Jagadhatri Puja 2021 : সামনেই জগদ্ধাত্রী পুজো, জেনে নিন পুজোর তারিখ ও সময়

দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো ও কালীপুজোর পর আপামর বাঙালি অপেক্ষা করে থাকে জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য। কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এটি মূলত হিন্দু বাঙালিদের একটি জনপ্রিয় উৎসব। জগতের ধাত্রী অর্থাৎ জগতের পালিকা দেবী জগদ্ধাত্রী। দেবী দুর্গার আর এক রূপ হল জগদ্ধাত্রী। দেবী দুর্গা যেমন সিংহবাহিনী দশভুজা, দেবী জগদ্ধাত্রী তেমন সিংহবাহিনী চতুর্ভুজা। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চন্দননগর, গুপ্তিপাড়া ও নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী উৎসব জগৎ বিখ্যাত। আসুন জেনে নেওয়া যাক, ২০২১ সালের জগদ্ধাত্রী পূজার নির্ঘণ্ট ও সময়সূচি।

Jagadhatri Puja 2021 : Date, Puja Muhurat And Significance

২০২১ সালের জগদ্ধাত্রী পূজার দিনক্ষণ

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে

অষ্টমী তিথি আরম্ভ - ১১ নভেম্বর, বাংলার ২৫ কার্তিক, বৃহস্পতিবার।

সময় - সকাল ৬টা ৫১ মিনিট।

অষ্টমী তিথি শেষ ও নবমী তিথি আরম্ভ - ১২ নভেম্বর, বাংলার ২৬ কার্তিক, শুক্রবার।

সময় - সকাল ৫টা ৫৫ মিনিট। নবমী শুরু সকাল ৫টা ৫৬ মিনিটে।

নবমী তিথি শেষ ও দশমী তিথি আরম্ভ - ১৩ নভেম্বর, বাংলার ২৭ কার্তিক, শনিবার।

সময় - সকাল ৫টা ৫৪ মিনিট। দশমী তিথি শুরু সকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে।

দশমী তিথি শেষ - ১৪ নভেম্বর, বাংলার ২৮ কার্তিক, রবিবার।

সময় - সকাল ৫টা ৫৫ মিনিট।

গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে

অষ্টমী তিথি আরম্ভ - ১১ নভেম্বর, বাংলার ২৪ কার্তিক, বৃহস্পতিবার।

সময় - বেলা ১২টা ০১ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড।

অষ্টমী তিথি শেষ ও নবমী তিথি শুরু - ১২ নভেম্বর, বাংলার ২৫ কার্তিক, শুক্রবার।

সময় - সকাল ১০টা ৩৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড। নবমী তিথি শুরু সকাল ১০টা ৩৪ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে।

নবমী তিথি শেষ ও দশমী তিথি শুরু - ১৩ নভেম্বর, বাংলার ২৬ কার্তিক, শনিবার।

সময় - সকাল ৯টা ৩১ মিনিট ১১ সেকেন্ড। দশমী তিথি শুরু সকাল ৯টা ৩১ মিনিট ১২ সেকেন্ড থেকে।

দশমী তিথি শেষ - ১৪ নভেম্বর, বাংলার ২৭ কার্তিক, রবিবার।

সময় - সকাল ৮টা ৫৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড।

আরও পড়ুন : দেবী জগদ্ধাত্রীর বাহন সিংহের পায়ের কাছে কেন থাকে হস্তিমুণ্ড? জানুন এর আসল কারণ

সাধারণত দু'টি প্রথায় দেবী জগদ্ধাত্রীর পূজা করা হয়ে থাকে। কেউ কেউ সপ্তমী থেকে নবমী অবধি দুর্গাপূজার ধাঁচে জগদ্ধাত্রী পূজা করেন। আবার কেউ কেউ নবমীর দিনই তিন বার পূজার আয়োজন করে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পূজা সম্পন্ন করেন।কোথাও কোথাও প্রথম বা দ্বিতীয় পূজার পর কুমারী পূজারও আয়োজন করা হয়। এই পূজার অনেক প্রথাই দুর্গাপূজার অনুরূপ।এমনকি পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণাম মন্ত্রসহ পূজার অনেক মন্ত্রও দুর্গাপূজার অনুরূপ।

জগদ্ধাত্রী পূজার কাহিনী

পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, মহিষাসুর বধের পর দেবতারা আনন্দ উৎসবে মত্ত ছিলেন। দেবী দুর্গা অসুরকে বধ করলেও যেহেতু তিনি দেবতাদের সম্মিলিত শক্তিরই প্রকাশ, তাই দেবতারা মনে করেছিলেন যে এই কৃতিত্ব তাঁদের। দেবতাদের এমন আচরণ দেখে দেবী তাঁদের সামনে একটা ঘাসের টুকরো রাখেন। দেবরাজ ইন্দ্র, বায়ু, অগ্নি ও বরুণদেব কেউই পারেননি সেই টুকরোকে নষ্ট করতে। এই সময় দেবতাদের সামনে আবির্ভূতা হন পরমাসুন্দরী এক চতুর্ভুজা মূর্তি, তিনিই হলেন জগদ্ধাত্রী। এরপর দেবতাদের ভুল ভাঙে এবং তাঁরা দেবী জগদ্ধাত্রীকে সকল শক্তির শ্রেষ্ঠ বলে গ্রহণ করেন।

অষ্টাদশ শতকে নদীয়া রাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় তার রাজধানী কৃষ্ণনগরে এই পূজার প্রচলন করার পর এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। রাজবাড়ির পুজো দেখে হুগলী জেলার ইন্দ্রনারায়ণ, চন্দননগরের লক্ষ্মীগঞ্জ চাউলপট্টির নিচুপাটিতে এই পুজোর প্রচলন করেন।

X
Desktop Bottom Promotion