়। সেই সঙ্গে বৈবাহিক এবং পারিবারিক জীবনও সুখ-শান্তিতে কাটে। এক্ষেত্রে যে যে মন্ত্র পাঠ করে শিবের পুজো করতে হবে সেগুলি হল- "আম আঙ্গারকায় বিদমহমী ভুমিপালায়া ধিমাহে তানও কুজাহা প্রাচোদায়েত... আম চিত্রি পুত্রায়া বিদমাহে লোহে তাঙ্গাই ধিমাহে তানো ভূমা প্রচায়াদাত"। আর যদি শনিকে সান্ত করতে হয়, তাহলে পাঠ করতে হবে "ওম শানো দেবীরাভিসতাদাপো ভাবান্তুপিতায়া আপরাদাশাস্যাত্রানি ক্রিতায়ান্তেহেরনিসম মায়া দাশোয়ামিতি মা মাৎভাকাশামসভা পরমেশ্বরহ। গাতাম গাঁইম পাপম গতম দুখম গতম দারিদ্রায়া মেবা চে... অগাথ সুখ-সম্পাতি পুন্নায়াহাম তেভা দার্শানাথ", এই মন্ত্রটি।

২. বৃষরাশি এবং তুলারাশি:

২. বৃষরাশি এবং তুলারাশি:

আপনি যদি এই রাশির অধিকারি হয়ে থাকেন, তাহলে চোখ বুজে মা লক্ষীর আরাধন করা শুরু করুন। কারণ শাস্ত্র মতে যাদের রুলিং প্ল্যা শুক্র, তাদের মা লক্ষীর পুজো করলে দারুন ফল মেলে। এক্ষেত্রে যে মন্ত্রটি পাঠ করে পুজো করতে হবে, সেটি হল..."ওম সার্বাধাম বিনিরমুক্ত, ধন ধান্যে সুতানবিতা... মানুষ মাতপ্রাসাধন ভবিষতি না সানশায়াহ...ওম ওম শ্রী মাহালাক্ষী চা বিধারাহে বিষ্ণু পাত্রায়ে চে ধিমাহি তানো লাক্ষী প্রাচায়েদাত ওম।" আর শুক্রর খারাপ প্রভাবকে শান্ত করতে পাঠ করতে হবে এই মন্ত্রটি... "ওম দ্রামাগ দ্রিং দ্রয়ং শাশুক্রায়া নামাহ...ওম রাজাদাবায়া নামাহে, ব্রিগুশাতে ধিমাহে তানো শুক্রাহা প্রাচাদায়াত।"

৩. মিথুন এবং কন্যারাশি:

৩. মিথুন এবং কন্যারাশি:

এই রাশির জাতক-জাতিকাদের উপর বুধের প্রভাব খুব বেশি থাকে। তাই তো এদের নারায়ণের পুজো করা উচিত। এখন প্রশ্ন হল শ্রী বিষ্ণুর পুজো করার সময় কোন মন্ত্রটি পাঠ করলে দ্রুত ফল মিলতে পারে? এক্ষেত্রে যে মন্ত্রটি পাঠ করতে হবে, সেটি হল..."আম নারায়াণায়ে ভিদমাহে ধিমাহি তানো বিষ্ণু প্রাচোদায়াত।" দিনে ৯ বার এই মন্ত্রটি পাঠ করলে দেখবেন ব্যাপক ফল পাবেন। অর্থনৈতিক উন্নতি তো হবেই, সেই সঙ্গে সাফল্য আপনার সঙ্গে সঙ্গে চলবে।

৪. কর্কট রাশি:

৪. কর্কট রাশি:

এই রাশির অধিপতি হলেন চাঁদ। তাই তো এই রাশির জাতক-জাতিকাদের পার্বতী বা মা গৌরির পুজো করা উচিত। প্রসঙ্গত, মা গৌরি হলেন পার্বতীরই আরেক রুপ মাত্র। এক্ষেত্রে "মাতা চা পার্বতী দেবী, পিতা দেবো মহাশ্বর বন্ধব শিবা ভাক্তাচ, শুভাদেশ ভুমানত্রায়ামি... হে গৌরি শাঙ্কারারদেহিগি ইথা তুভামশঙ্করপ্রিয়া তথা মাম কুরু কল্যাণীকান্থাকাম সুদূরলাভাম", এই শ্লোকটি নিয়মিত পাঠ করতে হবে।

৫. সিংহরাশি:

৫. সিংহরাশি:

সূর্য হল এই রাশির অধপতি। তাই তো সিংহরাশির জাতক-জাতিকাদের ভগবান শিবের আরাধনা করতে হবে। এক্ষেত্রে দিনে ২১ বার ভগবান শিবের একটি বিশেষ মন্ত্র পাঠ করলে ফল মিলবে একেবারে হাতে-নাতে। এক্ষেত্রে যে মন্ত্রটি পাঠ করতে হহে, সেটি হল- "নাগেদ্রহারায়া ত্রিলোচনয়া ভাস্মাঙ্গা রাগায়া মহেশ্বরায়া নিতায়া সুদ্ধায়া দিগম্বরায়াহ তাসমে না কারায় নামাহ। শিবা...মন্দাকিনি সালিলা কন্দনকার্সিতায়া নান্দিসভারা প্রামাথানাথা মাহেশ্বরায়া মন্দরপুস্প বাহু পুস্প তাসমে মা কারায়া নামাহ শিবায়া।"

৬. ধনু এবং মিনরাশি:

৬. ধনু এবং মিনরাশি:

জুপিটার হল এই রাশির অধপতি এবং যে ভগবানের পুজো করা এই রাশির জাতিক-জাতিকাদের একান্ত কাম্য, তিনি হলেন ভগমান শিব। প্রাচীন কালে লেখা একাধিক শাস্ত্রে এমনটা উল্লেখ পাওয়া যায় যে ধনু এবং মিনরাশির জাতকরা যদি নিয়মিত দেবাদিদেবের পুজো করেন, তাহলে জীবনে চলার পথে নানাবিধ বাঁধার সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। এই রাশির অধিকারিদের যে মন্ত্রটি পাঠ করার মধ্যে দিয়ে ভগবান শিবের আরাধনা করতে হবে, সেই মন্ত্রটি হল..."ওম নমহ ভগবতে দক্ষণামুর্তি...মাহায়াম মেধাম প্রাজ্ঞায়াম প্রায়াচাস সোয়াহা ব্রশাবাত বাজায়াবিধমাহে ক্রনি হাস্তায়া ধিমাহে-তানো গুরু প্রচোদায়া...অপরা মিয়াথাভা ইয়া থিধা নির্মালা মোর্তায়া...মানোগি রাম ভিধারায়া, দক্ষিণা মোর্তায়া নামাহ!"

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Read more about: ধর্ম
    English summary

    দেব-দেবীর পুজো করার যে পদ্ধতি আমরা সাধারণত অনুসরণ করে থাকি, তা মোটেও সঠিক নয়। সেই কারণেই তো যে ফলের আশায় আমরা সর্বশক্তিমানের আরাধনা করি, সেই ফল পেতে হয় দেরি হয়, নয়তো পাওয়াই যায় না। এখন প্রশ্ন হল, দেবতাদের পুজো করার সঠিক নিয়ম কী?

    According to Agni Purana, one should worship god and goddess as per their sun sign, which further boosts their cosmic energy and impresses them to calm planetary motions.
    Story first published: Tuesday, February 27, 2018, 11:26 [IST]
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Boldsky sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Boldsky website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more