দেবী জগদ্ধাত্রীর বাহনের পায়ের কাছে কেন থাকে হস্তিমুণ্ড? জানুন এর আসল কারণ

মা দুর্গার অপর রুপ হলেন দেবী জগদ্ধাত্রী। শাস্ত্রমতে, প্রতি বছর কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে এই পুজো হয়ে থাকে। অনেকে সপ্তমী থেকে নবমী অবধি দুর্গাপূজার ধাঁচে জগদ্ধাত্রী পূজা করেন। আবার কেউ কেউ নবমীর দিনই তিন বার পূজার আয়োজন করে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পূজা সম্পন্ন করেন।

অষ্টাদশ শতকে নদীয়া রাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় তার রাজধানী কৃষ্ণনগরে এই পূজার প্রচলন করার পর এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চন্দননগর, গুপ্তিপাড়া ও নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী উৎসব জগৎ বিখ্যাত। বহু মানুষ জগদ্ধাত্রী পুজোর শোভা দেখতে ভিড় করেন কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরে।

Jagadhatri Puja : Mythological Stories Associated With This Festival

জগদ্ধাত্রী দেবী ত্রিনয়না, চতুর্ভূজা ও সিংহবাহিনী। তাঁর দুই বাম হাতে শঙ্খ ও শার্ঙ্গধনু এবং দুই ডান হাতে চক্র ও পঞ্চবাণ। গলায় নাগযজ্ঞোপবীত। বাহন সিংহ করীন্দ্রাসুর অর্থাৎ হস্তীরূপী অসুরের পৃষ্ঠে দণ্ডায়মান। সংস্কৃতে হাতির একটি নাম করী, সেই অনুসারে হস্তীরূপী অসুরের নাম করীন্দ্রাসুর। আর সেই অসুরকে বধ করেছিলেন বলে দেবী জগদ্ধাত্রীর অপর নাম করীন্দ্রাসুরনিসূদিনী।

পুরাণ মতে, মহিষাসুর বধের পর দেবতারা আনন্দ উৎসবে মত্ত হয়ে ওঠেন। তাঁর মনে করেছিলেন যে, দেবী দুর্গা অসুরকে বধ করলেও যেহেতু তিনি দেবতাদেরই সম্মিলিত শক্তির প্রকাশ, তাই অসুরকে বধ করার কৃতিত্ব তাঁদের। দেবতাদের এমন আচরণ দেখে দেবী তাঁদের শক্তি পরীক্ষা করতে একটি তৃণখণ্ড ছুড়ে দেন। দেবরাজ ইন্দ্র, বায়ু, অগ্নি ও বরুণদেব কেউই পারেননি সেই টুকরোকে নষ্ট করতে। দেবতাদের এই অবস্থা দেখে তাঁদের সামনে আবির্ভূতা হন পরমাসুন্দরী এক চতুর্ভুজা দেবী, তিনিই হলেন জগদ্ধাত্রী।

শ্রীশ্রীচণ্ডীতে প্রথম সুস্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায় যে, দেবী জগদ্ধাত্রী হলেন মা দুর্গারই অন্য রুপ। বলা আছে, মহিষাসুরের সঙ্গে দেবী দুর্গার যুদ্ধের সময় মহিষাসুর নানা মায়ারুপ ধরে দেবীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এমন সময় মহিষাসুর ধারণ করেন হস্তীরুপ। দেবী তখন চতুর্ভুজা মূর্তির রূপ ধারণ করে চক্র দিয়ে ছেদন করেন হাতির শুঁড়। দেবীর ওই রূপটিই আসলে জগদ্ধাত্রী। সেই জন্যই দেবী জগদ্ধাত্রীর বাহন সিংহ এক মৃত হস্তীর উপর দাঁড়িয়ে।

X
Desktop Bottom Promotion