সরস্বতী পুজোর দিন হলুদ শাড়ি কেন পরতে হয় জানেন?

By Nayan

আজকের দিনটা শুধুই পুজো-পুজো দিন নয়, বরং আরও বশি আদরের। কারণ আজ তাবড় বাঙালি জ্ঞানের এবং গুণের পুজো করার পর আনন্দে মেতে উঠবে, ভালবাসা ফিরে পাবে তার কাছের মানুষদের। কারণ স্বরস্বতী পুজো মানে তো শুধু স্কুলে খিচুড়ি আর বোঁদে নয়। এই পুজো তো বাঙালি প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে ১৪ ফেব্রয়ারির আগের আরও এক ভ্যালেন্টাইন উৎসবও। কি তাই না! তাই তো আজ ছোট্ট চিপ, আর অনভ্যেসের আঁচল সামলে অনেকেই স্কুল-কলেজে যাবেন তো খালি হতে। কিন্তু ফিরবে হয়তো গোলাপের তোড়া, নয়তো মন ভর্তি ভালাবাসা নিয়ে। কিন্তু একটাই প্রশ্ন জাগছে মনে।

saraswati puja

কী প্রশ্ন? সেই ছোট থেকে হয়তো আমার মতো আপনারাও দেখে আসছেন যে আজকের দিনে হলুদ রঙের শাড়ি পরার প্রবণতা চোখে পরার মতো বেড়ে যায়। কিন্তু কেন? প্রকৃতি এখন বসন্তের অধিনে আছে বলেই কি আজ হলুদের এত রমরমা, নাকি আরও কিছু কারণ রয়েছে এর পিছনে?

বেশ কিছু প্রাচীন বই ঘেঁটে আবছা একটা ধরণা করা সম্ভব হয়েছে কেন সরস্বতী পুজোর দিন হলুদ রংকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়। চলুন একটু নজর ফেরানো যাক সেদিকে।

১. প্রকৃতি এবং রং:

১. প্রকৃতি এবং রং:

বসন্ত কালের রং হল হলুদ। আর বসন্ত পঞ্চমীতে যেহেতু জ্ঞানের দেবীর পুজো করা হয়, তাই আজকের দিনে হলুদ রঙের ব্যবহার বেড়ে যায়। তবে এই রঙের সঙ্গে প্রকৃতিরও একটা যোগ রয়েছে, যে বিষয়ে হয়তো অনেকেই জানেন না। হলুদ হল পজেটিভ এনার্জির প্রতীক। তাই তো আজকের দিনে দেবীমাকে খিচুড়ি, বোঁদে এবং কমলা ভোগ প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করা হয়। আর একবার খেয়াল করে দেখুন তিনটি খাবারের রংই কিন্তু হলুদ।

২. সমৃদ্ধির রং:

২. সমৃদ্ধির রং:

হলুদ রং-এর অর্থ হল "পজেটিভিটি", "পার্টিসিপেশন" এবং "পিওরিটি"। অর্থাৎ আজকের দিনে সবাই মিলে হাতে হাত মিলিয়ে শুদ্ধ মনে জ্ঞানের চর্চা করে থাকেন। আর তাই তো সরস্বতী পুজোর দিন হলুদ রঙের কোনও বকল্প হয় না বললেই চলে। সেই কারণেই তো আজ হলুদ রঙের ডেউয়ে ভেসে যাই আমরা।

৩. বড়ই শুভ দিন:

৩. বড়ই শুভ দিন:

পন্ডিত মানুষেরা এমনটা মনে করেন যে বছরের এই দিনটা যে কোনও শুভ কাজ শুরু করার জন্য খুবই ভাল দিন। বিশেষত নতুন কোনও কাজ যদি আজকের দিনে শুরু করা যায়, তাহলে দারুন ফল পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, আজকের দিনটি গৃহ প্রবেশের জন্যও খুব ভাল দিন। আর তাই তো সরস্বতী পুজোর দিন হলুদ রঙের বস্ত্র পড়লে আমাদের জীবনে আরও সুখ এবং সমৃদ্ধির প্রবেশ ঘটে, কাটেদুঃখের অন্ধকার।

৪. স্ট্রেস কমে:

৪. স্ট্রেস কমে:

বসন্তকাল এমনিতেই প্রেম এবং আনন্দের কাল। তার উপর স্বরস্বতী পুজো মানেই বাতাসে আনন্দ আনন্দ একটা গন্ধ তো থাকেই। তার উপর হলুদ রং আমাদের মনের উপর পজেটিভ প্রভাব ফেলে। ফলে স্ট্রেস এবং মানসিক চাপ কমতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, বাস্তুশাস্ত্রেও এই বিষয়টির উল্লেখ পাওয়া যায়। একাধিক বইয়ে এমনটা লেখা আছে যে হলুদ রং আমাদের মনের হারিয়ে যাওয়া ভারসাম্যকে ফিরিয়ে আনে। ফলে মানসিক চাপ কমতে একেবারেই সময় লাগে না।

৫.শস্য-শ্যামলা ভারতবর্ষ:

৫.শস্য-শ্যামলা ভারতবর্ষ:

আজ যে শুধু সরস্বতী দেবীর জন্মদিন, তা নয়। আজ উত্তর ভারতের মানুষেরাও উৎসব পালন করেন। কারণ বছরের এই সময় জমির পর জমি সরষে ফুলে ভরে যায়। চারিদিক ছেয়ে যায় হলুদ রঙে, যে রঙের ছোঁয়া সুদূর পাঞ্জাব থেকে এসে ছুঁয়ে যায় আম বাঙালির মনেও।

৬. আজকের দিন হল শুরু দিন:

৬. আজকের দিন হল শুরু দিন:

বসন্ত মানে শীতের শেষ। আর তার মানেই গাছে গাছে নতুন পাতা এবং ফুল। সেই সঙ্গে মেঘের চাদর সরিয়ে সূর্যের আগমন। আর সূর্যের রং কী বন্ধুরা? হলুদ! এবার বুঝেছেন তো স্বরস্বতী পুজোর দিন হলুদের এত গুরুত্ব কেন। আসলে আজ শুধু জ্ঞানের আরধনা হয় না, বসন্তের জয়গানও গাওয়া হয় এবং সেই সঙ্গে প্রাণের আগমনকে শুভেচ্ছা জানায় সারা দুনিয়া।

৭.আশার মশাল জ্বলে ওঠে:

৭.আশার মশাল জ্বলে ওঠে:

বাস্তু মতে হলুদ হল আশার প্রতীক। আর জ্ঞানের চর্চা মানেই তো আশা, এই আশা উন্নতির, এই আশা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের। তাই আজকের দিনে হলুদ রঙের কোনও বিকল্প হতে পারে বলে তো মনে হয় না। প্রসঙ্গত, হলুদ রংকে সামনে রাখলে শরীরের পজেটিভ প্রভাব পরে। ফলে রোগ ভোগের আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

X
Desktop Bottom Promotion